সাময়িক বন্ধের পর না.গঞ্জের কয়েকটি রুটে লঞ্চ চালু
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় লঞ্চ টার্মিনাল থেকে চলাচলকারী সাতটি রুটে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল সাময়িক বন্ধ ছিল। নিষেধাজ্ঞা কেটে যাওয়ার পরই কয়েকটি রুটে লঞ্চ চলাচল শুরু হয়।
সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত লঞ্চ চলাচল সাময়িক বন্ধ থাকার পর বিকেল থেকে কয়েকটি রুটে লঞ্চ চলাচল শুরু হয়। তবে ছোট আকারের লঞ্চগুলোর চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়া অন্যান্য দিনের তুলনায় যাত্রীও ছিল অনেক কম। যে কারণে লঞ্চও ছেড়েছে কয়েকটি।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ থেকে ৭টি রুটে ৭০টির মতো লঞ্চ চলাচল করে। নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সিগঞ্জ রুটে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা ৬-৭ টা পর্যন্ত ২০ মিনিট পর পর লঞ্চ ছেড়ে যায়।
এই রুটে ২৫টি লঞ্চ চলাচল করে। নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুর রুটে ১৫টি, মতলব-মাছুয়াখালী রুটে ১৯টি, হোমনা-রামচন্দ্রপুর ১টি, ওয়াবদা, সুরেশ্বর-নরিয়া (শরিয়তপুর) কয়েকটি লঞ্চ চলাচল করে।
বাংলাদেশ লঞ্চ মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি বদিউজ্জামান বাদল জানিয়েছেন, নারায়ণগঞ্জের কেন্দ্রীয় লঞ্চঘাট থেকে চাঁদপুর, শরীয়তপুর, মুন্সিগঞ্জসহ সাতটি রুটে মোট ৭০টি লঞ্চ নিয়মিত চলাচল করে।
তিনি বলেন, সকালে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া দেখা দেয়ায় ৬৫ ফুটের ওপরের লঞ্চগুলো চলাচল করেছে। তবে শীতলক্ষ্যায় লঞ্চ চলাচলের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে কচুরিপানা। কচুরিপানার কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। বিশেষ করে ছোট আকারের লঞ্চগুলো কচুরিপানা এড়াতে গিয়ে প্রায়ই মুখোমুখি হওয়ার উপক্রম দেখা দিচ্ছে। তার ওপরে শীতলক্ষ্যায় এলোপাতাড়ি বড় আকারের পণ্যবাহী জাহাজগুলো নোঙর করে রাখায় শীতলক্ষ্যার চ্যানেল ছোট হয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে।
বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের ট্রাফিক বিভাগের সহকারী পরিচালক বাবু লাল বৈদ্য বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সকাল থেকে দুপুর সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ থেকে ৭টি রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ ছিল।
তবে সকাল ৯টার পর আবহাওয়ার সামান্য উন্নতি হলে চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে একটি লঞ্চ ছেড়ে গেলেও এরপর আবহাওয়ার অবনতি হওয়ায় তা আবারও বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
দুপুর ১২টার পরে চাঁদপুর, ওয়াপদা ও মতলবের উদ্দেশ্যে কয়েকটি লঞ্চ ছেড়ে গেছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় শুধুমাত্র ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশে ৬৫ ফুটের উপরের লঞ্চ চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য দিনের তুলনায় যাত্রী যেমন কম ছিল তেমনি লঞ্চও কম ছেড়েছে।
মো: শাহাদাত হোসেন/এএম/আরআইপি