বিএনপির সভায় হঠাৎ পুলিশি হামলার অভিযোগ
সাতক্ষীরায় জেলা বিএনপির প্রতিনিধি সভার শেষ মুহূর্তে পুলিশ ও ডিবি পুলিশের আতর্কিত হামলা আমাদের বিষ্মিত করেছে। যা আমরা কখনো কল্পনা করিনি। প্রধান অতিথি হিসেবে কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী বক্তব্য দেয়ার সময় হঠাৎ হামলা চালায় পুলিশ। বাইরের চেয়ার ভাঙচুর করে। শত শত নেতাকর্মীরা দিকবিদিক ছুটে গেছে। কথাগুলো বলছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তারিকুল হাসান।
তিনি বলেন, সকাল ১০টায় সভা শুরু হওয়ার পর ভালোই চলছিল। বেলা ১২টা থেকে শিল্পকলা একাডেমীর আশেপাশের এলাকা ঘিরে রাখে পুলিশ ও ডিবি পুলিশ। প্রধান অতিথি বক্তব্য দেয়ার সময় বেলা দেড়টার দিকে আতর্কিত হামলা চালায় পুলিশ। চেয়ার ভাঙচুর করে নেতাকর্মীদের বের করে দেয়।
তবে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের এমন অভিযোগের বিষয়ে সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মেরীনা আক্তার জাগো নিউজকে বলেন, আমরা বাইরে অবস্থান করছিলাম। হঠাৎ ভিতরে চিৎকার হুড়োহুড়ি ও দৌড়ো দৌড়ি দেখেই ভিতরে প্রবেশ করি। শান্তিপূর্ণ একটা সভায় আমরা যাবো কেন। আমাদের দায়িত্ব শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখা। দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এমনটা হতে পারে।
জেলা বিএনপির নবগঠিত কমিটির সভাপতি রহমাতুল্লাহ পলাশের সভাপতিত্বে প্রতিনিধি সভায় বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠণিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, কেন্দ্রীয় নেতা অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ডা. শহীদুল আলম, সাবেক সংসদ সদস্য কাজী আলাউদ্দিন, জেলা সাধারণ সম্পাদক তারিকুল হাসান, বিএনপি নেতা বিএনপি আব্দুর রউফসহ উপজেলার নেতৃবৃন্দ।
এর আগে অনুষ্ঠার শুরুর সময় শুভেচ্ছা বক্তব্যে প্রধান অতিথি কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী বলেন, আওয়ামী লীগের পায়ের তলার মাটি সরে গেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে বলেছেন এবার তিনি ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচনের দায়িত্ব নিতে পারবেন না।
দেশে আইনের শাসন নেই, প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার দেয়া বক্তব্যের উধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ এখন দেউলিয়াত্বে ভুগছে। জনগণের জাগরণ সৃষ্টি করে উৎসাহ উদ্দীপনা, সাহস ও মনোবল দিয়ে দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে।
প্রতিনিধি সভায় বিভিন্ন উপজেলার নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। তবে শেষ পর্যায়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যের সময় হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া কেউ ছিলেন না।
আকরামুল ইসলাম/এফএ/এমএস