ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

সুন্দরবনে সারবাহী জাহাজটি এখনো উদ্ধার হয়নি : পানিতে মিশছে পটাশ

প্রকাশিত: ১২:৪৫ পিএম, ০৬ মে ২০১৫

বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেজ্ঞের ভোলা নদীর বিমলের চর এলাকায় ডুবে যাওয়া সারবাহী এম ভি জাবালে নূর নামে লাইটারেজ জাহাজটি বুধবার দুপুর পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সেই সঙ্গে অপসারণ করা হয়নি জাহাজে থাকা গলে যাওয়া অবশিষ্ট পটাশ সার।

এদিকে জাহাজটিতে থাকা অধিংকাশ পটাশ সার পানিতে মিশে সুন্দরবনের বিভিন্ন খালে ছড়িয়ে পড়েছে। সারবোঝাই জাহাজ ডুবিতে সুন্দরবনের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখ করে শরণখোলা রেজ্ঞ কর্মকর্তা এসিএফ কামাল উদ্দিন আহমেদ থানায় লাইটারেজ জাহাজ কর্তৃপক্ষকে আসামি করে শরণখোলা থানায় মামলা করেছেন। একই সাথে ঘটনা তদন্তে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসন ও সুন্দরবন বিভাগ পৃথক দুটি কমিটি গঠন করেছে।



বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব মো. শফিকুর রহমানকে প্রধান করে ৫ সদস্যের কমিটি আগামী ৭ দিনের মধ্যে ও পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. আমির হোসাইন চৌধুরীকে প্রধান করে ৪ সদস্যের কমিটিকে আগামী ৩ দিনের মধ্যে তাদের রির্পোট পেশ করতে বলা হয়েছে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর আলম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, দুটি কমিটি কাজ শুরু করেছে। জেলা প্রশাসক আরো জানান, লাইটারেজ কার্গো জাহাজটির অবশিষ্ট সার পানিতে গলে গেছে। বুধবার বিকেল থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে সেগুলো অপসারণের কাজ শুরু হবে।

তিনি বলেন, যে পরিমাণ সার পানিতে মিশেছে তাতে আতঙ্কিত হবার কিছুই নেই। জাহাজটি কাত হয়ে আছে ফলে জোয়ারের সময় জাহাজের উপরের অংশে থাকা সার পানিতে মিশে নদীতে ছড়িয়ে পড়ছে। তবে ভাটার সময় তা বন্ধ থাকছে।



অপর দিকে তলা ফেটে ডুবে যাওয়া লাইটারেজ জাহাজের চালক মো. হাফিজু রহমান মঙ্গলবার রাতে ঘটনার বিস্তারিত বণর্না দিয়ে শরণখোলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করছেন।

দুর্ঘটনা কবলিত লাইটারেজ জাহাজটি মংলা বন্দরের অদূরে পশুর নদীর হারবারিয়া এলাকা থেকে ৬৭০ মেট্রিক টন পটাশ সার বোঝাই করে গত ১ মে আশুগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথিমধ্যে বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের ভোলা নদীর বিমলের চরে গত সোমবার সন্ধ্যায় জাহাজটি চরে আটকা পড়ে।  মঙ্গলবার বিকেলে জাহাজটির তলা ফেটে যায় এবং কাত হয়ে ডুবে যায়। এ কারণে জাহাজে থাকা পটাশ সার সুন্দরবনের পানিতে মিশতে শুরু করে।

এ বিষয়ে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের ডিএফও মো. আমীর হোসইন চৌধুরী জাগো নিউজকে জানান, জোয়ারের সময় সার মিশ্রিত পানি সুন্দরবনের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি আগামী ৩ দিনের মধ্যে তাদের রির্পোট পেশ করবে।

তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনাকবলিত কার্গো থেকে সার বালু উত্তোলনকারী ড্রেজার দিয়ে অন্য কার্গোতে অবশিষ্ট সার খালাস করার চেষ্টা চলছে। বিকেলে ভাটার সময়ে এ কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।



পটাশ সার সুন্দরবনের নদীতে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপিনের অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেন জানান, সুন্দরবনের মধ্যে সার বোঝাই ওই কার্গোটি ডুবে যাওয়ায় জলজ ও বনজ সম্পদের নানামুখি ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। লাল রঙের ওই সার ডুবির কারণে পানির রঙও লাল হয়ে যেতে পারে। তবে কি পরিমাণ সার সেখানে পানিতে মিশেছে তার উপর ক্ষতির বিষয়টি নির্ভর করবে। বর্তমানে ওই কার্গোতে থাকা সারের বাকি অংশ সতর্কতার সঙ্গে খালাস করার পরামর্শ দিয়েছেন অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেন।

অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেন আরো বলেন, সুন্দরবনের নদী পথে তেল, সার, কয়লাসহ যে কোনো ধরনের পণ্যবাহী নৌযান চলাচল সুন্দরবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। দুর্ঘটনা ঘটে গেলে সুন্দরবনের ক্ষতির আশঙ্কা থেকে যায়।

দুর্ঘটনার পর বুধবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন খুলনা বিভাগের প্রধান বন সংরক্ষক সুনীল কুমার কুন্ডু, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর আলম, সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের ডিএফএও মো: আমির হোসাইন চৌধূরী, বাগেরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. জয়নুল আবেদীন ও শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা এসিএফ কামাল উদ্দিন আহমেদ। তাদের মতে যে পরিমাণ সার পানিতে মিশেছে তাতে সুন্দরবনে তেমন ক্ষতি হবার আশঙ্কা নেই।



উলেখ্য, গত ৯ ডিসেম্বর সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বাগেরহাটের মংলা উপজেলাধীন চাঁদপাই রেঞ্জের শ্যালা নদীর মৃগমারী এলাকায় এমটি টোটাল নামে একটি জাহাজের ধাক্কায় ওটি সাউদার্ন স্টার-৭ নামে তেলবাহী একটি জাহাজ ডুবে যায়।

এরপর সরকারের আহ্বানে জাতিসংঘের একটি বিশেষজ্ঞ দল গত ২২ ডিসেম্বর সুন্দরবনে আসে। ২৫ সদস্যের দেশি-বিদেশি ওই বিশেষজ্ঞ দলটি পাঁচ দিন ধরে সুন্দরবনে ঘুরে ঘুরে ক্ষয়ক্ষতির তথ্যসহ নানা উপকরণ সংগ্রহ করে।

ওই বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যরা তাদের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে নৌযান চলাচল বন্ধের সুপারিশ করে। ২৮ দিন বন্ধ থাকার পর ৭ জানুয়ারি থেকে সরকার নিয়ন্ত্রিত উপায়ে শুধুমাত্র দিনের আলোয় শ্যালা নদীর ওই পথে নৌযান চলাচলের অনুমতি দেয়। তেলবাহী জাহাজ ডুবির ৫ মাস যেতে না যেতেই সার বোঝাই এ জাহাজ ডুবির ঘটনা ঘটলো।

এমএএস/আরআই