ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

গাইবান্ধা সরকারি কলেজে আবাসন সঙ্কটে বিপাকে শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত: ০৪:১৮ এএম, ০৯ মে ২০১৭

গাইবান্ধা সরকারি কলেজে ছাত্রাবাস না থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। একটি ছাত্রীনিবাস থাকলেও সেখানে প্রয়োজনের তুলনায় আসন সঙ্কট রয়েছে।

তাই বাধ্য হয়ে ছাত্রীদের ভাড়া বাসা কিংবা ছাত্রী মেসগুলোতে থাকতে হচ্ছে। এতে যেমন রয়েছে নিরাপত্তার অভাব, তেমনি ভাড়া মেসে থেকে গরীব ছাত্র-ছাত্রীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৪৭ সালে স্থাপিত এই কলেজটিতে শিক্ষক রয়েছেন ৫২ জন ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১২ হাজার ৭০৮ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৭ হাজার ৩৫২ জন এবং ছাত্রী ৫ হাজার ৩৫৬ জন। এখানে রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলার কয়েক হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন।

জেলার প্রাচীন এই কলেজটিতে ছাত্রাবাস না থাকায় আবাসন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ছাত্ররা। এদের মধ্যে আবার অসচ্ছল পরিবারের সন্তানের সংখ্যাই বেশি।

gaibandha

তাই তারা পড়ালেখার অতিরিক্তি টাকা জোগাড় করতে নিজেরা টিউশনি করে, কোচিংয়ে পড়িয়ে কোনোমতে পড়াশোনার খরচ চালিয়ে নিচ্ছেন। আর এতে করে অনেকেই পড়াশোনায় সঠিকভাবে মনোনিবেশ করতে না পেরে পরীক্ষার ফলাফল ভালো করতে পারছেন না।

অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র আমিরুজ্জামান রুমন জাগো নিউজকে বলেন, পড়াশোনার খরচ চালানো আমার গরীব বাবার পক্ষে সম্ভবপর হয়ে উঠছে না। তাই টিউশনি করে পড়াশোনার খরচ চালাচ্ছি। ভাড়া মেসে থেকে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে। কলেজে ছাত্র হোস্টেল থাকলে আমাদের অনেক উপকার হতো।

অপরদিকে ৫ হাজার ৩৫৬ জন ছাত্রীর জন্য রয়েছে ১০০ আসনের একটিমাত্র ছাত্রী হোস্টেল। আর সেখানেও রয়েছে নানা সমস্যা। এই হোস্টেলের সবচেয়ে বড় সমস্যা আয়রনযুক্ত পানি। তাই ছাত্রীদের বাধ্য হয়ে হোস্টেলের বাহিরে গিয়ে পানি সংগ্রহ করে আনতে হয়। এই সামান্য আসনে সবার আবাসন ব্যবস্থা না হওয়ায় ছাত্রীরা ভাড়া ছাত্রীনিবাসে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনার্স ৩য় বর্ষে পড়া সুন্দরগঞ্জ উপজেলার এক ছাত্রীর বাবা জাগো নিউজকে বলেন, মেয়েকে কলেজে পড়াশোনার জন্য বাহিরে মেসে থাকতে হয়। তার নিরাপত্তাজনিত কারণে সবসময় চিন্তায় থাকি।

এসব বিষয়ে গাইবান্ধা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. জাহেদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ছাত্রদের আবাসন সঙ্কট নিরসনে চার কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে চারতলা একটি ভবন নির্মিত হচ্ছে। আগামী জুন মাসের মধ্যেই নির্মাণকাজ শেষ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। ভবনটির কাজ সম্পন্ন হলেই ছাত্ররা কলেজ হোস্টেলে থাকতে পারবে। এছাড়া ছাত্রী হোস্টেলের পানির সমস্যা নিরসনে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এএম/জেআইএম