ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

জজ আদালতেও ডিসি রুহুল আমিনের জামিন নামঞ্জুর

প্রকাশিত: ০৯:০৩ এএম, ২৪ মে ২০১৭

কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ীর কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রায় ২০ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় কক্সবাজারের সাবেক জেলা প্রশাসক রুহুল আমিনের জামিন আবারও নামঞ্জুর করেছেন জেলা জজ আদালত। বুধবার দীর্ঘ শুনানি শেষে জেলা ও দায়রা জজ মীর শফিকুল আলম ডিসি রুহুল আমিনের জামিন নাকচ করেন।

কক্সবাজারে দায়িত্বরত দুদক আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আবদুর রহিম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গত সোমবার কক্সবাজার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করেন সাবেক জেলা প্রশাসক। আদালতের বিচারক তৌফিক আজিজ জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠান। রুহুল আমিন বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) উপ-সচিব পদে কর্মরত।

জেলার দ্বীপ উপজেলা মহেশখালী কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা জমির বিপরীতে ভুয়া মালিকানা তৈরি করে ক্ষতিপূরণের প্রায় ২০ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় দুদক মামলা করে। তদন্ত শেষে কক্সবাজারের তৎকালীন জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, সার্ভেয়ার-কানুনগোসহ ১৩ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ২৩ জন স্থানীয় বাসিন্দাসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে দুদক।

দুদকের আইনজীবী আবদুর রহিম জানিয়েছেন, এই মামলায় কক্সবাজারের সাবেক জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন হাইকোর্ট থেকে ৪ সপ্তাহের আগাম জামিন পান। গত ২১ মে হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের মেয়াদ শেষ হয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশমতে তিনি সোমবার দুপুর ১২টার দিকে কক্সবাজারের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করেন।আদালতের বিচারক তৌফিক আজিজ তার আবেদন নামঞ্জুর কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আইনজীবী আবদুর রহিম আরও জানান, এই মামলায় গত ৯ মে কক্সবাজারের সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জাফর আলমকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে দুদক। তিনি বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে কর্মরত।

এর আগে গত ৩ এপ্রিল একই মামলায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার সাবেক উচ্চমান সহকারী আবুল কাশেম মজুমদার, সাবেক সার্ভেয়ার ফখরুল ইসলাম ও জেলা জজ আদালতের আইনজীবী নুর মোহাম্মদ সিকদারকে দুদক গ্রেফতার করে। গ্রেফতার পাঁচজনের মধ্যে আবুল কাশেম মজুমদার ও নুর মোহাম্মদ সিকদার বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।

সম্প্রতি কক্সবাজারের সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জাফর আলম গ্রেফতার হওয়ার পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক সৈয়দ আহমেদ রাসেল জানিয়েছিলেন, মহেশখালীর কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্পের আওতায় অধিগ্রহণ করা জমির বিপরীতে ২৩৭ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে ২৫টি অস্তিত্বহীন চিংড়ি ঘের দেখিয়ে ৪৬ কোটি ২৪ লাখ ৩ হাজার ৩২০ টাকা ক্ষতিপূরণ নিজেদের করে নেয় কক্সবাজার ভূমি অধিগ্রহণ শাখার উচ্চমান সহকারী আবুল কাশেম মজুমদারের নেতৃত্বে ৩৬ জনের একটি সিন্ডিকেট।

এ থেকে কৌশলে তারা ১৯ কোটি ৮২ লাখ ৮ হাজার ৩১৫ টাকা তুলে নেয়। বাকি টাকার জন্য ইস্যু করা হয়েছিল আরও পাঁচটি চেক। তবে অভিযোগ ওঠার পর পাঁচটি চেকের আওতায় নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের বাকি টাকা আটকে দেয়া হয়। এই অনিয়মে সহায়তা করেছেন কক্সবাজারের তৎকালীন জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জাফর আলম।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রুহুল আমিন ২০১২ সালের ২৩ অক্টোবর কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি এই জেলায় কর্মরত ছিলেন ২০১৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

সায়ীদ আলমগীর/এফএ/জেআইএম

আরও পড়ুন