এক সপ্তাহে চার খুন : উত্তপ্ত হয়ে উঠছে টেকনাফ
উত্তপ্ত হয়ে উঠছে দেশের সীমান্ত জনপদ টেকনাফ। মানব ও মাদক পাচার, পারিবারিক শত্রুতা এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উপজেলা জুড়ে অপরাধ প্রবণতা বেড়েই চলছে। আর এরই জের ধরে গত এক সপ্তাহে উপজেলায় আওয়ামী লীগ নেতাসহ খুন হয়েছেন চারজন। এতে করে দেখা দিয়েছে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র মতে, সোমবার ভোররাতে নিজবাড়ির ছাদে খুনের শিকার হন টেকনাফ সদর ইউনিয়নের উত্তর লেঙ্গরবিলের মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে আবদুস সালাম। দুর্বৃত্তরা তাকে জবাই করে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
এদিকে রোববার রাত আটটার দিকে পারিবারিক কলহের জের ধরে সৎ ছেলেদের প্রহার ও ছুরিকাঘাতে আহত হন নাছিমা আকতার নামের এক নারী। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় তার স্বামী হোসেন আহমদও আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এছাড়া গত ২৫ এপ্রিল রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গীখালী বাজারে জনসম্মুখে স্বশস্ত্র দুবৃর্ত্ত দল গুলি করে হত্যা করে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি ও ইউপি মেম্বার শফিক আহমদকে। স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে স্থানীয়দের অভিমত।
এ ঘটনার কয়েকদিন যেতে না যেতেই গত ২ মে রাত ৮ টার দিকে শাহ পরীর দ্বীপ জালিয়াপাড়ায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে রশিদ আহমদ বাটুর ছেলে দিল মোহাম্মদ খুন হয়। তার পরিবার জানায়, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সোর্স ভেবে চোরাকারবারিরা দিল মোহাম্মদকে হত্যা করেছে। কিন্তু স্থানীয় সূত্র মতে, অবৈধ আয়ের ভাগ-বাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ তাকে খুন করে।
এক সপ্তাহে ভেতর এ চার খুন এলাকার সাধারণ মানুষের মনে ভয় ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
টেকনাফের সচেতন মহলের মতে, মাদক ও মানবপাচার, জবর দখল এবং পূর্ব শত্রুতা নিয়ে ইতোপূর্বে নানা ঘটনা ঘটলেও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। আর ঘটনার বিপরীতে সাধারণ যে সব মামলা হয় তা থেকে সহজে জামিন নিয়ে এলাকায় এসে পুরোদমে অপরাধ প্রবণতা বাড়িয়ে দিচ্ছে অপরাধীরা। তাই অপরাধ কমার পরিবর্তে দিন দিন বাড়ছেই। আবার এসব অপরাধের মামলায় টাকার বিনিময়ে এক পক্ষ অপর পক্ষকে আসামির তালিকায় স্থান করে দিচ্ছে। এ কারণে নিরপরাধ সাধারণ জনগণও হয়রানির শিকার হয়।
তবে টেকনাফ থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান খন্দকার এর মতে, এলাকাভিত্তিক কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার কারণে এ সমস্ত হত্যাকাণ্ড ঘটছে। তার মতে, আইনশৃঙ্খলা আগের চেয়ে অনেক ভালো। এক সপ্তাহের এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইতোমধ্যে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। বাকী অপরাধীদেরও আটক করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সায়ীদ আলমগীর/এসএস/পিআর