দেশের প্রচলিত আইন জনগণের অধিকার পরিপন্থী : প্রধান বিচারপতি
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, দেশ স্বাধীন হলেও স্বাধীনতার আদলে এ দেশের আইন ব্যবস্থা পরিচালিত হচ্ছে না। এখনও ঔপনিবেশিক শাসনামলের আইন দিয়ে দেশ পরিচালিত হচ্ছে। এ কারণে দেশের প্রচলিত আইন জনগণের অধিকার পরিপন্থী। আইনের ত্রুটিসহ স্বার্থান্বেষী একটি মহল এ ক্ষেত্রে বড় বাধা। এজন্য আইনের ত্রুটি সংশোধনের ওপর জোর দিতে হবে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে টাঙ্গাইল জেলা জজ আদালত ভবনে অস্থায়ী ভিত্তিতে নির্মিত ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারিত অংশের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান বিচারপতি বলেন, দেশকে ডিজিটাল করে তুলতে রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন হচ্ছে। বড় বড় ভবন তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু বিচার বিভাগকে ডিজিটালাইজেশনের জন্য কম্পিউটার দেয়া হচ্ছে না। যার ফলে বিচারকদের এখনও হাতে লিখে বিচার কার্য পরিচালিত করতে হচ্ছে। এতে যেমন বিচার কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে, তেমনি নথিপত্রও নষ্ট হচ্ছে। ডিজিটালাইজেশনের আওতায় শুধু ভবন আর সড়ক উন্নয়ন নয়, দেশের সকল ক্ষেত্রেই এর যথার্থতা নিশ্চিত করতে হবে।
সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, দেশের অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানে জনগণের যাতায়াত কম থাকলেও আদালতে এর পরিমাণ অনেক বেশি। কিন্তু আদালত প্রাঙ্গণে আসামি, সাক্ষী বা বিচারকের জন্য নেই পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা। এ দিকে সরকারের আন্তরিকতা ও সুদৃষ্টি রাখার অনুরোধ জানান তিনি।
প্রধান বিচারপতি বলেন, বিচার ব্যবস্থার ত্রুটি ও বিচারক স্বল্পতার কারণে মামলা নিষ্পত্তি কম হওয়ায় সারা দেশে মামলার জট সৃষ্টি হয়েছে। বিচারপ্রার্থী জনগণের দুর্দশা লাঘবে অবশ্যই এ জট নিরসন করতে হবে। পুলিশ প্রশাসনসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগ, আইনজীবী ও বিচারকদের পুরাতন মানসিকতা পরিহার করে কাজ করে যেতে হবে।
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন গণপূর্ত বিভাগ টাঙ্গাইলের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভু রাম পাল, সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. রবিউল হাসান, সরকারি কৌঁসুলি আনন্দ মোহন আর্য প্রমুখ।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে আইনজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং বধুবার রাত ৮টায় টাঙ্গাইল সার্কিট হাউজে জেলা জাজশিপ আয়োজিত বিচার বিভাগীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।
আরিফ উর রহমান টগর/আরএআর/পিআর