ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বাগেরহাটে চিংড়ি ঘেরে মড়ক

প্রকাশিত: ০৬:১১ এএম, ২৭ এপ্রিল ২০১৭

বাগেরহাটে সাদাসোনা খ্যাত বাগদা চিংড়ি ঘেরে মড়ক দেখা দিয়েছে। ঘেরগুলোতে পানি কমে যাওয়া ও হঠাৎ বৃষ্টিতে বাগেরহাট, মংলা, রামপাল, মোড়েলগঞ্জসহ বিস্তির্ণ এলাকায় চিংড়ি ঘেরের মাছ মরে গেছে।

ভাইরাস না অন্য কোনো রোগে আক্রান্ত হয়ে চিংড়ি মারা যাচ্ছে তা জানেন না কৃষক। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সব শেষ জেলার হাজারো কৃষকের। এ বিষয়ে জেলা মৎস্য বিভাগও নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছে না।

চিংড়ি চাষিরা বলছেন, জেলার মংলা-ঘষিয়াখালি নৌ চ্যানেলের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত বাগেরহাট-রামপাল সড়কের ডেমা ইউনিয়নের খেগড়াঘাট সংলগ্ন বিসনা নদীর শাখা হজির খাল। হজির খালের রয়েছে আরও বেশ কয়েকটি শাখা। আর এই শাখা খাল দিয়েই সদর উপজেলার ডেমা, বালিয়াডাংগা, হলদাহ্ মৌজা, কালিয়া, খেগড়াঘাটসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি প্রবাহিত হয়।

সরোজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বাগেরহাট-রামপাল সড়কের ডেমা ইউনিয়নের খেগড়াঘাট সংলগ্ন হজির ব্রিজের নিচের প্রবাহমান হজির খালে বাঁধ দিয়ে চিংড়ি ঘের করছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। প্রবাহমান এ খালটির রয়েছে বেশ কয়েকটি শাখা। যা দিয়ে ডেমা ইউনিয়নের বালিয়াডাংগা, হলদাহ্ মৌজা, কালিয়া, খেগড়াঘাটসহ বিভিন্ন এলাকায় জোয়ার-ভাটার পানি প্রবাহিত হয়। আর এই অঞ্চলের মৎস্য চাষি বিশেষ করে চিংড়ি চাষিরা হজির খালের পানির প্রবাহের উপরই নির্ভর করে।

ডেমা ইউনিয়নের খেগড়াঘাট সংলগ্ন হজির ব্রিজের নিচের একটি বাঁধ ছাড়াও খালের বিভিন্ন স্থানে এমন আরও অন্তত তিনটি বাঁধ দেয়া হয়েছে। প্রবাহমান হজির খালে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীদের নামে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষের কারণে প্রবাহ হারিয়ে হুমকির মুখে পড়েচ্ছে খালটি। আর এতেই আশপাশের ঘেরগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে পানি স্বল্পতা।

Bagerhat

তবে বাগেরহাটে অবস্থিত বাংলাদেশের একমাত্র চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এইচএম রাবিকুল ইসলাম বলেন, অধিকাংশ চাষিরা যে পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ করে তা অপরিকল্পিত। ঘের প্রস্তুতি থেকে শুরু করে নানা ধাপে তাদের সমস্যা বিদ্যমান থাকায় মৌসুমের শুরুতেই বাগদা চিংড়িতে মড়ক লেগেছে।

ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে চিংড়ি মারা যাচ্ছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে মারা যাওয়া চিংড়ির নমুনা সংগ্রহ করে পরিক্ষা-নিরিক্ষা কাজ শুরু হয়েছে। খুব শিগগিরই চিংড়ি মারা যাওয়ার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

চিংড়ি চাষি সমিতির দাবি জেলার অধিকাংশ উপজেলায় বাগদা ও গলদা চিংড়ির ঘেরে এখন এই অবস্থা। জেলা চিংড়ি চাষি সমিতির সভাপতি ফকির মহিতুল ইসলাম বলেন, বাগেরহাট সদর, রামপাল, মংলা ও মোরেলগঞ্জ উপজেলার অধিকাংশ ঘেরের বাগদা ও গলদা চিংড়িতে মড়ক লেগেছে। তবে বাগদা চিংড়ির ঘেরে মড়কটা সবচেয়ে বেশি।

বাগেরহাট মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. জিয়া হায়দার চৌধুরী জানান, এ বছর বাগেরহাট জেলার নয়টি উপজেলায় ৭০ হাজার ঘেরে চিংড়ির চাষ করা হয়েছে। জেলায় চিংড়ির বার্ষিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ২৭১ মেট্রিক টন।

তিনি জানান, প্রতি বছরের ন্যায় চিংড়ি খামারিরা ঘের প্রস্তুুত করে মাছ চাষ শুরু করে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ ঘেরেই মাছের সাইজও আকারে বেশ ভালোই হয়েছিল। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই মাছ ধরা শুরু হতো। এ অবস্থায় বেশ কিছু এলাকায় চিংড়ি ঘেরে মড়ক লাগার পর আমাদের কর্মকর্তারা চাষিদের ঘেরগুলো পরিদর্শন করেছে। চাষিদের সচেতন করতে নানা পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। চিংড়িতে মড়ক লাগার কারণ জানতে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।

চিংড়ি চাষি সরদার নাসির উদ্দিন বলেন, কয়েক বছর ধরে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বহরবুনিয়া এলাকায় প্রায় আড়াইশ বিঘা জমিতে তিনি চিংড়ি চাষ করছেন। চলতি বছরের ফাল্গুন মাসের শেষ দিকে ঘেরে নদী ও হ্যাচারির মিলিয়ে প্রায় পাঁচ লাখ পোনা ওই ঘেরে ছেড়েছেন। দেড় মাসে ঘেরের বাগদা চিংড়ি বেশ ভালই হয়েছিল। ৫/৬ দিন হলো হঠাৎ করে ঘেরে চিংড়ির কোনো খোঁজ নেই। পরে ঘেরের পানিতে নেমে হাজার হাজার মরা চিংড়ি দেখতে পাওয়া যায়।

তিনি আফসোস করে বলেন, আর এক মাস পরেই বাজারে এই চিংড়ি বিক্রি করা যেত।

ডেমা এলাকার চিংড়ি ঘের ব্যবসায়ী রাসেল হাওলাদার বলেন, প্রতিবছর ঘেরে রোগের কারণে কম বেশি চিংড়ি মরে থাকে। এ বছর তার সাড়ে ৭ বিভা ঘেরে বাগদা চিংড়ি চাষ করা হয়েছিল। ঘেরে এখন কোনো জীবিত চিংড়ি নেই। গত ৪ দিন আগে বৃষ্টি পড়ার পর মাছ মরে লাল হয়ে গেছে।

রাসেল আরও বলেন, ১৫ বছর ধরে তিনি ঘেরে চিংড়ি চাষ করছেন। খালের পানি না থাকায় ও বৃষ্টি হওয়ায় পানিতে অক্সিজেন কমে চিংড়ি মরে গেছে। খালের পানি প্রবাহ থাকলে ও ঘেরে নিয়মিত পানি প্রবেশ করলে এই অবস্থা হতো না।

এফএ/পিআর