এমপি মোকতাদির আ.লীগে গ্রুপিং করেন : মৎস্যমন্ত্রী
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী আওয়ামী লীগে গ্রুপিং করেন বলে অভিযোগ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট ছায়েদুল হক।
তিনি বলেন, আমি আওয়ামী লীগে গ্রুপিং করছি না, মোকতাদির গ্রুপিং করেন। আমি নেত্রীকে বলেছি, আওয়ামী লীগে যে তার (মোকতাদির চৌধুরী) ভক্ত তিনি তাকে কাছে রাখেন। আর যে তার ভক্ত না তাকে আওয়ামী লীগ থেকে বাদ দিয়ে মামলা দেন।
রোববার দুপুর ২টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় নবনির্মিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্রের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
মৎস্যমন্ত্রী বলেন, নবনির্মিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বিষয়টি তাকে (মোকতাদির চৌধুরী) অফিসিয়ালি জানানো হয়েছে। নেত্রী (প্রধানমন্ত্রী) আমাকে বলার পর আমি বলেছি যে, কোনো দাওয়াত কার্ড করিনি।
মন্ত্রী ছায়েদুল হক বিজয়নগর উপজেলা তার সৃষ্টি দাবি করে আরও বলেন, বিজয়নগরের বুধন্তি, চান্দুরা ও হরষপুর ইউনিয়ন আমার নির্বাচনী এলাকায় ছিল। আমার প্রচেষ্টায় বিজয়নগর উপজেলা সৃষ্টি হয়েছে।
পরে মন্ত্রী প্রাণিসম্পদ হাসপাতাল উদ্বোধন করে চলে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধরা একাধিক ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. আইনুল হক, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক রেজওয়ানুর রহমান, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আক্তার উন নিছা শিউলি প্রমুখ।
এর আগে দুপুর পৌনে ১টায় মন্ত্রী ছায়েদুল হক বিজয়নগরে আসার সময় চান্দুরা এলাকায় তাকে লক্ষ্য করে জুতা প্রদর্শন করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এসময় তাদের ছোঁড়া ইটের আঘাতে আহত হন জেলার নবীনগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইমতিয়াজ আহম্মেদ। পরে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দুপুর ১টার দিকে মন্ত্রী ফিতা কেটে প্রাণিসম্পদ হাসপাতালের উদ্বোধন করেন।
উল্লেখ্য, বিজয়নগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতাল উদ্বোধন অনুষ্ঠানের বিষয়ে স্থানীয় সাংসদ র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীকে কিছু না জানানোয় গত বৃস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করে অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণা দেন বিজয়নগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তানভীর ভূইয়া ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম ভূইয়া। পরে মন্ত্রীর অনুষ্ঠান ঠেকাতে রোববার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডাকে বিজয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠন। মন্ত্রীর অনুষ্ঠান নিয়ে উত্তেজনা দেখা দেয়ায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় বিজয়নগর, সদর, আশুগঞ্জ ও সরাইল উপজেলায় ১৪৪ ধারা জারি করে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন।
মন্ত্রীর এ আগমনকে কেন্দ্র করে রোববার বিজয়নগরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়। সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ অবস্থান নেয়। এছাড়া র্যা ব ও বিজিবি সদস্যরা উপজেলা সদরে টহল দেন।
আজিজুল সঞ্চয়/আরএআার/পিআর