ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ব্যতিক্রমী এক স্কুল

প্রকাশিত: ০৭:২৫ এএম, ২৯ এপ্রিল ২০১৭

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ব্যতিক্রমী এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো বাইমহাটী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। গত ১৭ বছর ধরে বিদ্যালয়টির  শ্রেণিকক্ষে জুতা পায়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ নিষেধাজ্ঞা শুধু শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, বিদ্যালয়ে কর্মরত সকল শিক্ষক, পরিচালনা পরিষদের সদস্য, অভিভাবক ও পরিদর্শনে আসা অতিথিদের জন্যও।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০০ সাল থেকে জুতা ছাড়া কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ক্লাস করেন। বিদ্যালয়টিতে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৪৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষাসহ সব মৌসুমে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের সামনের সিঁড়িতে সারিবদ্ধভাবে জুতা রেখে ক্লাসে প্রবেশ করে। কেউ কারো জুতা নেয়া তো দূরের কথা সরিয়েও রাখে না। অবশ্য তীব্র ঠাণ্ডার সময় শিক্ষার্থীরা ক্লাস রুমে মোজা ব্যবহার করে থাকে।

ব্যতিক্রমী এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি ফলাফলেও অনেক ভালো। গত বছর শতভাগ পাসসহ ৩৩ জন শিক্ষার্থী সমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর আগে ২০০০ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত শতভাগ শিক্ষার্থী প্রথম স্থান লাভ করে। ২০০৭ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ৯৮ থেকে শতভাগ বৃত্তি এবং শতভাগ জিপিএ-৫ পেয়েছে। ফলাফলের দিক থেকে বিদ্যালয়টি এ উপজেলায় তো বটেই টাঙ্গাইল জেলাতেও কয়েকবার শ্রেষ্ঠ প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্বাচিত হয়েছে।

বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী হিমেল, ফাহিমা, ইস্তি, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাহাদ, মিম, রাফি এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাইশা, রিহা ও ফিজত বলে, জুতা রেখে ক্লাসে যাওয়ার মজাটাই আলাদা। কারণ ক্লাসে জুতার শব্দ হয় না। ধুলাবালি কম হয়। পরিবেশ ভালো থাকে। এতে সকলেই সুস্থ থাকতে পারি।

অভিভাবক আবু রায়হান সিদ্দিকী, মো. জসিম শিকদার বলেন, ধুলাবালিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এলার্জিজনিত সমস্যা দেখা দেয়। জুতা ছাড়া ক্লাসে যাওয়ার কারণে বিদ্যালয়ের পরিবেশ ভালো থাকার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা সুস্থ মনোভাব নিয়ে ক্লাস করতে পারছে।

শ্রেণিকক্ষে জুতা নিষিদ্ধ কেন জানতে চাইলে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষিক হোসনে আরা বেগম বলেন, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ নির্মল রাখার জন্যই গত ২০০০ সাল থেকে এ নিয়ম চালু করা হয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ শুধু ধুলাবালি মুক্তই থাকছে না, সেই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা রোগ বালাই মুক্তও থাকছে বলে তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক ও  পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমান মাস্টার বলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান গত বছর বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে এসে এ নিয়মের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।  এটি জাতীয় মডেল হওয়া উচিত বলে মন্ত্রী  মন্তব্য করেছেন বলে তিনি জানান।

এস এম এরশাদ/আরএআর/এমএস