ক্রিকেটপ্রেমী এক কিশোর
ঘরের দেয়াল, আসবাবপত্র, দরজাসহ বিভিন্ন স্থানে আঠা দিয়ে লাগানো রয়েছে বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়দের চার থেকে পাঁচ হাজার (ছবি) পত্রিকার কাটিং। সেখানে খুঁজলে পাওয়া যাবে যে কোনো দেশের উল্লেখযোগ্য ক্রিকেট দলের রেকর্ড, ইতিহাস ও বিভিন্ন ধরনের তথ্য। আঠা দিয়ে চার থেকে পাঁচ হাজার পেপার কাটিং লাগানোর পর পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে আরও এক থেকে দুই হাজার কাটিং। ঘরে জায়গার অভাবে সেগুলো লাগাতে পারেনি রাজবাড়ীর ক্রিকেটপ্রেমী কিশোর খন্দকার হিমেল ইসলাম (১২)।
জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের শেকারা গ্রামের খন্দকার আব্দুর রবের ছেলে হিমেল। সে বহরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। প্রথম শ্রেণি থেকে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত সে ক্লাসের সেরা ছাত্র। তাছাড়া সে অসাধারণ ক্রিকেটও খেলে। হিমেলের ক্রিকেট নৈপুণ্য ওই অঞ্চলের সবাই জানে। পড়াশুনার পাশাপাশি অবসরের পুরো সময়টা কাটায় সে ক্রিকেট খেলে ও টেলিভিশনে খেলা দেখে।

টেস্ট, ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি, আইপিএল, বিপিএল, সিপিএল, কাউন্ট্রি, বিগব্যাশসহ ছোট-বড় সব ধরনের ক্রিকেট ম্যাচ উপভোগ করে সে। এছাড়া কবে কখন কোথায় কোন দলের কী খেলা সেটাও বলতে পারে। প্রায় ২০০ ক্রিকেটারের নাম মুখস্ত ক্রিকেটপ্রেমী কিশোর হিমেলের।
প্রথম প্রথম হিমেলের পত্রিকার কাটিং সংগ্রহ করা ও আঠা দিয়ে দেয়ালে লাগানো দেখে পরিবারের লোকজন পাগলামী ভেবে রাগ করলেও এখন উৎসাহিত করছেন। তারা চাইছেন হিমেলে একদিন বড় মাপের খেলোয়াড় হবে, সেই লক্ষেই হিমলেকে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দিচ্ছেন।

হিমেলের মা সেলিনা খাতুন জানান, দুই ছেলের মধ্যে হিমেল ছোট। ছোট বয়স থেকেই কোথাও ক্রিকেট খেলা দেখলে হিমেল সেখান থেকে আসতে চাইতো না, জোর করে আনতে হতো। কোথাও গেলে পেপার দেখলে তার আর হুশ থাকে না, খেলোয়াড়দের যে পৃষ্ঠা থাকে সেটা আনবেই। এরপর হিমেল পেপার থেকে ছবি কেটে কেটে ঘরের দেয়ালে লাগাতে শুরু করে। অনেক বাধা দিয়েও কোনো কাজ হয়নি। তিনি আরও বলেন, প্রথমে ভেবেছিলাম এ জন্য হয়তো হিমেলের পড়াশুনার ক্ষতি হবে কিন্তু না, সে ক্লাস ওয়ান থেকে ক্লাস সিক্স পর্যন্ত প্রথম স্থান অধিকার করে আসছে। তাই হিমেলকে আর কিছু বলি না, উৎসাহ দেই।
সেলিনা খাতুন জানান, বাসায় যত সময় হিমেল থাকে টেলিভিশনে খেলা নিয়ে পড়ে থাকে। তখন পড়েও না খায়ও না। ক্রিকেট খেলা যেহেতু ভালো খেলা তাই তিনি চান সবাই তার সন্তানকে সহযোগিতা করলে একদিন সে বড় মাপের খেলোয়াড় হবে।
হিমেলের চাচা এসএম হেলাল খন্দকার জানান, বাড়ির ছোট ছেলে হওয়ায় হিমেল তাদের সবার খুব আদরের। তাই সে যখন যা দাবি করে বাড়ির মানুষ তার দাবি পূরণের চেষ্টা করে।

তিনি আরও জানান, হিমেল যেমন পড়াশুনায় ভালো তেমনি ক্রিকেট খেলায় পারদর্শী। ছয় থেকে সাত হাজার যে পত্রিকার কাটিং হিমেল সংগ্রহ করছে তা আসলেই অবিশ্বাস্য। জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও বিসিবির কাছে হিমেলকে ভালো ক্রিকেটার হওয়ার সুযোগ করে দিতে তিনি অনুরোধ জানান।
ক্রিকেটপ্রেমী হিমেল জানায়, ছোট বেলা থেকেই সে খেলাধুলা ভালবাসে। এ কারণে যেখানেই যায় সেখানে পত্রিকা দেখলে খেলোয়াড়দের ছবি কেটে বা ছিড়ে নিয়ে আসে। সেগুলো বাসায় এনে আঠা দিয়ে দেয়ালের চার পাশে লাগায়। আগে সবাই অনেক রাগ করলেও এখন কিছু বলে না। ভবিষ্যতে ভালো একজন ক্রিকেটার হতে চায় হিমেল।
রুবেলুর রহমান/আরএআর/পিআর