হারিয়ে গেছে ঢেঁকি
আধানুকিতার ছোঁয়ায় বদলে গেছে মানুষের জীবনযাত্রা। হারিয়ে গেছে অনেক গ্রামীণ ঐতিহ্য। এক সময় গ্রাম বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে ঢেঁকির প্রচলন দেখা যেতো। পিঠা পায়েশ তৈরির জন্য গ্রামের বধূরা ঢেঁকিতেই চাল গুড়া করতো। তৈরি করতো সুস্বাদু পিঠা। কিন্তু বর্তমানে এখন অনুসন্ধান চালিয়েও গ্রামের কোনো বাড়িতে ঢেঁকির সন্ধান মেলে না। দুই একটি পাওয়া গেলেও তার ব্যবহার এখন হয় না বললেই চলে।
এক সময় ঢেঁকির প্রচুর ব্যবহার ছিল জানিয়ে দেবহাটা উপজেলার দেবাশীষ সরকার জাগো নিউজকে জানান, ঢেঁকির ব্যবহার এখন শুধু গল্প কাহিনী আর নামেই সীমাবদ্ধ। এর ব্যবহার এখন আর খুব একটা দেখা যায় না। ধান ভানা, হলুদের গুড়া, চাউলের গুড়া ও চিড়া তৈরিসহ নানান কাজে ঢেঁকির ব্যবহার হতো।
আধুনিক কারখানা তৈরির সঙ্গে সঙ্গে ঢেঁকির প্রচলন হারিয়েছে উল্লেখ করে পাটকেলঘাটার বাইগুনি এলাকার অমিত কুমার বলেন, আধুনিকতার ছোয়ায় বদলে গেছে মানুষের জীবন মান। সহজলভ্য হয়েছে চলমান জীবনের কার্যক্রমের গতিধারা। অনেক কষ্ট করে গ্রামের বধূদের ধান ভানতে হতো। তাছাড়া চাল থেকে গুড়া তৈরি করতে হতো। যা অনেকটা কষ্টসাধ্য ছিল। কিন্তু এখন কারখানার মাধ্যমে খুব সহজেই চাল থেকে গুড়া তৈরি করা যায়।
তবে ঢেঁকির মাধ্যমে তৈরি চালের গুড়ার পিঠা অনেক সুস্বাদু হয় জানিয়ে তালার শিবপুর গ্রামের প্রবীণ আব্দুর রহমান জানান, মেশিনের মাধ্যমে চাল গুড়া করা খুব সহজ। তবে এ গুড়া দিয়ে পিঠা-পুলি তৈরি করলে ততটা সুস্বাদু হয় না যতটা ঢেঁকিতে চাল গুড়া করলে হয়।
এ ঢেঁকির ব্যবহারকে কেন্দ্র করে আবার অনেকের কিছু রোজগারও হতো বলে জানা যায়। গ্রামে যার বাড়িতে ঢেঁকি থাকত না সে অন্যের বাড়িতে গিয়ে ঢেঁকি ব্যবহার করতে চাইলে প্রতি কেজি চাল গুড়া করতে দুই টাকা করে দিতে হতো। তবে এটিকে সবাই স্বাভাবিক ভাবেই দেখতেন। বর্তমান প্রজন্মের কাছে যা এখন শুধুই গল্প আর কল্পকাহিনী।
আকরামুল ইসলাম/এফএ/এমএস