ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বনানীর ধর্ষকদের মুক্তি চেয়ে মোনাজাত করে পালালেন ইমাম

প্রকাশিত: ১১:২৬ এএম, ২০ মে ২০১৭

দেশের আলোচিত বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতারদের মুক্তি ও আপন জুয়েলার্সকে রক্ষায় কক্সবাজারের এক মসজিদে মোনাজাত করা হয়েছে বলে স্থানীয় এক ইমামের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল শুক্রবার (১৯ মে) জেলা শহরের বইল্লাপাড়ার বায়তুশ শরফ জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নামাজে আসা লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করে এর ব্যাখ্যা চাইলে ইমাম রিদুয়ানুল হক কিছু না বলে দ্রুত সেখান থেকে সরে পড়েন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজের পর করা মোনাজাত শেষে এই নিয়ে মুসল্লিদের মাঝে উত্তেজনা দেখা দেয়। কার অনুমতি নিয়ে ধর্ষকের পক্ষে ও ধর্ষকদের রক্ষার জন্য মোনাজাত করা হয়েছে তা নিয়ে মুসল্লিরা চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করে। পরে মুসল্লিদের তোপের মুখে বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সের মহাপরিচালক সিরাজুল ইসলাম ও মসজিদের ইমাম রিদুয়ানুল হক মসজিদ এলাকা থেকে সবার অজান্তে সরে পড়েন।

কক্সবাজার বায়তুশ শরফ মসজিদে নামাজ পড়তে আসা শফিউল আলম, দেলোয়ার হোসেন, ইয়াকুব আলী ভুট্টো ও জুনাইদ হোসেনসহ একাধিক মুসল্লি জানান, নামাজের শেষে মোনাজাত চলছে। উপস্থিত সবার নামাজ কবুল ও দেশের মঙ্গল কামনার পাশাপাশি হঠাৎ আপন জুয়েলার্সের দুর্গতির কথা উল্লেখ করে ব্যবসা স্বাভাবিক করতে এবং প্রতিষ্ঠান মালিকের কারান্তরীণ ছেলের মুক্তির জন্য আল্লাহর বিশেষ রহমত কামনা করেন।

তারা আরও জানান, বহুল আলোচিত বনানীর ঘটনায় অভিযুক্তদের মুক্তি ও আপন জুয়েলার্সকে রক্ষা এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিকতা কামনা করে ইমামের মুখে আল্লাহর রহমত কামনা করায় মুসল্লিরা এক অপরের মুখের দিকে তাকান। মোনাজাত শেষ হওয়ার পরপরই মুসল্লিরা এ ঘটনায় হট্টগোল শুরু করে।

মুসল্লিদের দাবি, জুমার নামাজ শেষে মোনাজাত শুরুর আগ মুহূর্তে বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সের মহাপরিচালক সিরাজুল ইসলাম এগিয়ে গিয়ে রিদুয়ানুল হকের কানে কানে কিছু একটা বলেন। এরপরই মোনাজাতে বনানীতে দুই ছাত্রী ধর্ষণে জড়িতদের মুক্তি ও আপন জুয়েলার্সের জন্য দোয়া করা হয়।

কক্সবাজার শহরে সুপরিসর তিন তলাবিশিষ্ট বায়তুশ শরফ জামে মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে প্রতি শুক্রবার কয়েক হাজার মুসল্লি জমায়েত হন। এ ঘটনার পর মুসল্লিরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন।

জুমার নামাজে মসজিদে ধর্ষক ও তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য দোয়া চাওয়া নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকাবাসী ওই ইমামকে মসজিদে ঢুকতে না দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এরপর থেকে নিজের মুঠোফোন বন্ধ করে পালিয়ে রয়েছেন ইমাম রিদুয়ান। সেই সঙ্গে পালিয়ে গিয়ে চট্টগ্রাম উঠেছেন কক্সবাজার বায়তুশ শরফের মহাপরিচালক সিরাজুল ইসলাম।

এ ব্যাপারে শনিবার বিকেলে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে বায়তুশ শরফের মহাপরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমি দুই দিন ধরে চট্টগ্রাম। নামাজে আমি ছিলাম না। এরকম একটি কথা আমিও শুনেছি। তদন্তের পর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনি তো ইমামের কানে কানে এ বিষয়ে দোয়া চাইতে বলেছেন বলে মুসল্লিরা বলছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপনি খোঁজ নিয়ে দেখেন আসলে আমি ছিলাম না। এখন একটা মিটিংয়ে আছি, পরে আপনার সঙ্গে আবার কথা হবে বলে লাইন কেটে দেন তিনি।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। সত্যি হয়ে থাকলে এটি অনভিপ্রেত। একটা সর্বশ্রদ্ধেয় প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এমনটি আশা করা যায় না। উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টার পাশাপাশি এর জের ধরে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সায়ীদ আলমগীর/এএম/জেআইএম

আরও পড়ুন