ট্রেন থেকে যাত্রীদের সব ব্যাগ নিয়ে গেল বিজিবি
কলকাতা থেকে ঢাকাগামী মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনটি মঙ্গলবার বেলা ২টা ৩৪ মিনিটে ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনে থামার পর আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়ে থাকা কুষ্টিয়া মিরপুর সেক্টরের একদল বিজিবি সদস্য ট্রেনে তল্লাশি শুরু করেন। প্রায় ২০ মিনিট তল্লাশি করে তারা যাত্রীদের আনুমানিক ১০ লাখ টাকার মালামাল ভর্তি ১৮/২০টি ব্যাগ কোনো প্রকার পরীক্ষা নিরীক্ষা ও জব্দ তালিকা ছাড়াই জনতার তোপের মুখে পড়েন। এসময় তারা ৩ রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়।
ট্রেনটি তল্লাশির কারণে ১৫ মিনিট বিলম্ব হয়। পরে ২টা ৫৯ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ঈশ্বরদী জিআরপি থানা পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, রেলওয়ে কর্মচারি, ট্রেন যাত্রী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দেয়া তথ্য সূত্রে এসব জানা গেছে।
সূত্র মতে, ট্রেনটি পানি নেয়ার জন্য ঈশ্বরদী জংশন স্টেশনে থামার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীরা কোচের দরজা খুলে দেন। এ সুযোগে প্লাটফর্মে অবস্থানরত বিজিবি সদস্যরা প্রথম শ্রেণির কোচ থেকে শুরু করে বিভিন্ন কোচে তল্লাশি করে যাত্রীদের ব্যাগ বের করে বিজিবির গাড়িতে উঠাতে থাকে। এসময় স্থানীয় জনতা বিজিবির উপর ক্ষিপ্ত হয়ে আক্রমণের চেষ্টা করলে বিজিবির সদস্যরা তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে গাড়ি নিয়ে চলে যায়।
তখন উত্তেজিত জনতা ট্রেনটি ছাড়তে বাধার সৃষ্টি করে। তাই ট্রেন ছাড়তে পনেরো মিনিট বিলম্ব হয়।
কোচ ডি-১/৬ আসনের ঢাকাগামী যাত্রী আলাল, শওকত খান, মানিক, কোলকাতার বাসিন্দা মেনোতারাসহ প্রমুখ যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, আমাদের ব্যবহার করার জন্য কেনা কাপড়, কসমেটিকস ও ভিডিও ক্যামেরাসহ বিভিন্ন প্রকার মালামাল বিজিবির সদস্যরা কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই জোরপূর্বক নামিয়ে নেয়।
ঈশ্বরদী রেলওয়ে জিআরপি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ূন কবীর জাগো নিউজকে জানান, জিআরপির সদস্যরা নিয়ম মাফিক মৈত্রী ট্রেনের পাসিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন। বিজিবির তল্লাশি সম্পর্কে আমাদের সহযোগিতা চাওয়া হয়নি। এমনকি তারা এই ট্রেনের তল্লাশি করবে সে বিষয়েও জিআরপি থানা পুলিশ বা কাউকে জানানো হয়নি।
উল্লেখ্য, এর আগেও দুইবার একই সেক্টরের বিজিবি সদস্যরা প্রায় তিন কোটি টাকার মালামাল এভাবে নিয়ে গিয়েছিল। সে সময়ও স্থানীয় জনতার সঙ্গে মারপিট ও গুলি বিনিময় হয়। এবং একজন বিজিবি সদস্যসহ সাতজন আহতের ঘটনা ঘটেছিল।
এমজেড/এমএএস/আরআইপি