বীরগঞ্জে স্কুলছাত্র অপহরণ : মাইক্রোবাসসহ চালক আটক
দিনাজপুরের বীরগঞ্জে স্কুলছাত্র অপহরণের অভিযোগে খোকন খান (২৭) নামে এক চালককে মাইক্রোবাসসহ আটক করেছে এলাকাবাসী।
এসময় বিক্ষুদ্ধ জনতার হামলায় অভিযুক্ত চালক এবং দায়িত্বপালনকালে পুলিশে এএসআই মশিউর রহমান আহত হয়েছেন। এসময় মাইক্রোবাসটি অগ্নিসংযোগের চেষ্টা চালায় তারা।
আটক চালক খোকন খান ঠাকুরগাঁও জেলার শহরের গোয়ালপাড়ার মো. আজিজ খানের ছেলে। শনিবার সকাল ১০টায় উপজেলা ভোগনগর ইউনিয়নের দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও সড়কের চকপাতলা নামকস্থানে এ ঘটনা ঘটে।
বীরগঞ্জ থানা পুলিশের এসআই হেলাল জানান, কৃষ্ণপুর ডাঙ্গাপাড়া সরকারি বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র ভোগনগনগর ইউনিয়নের চকপাতলা গ্রামের মো. ইদারফুল ইসলামের ছেলে মেহেদি হাসান (৫) এবং একই গ্রামের খুশিদুলের ছেলে আরাফাতসহ (৫) বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে একটি মাইক্রোবাস মেহেদি হাসানকে অপহরণ করে নিয়ে যাচ্ছে এমন অভিযোগে এলাকার লোকজন মাইক্রোবাসসহ চালককে আটক করে।
সংবাদ পেয়ে পুলিশ উপস্থিত হলে বিক্ষুদ্ধ জনতা পুলিশের উপর হামলা চালায়। এসময় এএসআই মশিউর রহমান গুরুতর আহত হয়েছেন।
অপহরণের অভিযোগ অস্বীকার করে চালক মো. খোকন খান জানান, দিনাজপুুর থেকে ঠাকুরগাঁও যাওয়ার পথে ঘটনাস্থলে একদল ছাত্র মাইক্রোবাসকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়ে মারে। এতে সামনের কাঁচ ভেঙ্গে যায়। আমি গাড়িটি ঘুড়িয়ে নিয়ে এসে তাদের ধাওয়া দিয়ে ছাত্ররা পালিয়ে যায়। এসময় দুইজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় বেশকিছু লোক আমার উপর অতর্কিত হামলা চালায়।
শিশু মেহেদি হাসান জানান, আমাকে জোড় করে গাড়িতে তোলার সময় আমি চিৎকার করে কান্না করতে থাকি। তখন লোকজন এসে আমাকে উদ্ধার করে। তবে গাড়িতে কেউ ঢিল ছুড়েছে কিনা এ বিষয় তার জানা নেই।
দুপুর ১২টায় বীরগঞ্জ থানা পুলিশের ওসি কেএম শওকত হোসেন এবং ভোগনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পরিস্থিতি শান্ত করেন।
বীরগঞ্জ থানা পুলিশের ওসি কেএম শওকত হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, চালক এবং মাইক্রোবাস পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের মাধ্যমে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এমদাদুল হক মিলন/এমএএস/আরআই