মধু সংগ্রহে গিয়ে আর মৌচাকে ফিরছে না মৌমাছি
বৈশ্বিক উষ্ণতা, অপরিকল্পিত নগরায়ন, বন ধ্বংসের পাশাপাশি অধিক ফলনের আশায় ফসলে ব্যবহৃত বিষাক্ত কীটনাশকে মারা যাচ্ছে হাজার হাজার মৌমাছি।
বসন্তের এই সময়ে আম, লিচুসহ বিভিন্ন ফলের পরাগায়নসহ মধু সংগ্রহে গিয়ে আর মৌচাকে ফিরছে না খাদ্যশৃঙ্খলের অন্যতম ক্ষুদ্র প্রাণি মৌমাছি। এ নিয়ে বিস্মিত সচেতন মহল। আর মৌমাছি কমে গেলে কৃষিক্ষেত্রে চরম বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছে বিশেষজ্ঞরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ওষুধ বিক্রেতা বলেন, আম-লিচুসহ বিভিন্ন ফলের মুকুলে বিষাক্ত কীটনাশক ক্যারাটে, নাজেব এমামেকটিন, ল্যামডা সাই হ্যালোজিন এবং আরও বেশ কিছু নিষিদ্ধ বিভিন্ন ওষুধ ব্যবহার করা হয়। সাধারণত আমের মুকুল, লিচুর মুকুলসহ বিভিন্ন ধরনের ফলের মুকুল আসার সময় এর বিক্রি বেড়ে যায়।
এ বিষয়ে পরিবেশবিদ মাসুদ আহম্মেদ সন্জু বলেন, যদি মৌমাছি হারিয়ে যায়, তবে আমাদের ফসল উৎপাদনে পরাগায়ন থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রাকৃতিক কাজ যা মৌমাছি করে থাকে তা আমাদের কৃত্রিমভাবে করতে হবে। এতে একদিকে যেমন বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ বাড়বে তেমনি অন্যদিকে পরিবেশের ভাারসম্য অবশ্যই নষ্ট হবে।
তিনি আরও বলেন, অধিকাংশ স্থানে বাগানগুলোতে মধু সংগ্রহে গিয়ে মারা যাচ্ছে মৌমাছি। এখানে দরকার ব্যাপক সচেতনাতা সৃষ্টি করা। আর সেই সঙ্গে দরকার সরকারি শক্ত পদক্ষেপ।
20170430213812.jpg)
মানবাধিকার কর্মী নাসরিন আকতার বলেন, আমরা মানুষের মানবাধিকার নিয়ে সোচ্চার। কিন্তু এই অতিপ্রয়োজনীয় ক্ষুদ্র প্রাণিটিকে যে কী নির্মমভাবে ইচ্ছেমতো হত্যা করা হচ্ছে তার দিকে করোই কোনো খেয়াল নেই। বিষাক্ত কীটনাশকে বায়ু দূষণ যতই বাড়ছে মৌমাছিদের খাদ্য খোঁজার ক্ষমতা ততই খর্ব হচ্ছে। ফলে দেশজুড়ে খাদ্য ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
ঝিনাইদহ সরকারি কেশবচন্দ্র মহাবিদ্যালয় কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক মো. রহমত আলী বলেন, শুধু পরাগায়ন আর মধু জমানো নয় মৌমাছি কিছু গাছ-পালা নতুন করে জন্মাতে সাহায্য করে, এক্ষেত্রে মৌমাছি না থাকলে ওসব গাছ-পালা জন্মানো কমে যাবে।
এতে করে যেসব প্রাণি ওসব গাছ-পালা থেকে সরাসরি উপকৃত হয় এবং বেঁচে থাকতে ওসব গাছ-পালা খেয়ে থাকে, তারা খাদ্য অভাবে মারা যাবে। ফলে খাদ্য শৃঙ্খল ও জীববৈচিত্র্যের ভয়ঙ্কর প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করেছেন তিনি।
ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক শাহ মো. আকরামুল হক বলেন, কীটপতঙ্গ যখন ফুল থেকে ফুলে ওড়াউড়ি করে তখন নিজের অজান্তে পরাগায়নের কাজটি করে যায়। আবার মরে যাওয়া গাছ, ঝরে পড়া পাতা, ফুল-ফল মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়ে মাটির পুষ্টি ফিরিয়ে দিতেও সাহায্য করে কীটপতঙ্গ। কোনো কোনো মানুষের জন্য খাদ্য ও বসতি তৈরির কাজেও সাহায্য করে ওরা। মৌমাছি গড়ে তোলা মৌচাকের মধু, মোম, ওষুধসহ মানুষের নানা কাজে লাগে।
তিনি আরও বলেন, মৌমাছি সাধারণত দিনের আলোয় মধু সংগ্রহ করে। তাই আমরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর থেকে সকল কৃষক ভাইদের বলেছি, তারা যেন অবশ্যই বিকেলে ও সন্ধ্যায় গাছে বালাইনাশক বা বিভিন্ন ওষুধ স্প্রে করে। এতে করে দিনের আলোতে মৌমাছিরা মধু সংগ্রহে গিয়ে আবার মৌচাকে ফিরে আসতে পারবে।
আহমেদ নাসিম আনসারী/এএম/জেআইএম
আরও পড়ুন
সর্বশেষ - দেশজুড়ে
- ১ ঘোড়া প্রতীকে ভোট চেয়ে বিপাকে হবিগঞ্জের স্বতন্ত্র প্রার্থী সুজাত
- ২ সীমান্ত পার হওয়ার সময় কুমিল্লায় হত্যা মামলার তিন আসামি গ্রেফতার
- ৩ বালুভর্তি ট্রাকে লুকানো ছিল দেড় কোটি টাকার চোরাই শাড়ি
- ৪ পুলিশকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নেওয়া হলো আসামিকে
- ৫ ভবন ছাড়তে উকিল নোটিশ, চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও চলছে কার্যক্রম