ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

আজও কাজের অপেক্ষায় রেললাইনে বসেছেন বৃদ্ধ খোকা মিয়া

প্রকাশিত: ১০:২৭ এএম, ০১ মে ২০১৭

পেটে খায় বাহে, কাজ না কইল্লে (করলে) কায় (কে) খোয়াইবে? কামলা (দিনমজুরি) দিয়ে হামাক (আমার) খাওয়া নাগে। কাজে না গেইলে উপায় নাই। হামার ভিতি কাও (কেউ) দেখে না। বুড়া হইছি বাহে হামাক কাহো কাজে নেয় না। ওইল্যা (মে) দিবস বুঝংক না (বুঝি না)। কাজে না গেইলে আজ খামু কী।

রংপুর রেল স্টেশনের দিনমজুরির হাটে বসে এভাবে কথাগুলো বলেছেন ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ খোকা মিয়া। সোমবার সকাল ৭টায় কয়েক জন বৃদ্ধ রংপুর রেল স্টেশনের মজুরির বাজারে বসে শ্রম বিক্রয়ের জন্য এসেছেন।

এভাবে কয়েক ঘণ্টা চলে যায়। কিন্তু তাদের কাজের নেয়ার জন্য কেউ আসে না। ঘড়ির কাটায় যখন সকাল ৯টা বেজে গেছে সবাই চলে গেছেন কিন্তু এক বৃদ্ধ নীরবে বসে ভাবছেন। তাহার চোখে মুখে যেন হতাশার ছাপ।

সকালে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ খোকা মিয়ার সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। জানা যায়, রংপুর মহানগরীর বাবু পাড়ার বাসিন্দা তিনি। স্ত্রীসহ দুই মেয়ে এক ছেলে নিয়ে তার সংসার।

May-day

মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন তিন বছর আগে। ছেলেকে বিয়ে করানোর পর থেকে স্ত্রীসহ তাকে আলাদা খেতে হয়। তাই প্রতিদিন কাজের সন্ধানে কাক ডাকা ভোরে এসে রংপুর রেল স্টেশনের শ্রম বিক্রয়ের বাজারে বসতে হয় তাকে। কোনো দিন কাজ জুটে আবার কোনো দিন জুটে না। কাজ না পেলে তার চুলাও জ্বলে না। এভাবে স্ত্রীকে নিয়ে কয়েক বছর ধরে কষ্টে জীবনযাপন করছেন বৃদ্ধ খোকা মিয়া।

রংপুরে শেখ পাড়ার শাহাজান আলী (৫৫) বলেন, প্রতিদিনই আমাদের দিন হাজিরা করতে হয়। তাই দিবস কী জিনিস বুঝি না। জায়গা জমি নাই, দিনমুজরি করে সংসার চালাই। এখন আর আগের মতো চলতে পারি না। তাই এই বয়সে কেউ কাজে নিতে চায় না। পেট বাঁচাতে কম টাকায় দিন হাজিরা করতে হয়।

রংপুর বালা চোড়া গ্রামের লুৎফর হোসেন বলেন, শ্রমিককে কে সাহায্য করেন। সরকারও দেখে না। দিন হাজিরা করে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পাই। সে টাকা দিয়ে কোনো মতে সংসার ও ছেলে মেয়েকে পড়াশোনা করাই।

রবিউল হাসান/এএম/পিআর

আরও পড়ুন