ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

২০ লাখ টাকার সরকারি গাছ সাড়ে ৩ লাখ টাকায় বিক্রি!

প্রকাশিত: ০৬:৫৪ এএম, ০৩ মে ২০১৭

গাইবান্ধা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা মূল্যের গাছ তিন লাখ ৬০ হাজার টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ফলে ন্যায্য মূল্য থেকে জেলা পরিষদ বঞ্চিত হয়েছে।

জেলা পরিষদ কার্যালয় সূত্র জানায়, গাইবান্ধা-সাঘাটা সড়ক প্রায় ৩৫ কি.মি. দৈর্ঘ্য সম্প্রসারণের কাজ হাতে নিয়েছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। এজন্য ওই সড়কের গাইবান্ধা সদর উপজেলার নশরৎপুর থেকে সাঘাটা বাজার পর্যন্ত ৭০টি গাছ কাটার জন্য গত ১৮ জানুয়ারি তিনটি গ্রুপে দরপত্র আহ্বান করা হয়। একটি গ্রুপের ২৭টি গাছের পুনঃদরপত্র আহ্বান করা হয়। অপর দুইটি গ্রুপের ৪৩টি গাছ তিন লাখ ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। এসকে তাসের আলী ও খুকুমনি এন্টার প্রাইজের স্বত্বাধিকারী লিটন কুশারী এই গাছগুলো কিনেছেন। গত ৬ এপ্রিল গাছ কাটার কার্যাদেশ দেয়া হয়। গত ২৮ এপ্রিল থেকে গাছ কাটা শুরু হয়েছে। বুধবার পর্যন্ত অর্ধেক গাছ কাটা হয়েছে।

Gaibandha

পিয়ারাপুর এলাকার কাঠ ব্যবসায়ী মাসুম বিল্লাহ ও করাতকল (স’মিল) মালিক আবু সাঈদ অভিযোগ করেন, এই ৪৩টি গাছের মধ্যে বেশিরভাগই বয়স্ক রেইন্ট্রি গাছ। এগুলোর মূল্য ২০ লাখ টাকার বেশি হবে। যাদের কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে তাদের কাছ থেকে আমি ১৫ লাখ টাকায় গাছগুলো কিনতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা দেয়নি। এখানে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ ক্রেতাদের সঙ্গে যোগসাজশে ২০ লাখ টাকার গাছ মাত্র তিন লাখ ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। ফলে জেলা পরিষদ প্রকৃত মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, গাইবান্ধা-সাঘাটা সড়কের দুইধারে অসংখ্য গাছের গুড়ি পড়ে আছে। এসব গাছ শেকড় পর্যন্ত তোলা হচ্ছে।

ওই সড়কে যাতায়াতকারী উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামের ব্যবসায়ী মো. মোস্তফা মিয়া (৩৫) সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করি। এসব গাছের বেশিরভাগই অনেক পুরনো এবং বয়স্ক। গাছের গুড়িগুলো দেখলেই বোঝা যায় এর মূল্য কত হবে। বয়স্ক প্রতিটি গাছের মূল্য ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা হবে।

Gaibandha

এ বিষয়ে গাইবান্ধা বন বিভাগের ফরেস্টার আবদুস সবুর বলেন, আমি কয়েকদিন আগে এখানে যোগদান করেছি। গাছ কাটার অনুমতির বিষয়ে আমি কিছু জানি না।

জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী সিদ্দিকুর রহমান মুঠোফোনে জাগোনিউজকে বলেন, যোগসাজশ করে কম মূল্যে গাছ বিক্রির অভিযোগ সঠিক নয়। দরপত্র আহ্বান করে গাছ বিক্রি করা হয়েছে। সর্বোচ্চ দরদাতাকে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে।

গাছ বিক্রির বিষয়ে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, প্রাক্কলনসহ সকল কিছু করে ইঞ্জিনিয়ার। আমি জেলা পরিষদের নতুন চেয়ারম্যান। এসব বিষয়ে আমার পূর্ণাঙ্গ ধারণা নেই।

আরএআর/পিআর