পরিত্যক্ত ব্রিজের উপর চলছে পাঠদান
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুরে অবস্থিত মোহাম্মাদ (সঃ) নুরানি হাফেজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে একটি পরিত্যক্ত ব্রিজের উপর। এতে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা এলাকাবাসীর।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সখিপুর বাজার-তারাবুনিয়া সড়কে হাজী ঈমান আলী মোল্যাকান্দি গ্রামে অবস্থিত এ মাদরাসাটি হাজি শরীয়তউল্লাহ্ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক মুয়াজ্জেম হোসেন এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ২০১১ সালে ১০ শতাংশ জমির উপর প্রতিষ্ঠা করেন। মাদরাসা ও এতিমখানাটি ৬৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে এখানে ১৪ জন শিক্ষক ৩৫০ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করছেন। এর মধ্যে ৫০জন শিক্ষার্থী পরিত্যক্ত ওই ব্রিজের উপর স্থাপিত নুরানি হেফজখানায় পড়ছে। সেখানে তাদের খাবার ঘরও রয়েছে।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পনের বছর আগে ব্রিজটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু ব্রিজটির উপর মোহাম্মাদ (সঃ) নুরানি হাফেজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার পরিচালনাকারীরা নুরানি হেফজখানার ঘর তৈরি করেছেন। 
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, যে কোনো সময় ব্রিজটি ধসে পড়তে পারে। ঘটতে পারে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা।
নুরানি হেফজখানার শিক্ষার্থী এনামুল হোসেন, আমান উল্লাহ্ ও শাহপরান জানায়, তারা ব্রিজের উপর পড়াশুনা করে ও খাবার খায়।
মোহাম্মাদ (সঃ) নুরানি হাফেজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার সুপার মাওলানা সাইফুল্লাহ্ আল হাবিবী বলেন, শিক্ষার্থী বেশি হওয়ায় জায়গা হয় না। তাই ভেদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের অনুমতি নিয়ে ব্রিজের উপর নুরানি হেফজখানাটি করেছি।
মোহাম্মাদ (সঃ) নুরানি হাফেজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার প্রতিষ্ঠাতা মুয়াজ্জেম হোসেন বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থীদের যায়গা না হওয়ায় ব্রিজটির উপর নুরানি বিভাগের হেফজখানাটি করা হয়েছে। আমরা মাদরাসার জন্য খুব শিগগিরই অন্য একটি ঘর তৈরি করবো। পরে হেফজখানাটি সরিয়ে নেব।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা (এলজিইডি) প্রকৌশলী আকতার হোসেন বলেন, আশির দশকে গ্রামবাসীর চলাচলের জন্য এ ব্রিজটি করা হয়েছিল। চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় ২০০২ সালে ব্রিজটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।পরে পরিত্যক্ত ব্রিজটির পাশে যাতায়াতের জন্য নতুন করে আরেকটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে দেখলাম পরিত্যক্ত ব্রিজটির উপর মাদরাসা করা হয়েছে। আমি এ বিষয়ে নিয়ে স্থানীয় লোকজন ও চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলবো।
ছগির হোসেন/আরএআর/এমএস