লক্ষ্মীপুরে পানিতে পচছে দুইশ কোটি টাকার ফসল
অসময়ে টানা এক সপ্তাহের বৃষ্টিতে উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরে সয়াবিন, তরমুজ, মরিচ ও বাদামসহ বিভিন্ন রবি ফসলের প্রায় দুইশ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। মাঠের এসব ফসল এখন পানিতে ডুবে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। চোখের সামনে কষ্টার্জিত ফসল হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।
এ ক্ষতির ওপর ভিত্তি করে দ্রুত সরকারি সহায়তা দেয়ার দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা। এছাড়া সহজ শর্তে হয়রানিমুক্ত ঋণ বিতরণ দাবিও জানিয়েছেন তারা।
জেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে লক্ষ্মীপুরে ৯২ হাজার ৩৩৬ হেক্টর জমিতে সয়াবিন, মরিচ, তরমুজ, ফেলন, মুগ, চিনা বাদাম ও মিষ্টি আলুসহ বিভিন্ন রবি ফসলের আবাদ হয়। এরমধ্যে শুধু ৫০ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতেই সয়াবিন চাষ করা হয়। কিন্তু ইতোমধ্যে অর্ধেকের বেশি সয়াবিন পচে গেছে। জেলায় সয়াবিনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ টন। যার বাজার প্রায় সাড়ে তিনশ কোটি টাকা।
বৃষ্টিতে রামগতি, কমলনগর ও রায়পুরে সবচেয়ে বেশি সয়াবিন, মরিচ, বাদাম ও তরমুজ পচে গেছে। ১৯ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া সপ্তাহব্যাপী টানা বৃষ্টিতে একশ কোটিরও বেশি টাকার ক্ষতি হয়েছে। তবে বেসরকারি এক হিসেবে দেখা গেছে কৃষকের প্রায় দুইশ কোটি টাকার ফসলহানি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, লক্ষ্মীপুরে দেশের মোট উৎপাদনের প্রায় ৭০ ভাগ সয়াবিন হয়। এজন্য লক্ষ্মীপুরকে ‘সয়াবিনের রাজধানী’ও বলা হয়। দেশের প্রতিষ্ঠিত নামকরা কোম্পানিরা এখান থেকে সয়াবিন সংগ্রহ করে। এ সোনার ফসলকে ঘিরে উপকূলীয় চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান বদল ও গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হয়েছিল।
কমলনগর উপজেলার চরমার্টিন, চর কালকিনি, চরলরেঞ্চ, তোরাবগঞ্জ এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিভিন্ন ব্যাংক, এনজিও ও ধার-দেনা করে তারা সয়াবিন, মরিচ ও তরমুজের চাষ করেছেন। বৃষ্টি তাদের সব সর্বনাশ করে দিয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে ১৫-২০ দিন পর তারা সোনার ফসল ঘরে তুলতে পারতেন। 
কিছু আধা পাকা ফসল তুলতে পারলেও ভাপিয়ে সেগুলোতে পচন ধরেছে। অনেক খেতে ফসল পচে এখন দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এ অবস্থায় তারা সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন।
এ ব্যাপারে জেলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফোরামের সভাপতি ও জেলা কৃষক লীগের সভাপতি ওমর হোসাইন ভুলু বলেন, এ অঞ্চলে কৃষকরা বিভিন্ন এনজিও থেকে ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করে। বৃষ্টিতে এবার তাদের সব স্বপ্ন ছারখার হয়ে গেছে। এখন তারা চরম অর্থ সংকটে ভুগছে। তাদেরকে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি হয়রানিমুক্ত ঋণ বিতরণ করার দাবি করছি।
লক্ষ্মীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক গোলাম মোস্তফা জানান, কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণে জেলার ৫টি উপজেলার ৩৫ হাজার হেক্টর জমির সয়াবিনসহ বিভিন্ন ফসল পানিতে নষ্ট হয়। এতে একশ কোটিরও বেশি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ক্ষতি পুষিয়ে ওঠার জন্য কৃষকদের আউশ ধানসহ বিভিন্ন লাভজনক ফসল চাষ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সরকার পুর্নবাসনের ব্যবস্থা করলে ক্ষতিগ্রস্তরা উপকৃত হবে।
কাজল কায়েস/এফএ/এমএস