সুন্দরবনে সারবাহী জাহাজ ডুবি
পূর্ব সুন্দরবনে এবার একটি সারবাহী জাহাজের তলা ফেটে গেছে। মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে শরণখোলা রেঞ্জের মরা ভোলা এলাকার ভোলা নদীর চরে আটকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। জাহাজটি সার বোঝাই করে মংলা থেকে ঢাকায় যাচ্ছিল। এ ঘটনায় পরিবেশের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, মংলা থেকে ৫শ` টন পটাশ সার (লাল সার) নিয়ে এম.ভি জাবালে নূর একটি জাহাজ রোববার পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের মরা ভোলা এলাকার ভোলা নদী অতিক্রম করছিল। এসময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে জাহাজটি চরে উঠে গেলে আটকে যায়। মঙ্গলবার বিকেলে জাহাজের তলা ফেটে পানি উঠে ধীরে ধীরে জাহাজটি ডুবে যায়।
বনবিভাগ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মেসার্স আল এহসান শিপিং লাইন্স এর এম-৬৯৪৩ নম্বরের এ জাহাজটি গত ৩ মে মংলার হারবাড়িয়া থেকে সার বোঝাই করে সিরাজগঞ্জের বাঘাবড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। জাহাজটি ছেড়ে আসার পর ওইদিন পথিমধ্যে শরণখোলা রেঞ্জের ভোলা নদের বিমলের চর এলাকায় এলে বিপরিত দিক থেকে আসা একটি জাহাজকে সাইড দিতে গিয়ে ওই জাহাজটি প্রথমে ডুবো চরে আটকে পড়ে। পরে ঢেউয়ের আঘাতে সেটি ফেটে ডুবে যায়।
ইতোমধ্যে জাহাজটি উদ্ধারে মংলা থেকে এমবি নূসরাত-ই-হক ও এমবি তছির উদ্দিন নামের দুটি জাহাজ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। এবং অতি গোপনে মালিকপক্ষ গলিত সার পানিতে ফেলে জাহাজটি উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। সার বোঝাই জাহাজ ডুবির এলাকা ডলফিন ও শুশুকের বিচরণ ক্ষেত্র হওয়ায় সুন্দরবন আবারও বির্যয়ের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাগ্রো টেকনোলজি বিভাগের প্রফেসর সরদার সরিফুল ইসলাম জাগো নিউজকে জানান, সার গলে পানির গুণগত মান ও জলজ প্রাণির ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। সারবাহী জাহাজ ডুবির ঘটনাটি সুন্দরবন বিপর্যয়ের আরেকটি প্রধান কারণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, ডুবে যাওয়া পটাশ (এমওপি) জাতীয় এ সারের বিষক্রিয়ায় গাছপালার চেয়ে জলজ প্রাণির ক্ষতির আশঙ্কা বেশি। জাহাজটি উদ্ধারের জন্য চেষ্টা চলছে বলে তাকে মালিক পক্ষ জানিয়েছে। তবে, গলিত সার পানিতে ফেলা হলে জাহাজটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ খবর পেয়ে জাহাজের মালিক ঢাকার বাবুল হাওলাদার ওই জাহাজটি উদ্ধারের জন্য এমভি নূরুল হক ও এমভি সাদি নামে দু`টি জাহাজ ঘটনাস্থলে পাঠান। নুরুল হক জাহাজের মাস্টার আ. মালেক মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটায় জানান, ঘটনাস্থলে বিশাল চর থাকায় ওই জাহাজটি উদ্ধার করা সম্ভব নয়। তাই তারা সেখান থেকে ফিরে যাবেন বলে জানান।
ডুবে যাওয়া জাহাজের মালিক বাবুল হাওলাদার জাগো নিউজকে জানান, জাহাজটি উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত ২০১৪ সালের ৯ ডিসেম্বর চাঁদপাই রেঞ্জের শ্যালা নদীতে ফার্নেস তেলবাহী `সাউদার্ন স্টার সেভেন` নামের একটি জাহাজ ডুবে গিয়েছিল।
শওকত আলী বাবু/এমএএস/এমজেড/আরআই