ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

চেয়ারম্যানের নির্দেশে নারীকে নগ্ন করে নির্যাতন!

প্রকাশিত: ০৩:০৯ এএম, ১০ মে ২০১৭

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর এলাকায় চেয়ারম্যানের নির্দেশে এক নারীকে নগ্ন করে নির্যাতনের অভিযোগ উঠছে কতিপয় যুবলীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে।

বর্তমানে নির্যাতনের শিকার ওই নারী ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় জগন্নাথপুর ইউনিয়নের গৌরীপুর গ্রামে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার মানুষ চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নামধারী নেতাদের বিচার দাবি করেছেন।

জানা গেছে, রোববার রাতে উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আলালের নির্দেশে যুবলীগ কর্মীরা তিন সন্তানের জননীকে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় যুবলীগ কর্মীরা তাকে নগ্ন করে নির্যাতন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে তার কাছে দুই লাখ টাকাও দাবি করা হয়।

একই সময় খোঁচাবাড়ী হাটের ব্যবসায়ী ও গৌরীপুর গ্রামের প্রমথ চন্দ্র রায়কেও সন্ত্রাসীরা তুলে নিয়ে নির্যাতন করে। এ ঘটনার নেতৃত্ব দেন ইউপি সদস্য আনিসুর রহমান, কেদারনাথ রায় ও নারী সদস্য মালেক বেগম।

নির্যাতনের শিকার সদর উপজেলার দৌলতপুর মৌজার খোচাবাড়ি হাট এলাকার ওই নারী অভিযোগ করেন, তার একমাত্র সম্বল ভিটের ওপর চেয়ারম্যানের নজর পড়েছে। তিনি (চেয়ারম্যান) মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তাকে ভিটে থেকে উচ্ছেদ করতে চান।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ওই চেয়ারম্যান তিন মেম্বারের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসীকে দিয়ে আমাকে নগ্ন করে নির্যাতন করে। এসময় দুই লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে আমাকে বাড়ি ছাড়তে বলে।

ওই নারী অভিযোগ করে বলেন, মহিলা মেম্বার মালেকা আমাকে নগ্ন করে ইউনিয়ন পরিষদে মারধর করে। আর এই দৃশ্য দেখেন চেয়ারম্যান, পুরুষ মেম্বার আর সন্ত্রাসীরা।

তিনি বলেন, স্বামী চলে যাওয়ার পর আমার ওপর তিন সন্তানের দায়িত্ব পড়ে। দোকানে-দোকানে কাজ করে দুই মেয়ের বিয়ে দেই। ছেলে বড় হলেও সে বিয়ে করে আলাদা থাকে।

ওই নারীর ছোট মেয়ে জানায়, টিপসই দেয়ার নাম করে তার মাকে বাড়ি থেকে জোর করে নিয়ে যায় চেয়ারম্যানের লোকেরা।

এদিকে গৌরীপুর গ্রামের প্রমথ চন্দ্র রায়ের অভিযোগ, তাকেও একই সময়ে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয় এবং টাকা দাবি করা হয়।

তবে ইউপি সদস্য আনিসুর রহমান ও কেদারনাথ রায় জানান, ওই দুজনের বিরুদ্ধে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ রয়েছে।

ঠাকুরগাঁও জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ- খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইন্দ্র নাথ রায় জানান, আইন কেউ হাতে তুলে নিতে পারে না। ইউপি চেয়ারম্যান ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। অভিযোগ থাকলে তিনি পুলিশকে জানাতে পারতেন। শারীরিক নির্যাতন কেন?

অপরদিকে ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দীন আলাল বলেন, সব কিছু মিথ্যা। হাজার-হাজার মানুষ ওই নারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে।

ঠাকুরগাঁও থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান বলেন, মঙ্গলবার রাতে তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। এ ঘটনায় দুজন হাসপাতালে রয়েছেন। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রবিউল এহসান রিপন/এফএ/আরআইপি