গরমে ক্রেতাশূন্য চায়ের দোকান
বুধবার বেলা ১১টা। পটুয়াখালী সদর উপজেলা পরিষদের পূর্বপাশে ছোট্ট একটি চায়ের দোকান। দোকানটিতে রয়েছে মালামাল সাজানো। ছোট্ট দোকানটির এক কোণে খালি গায়ে একটি চেক লুঙ্গি পরে বসে আছেন আব্দুস ছোবাহান তালুকদার (৮৪)। দোকানের সামনে ক্রেতাদের বসার জন্য দু`পাশে দুটি টুল। কিন্তু তাতে নেই কোনো ক্রেতা। তবে চায়ের দোকানে ক্রেতা না থাকলেও রয়েছে ঠান্ডা পানীয়র দোকানগুলোতে।
চায়ের দোকানি আব্দুস ছোবাহান তালুকদার বলেন, সকাল থেকে দোকানে বসে আছি এক কাপ চাও বিক্রি করতে পারিনি। গত কয়েক দিন ধরে অনেক কষ্টে আছি। বেচা-কেনা নাই বাবা। এমন গরম পড়তে থাকলে আমরা না খাইয়া মারা যামু। আমি দির্ঘ ৯ বছর যাবৎ এই স্থানে চায়ের দোকান করি কিন্তু এমনটি আর হয়নি।
এদিকে শহরের লঞ্চঘাট এলাকার চায়ের দোকানি খোকন প্যাদা জানান, আমার দোকানে চা, বিস্কুট আর সিগারেট আছে। তিনি প্রতিদিন তিনশ কাপ চা বিক্রি করেন। কিন্তু গত তিন-চার দিন যাবৎ পঞ্চাশ কাপ চাও বিক্রি করতে কষ্ট হচ্ছে।
তিনি বলেন, দেখেন ভাই দুপুর হইছে এখন পর্যন্ত মাত্র পাঁচ কাপ চা আর কয়েকটা সিগারেট বিক্রি করছি। চা না খাইলে কাস্টমারে বিস্কুটও খায় না। তাই বিক্রি কম। আমার তো টাকা নাই যে বড় দোকান দিমু। আজ কী দিয়া যে মহাজনের টাকা দিমু? কইতে পারি না।
চক বাজারের চা বিক্রেতা সোনাতন বলেন, রোদের মধ্যে কেউ চা খায় না। খালী দোকান ডা খুইলা রাখছি যদি একটু বেচা কিনা হয়। দোকান না খোললে তো পেটে ভাত জুটবে না।
অপরদিকে শহরের মাছ ঘাট এলাকার কোমল পানীয় বিক্রেতা নেপাল চন্দ্র (মনু) জানান, তার দোকানে বিভিন্ন কোম্পানির কোমল পানিও পাওয়া যায়। প্রচন্ড গরমের কারণে দোকানে কোমল পানীয় বেশি বিক্রি হচ্ছে।
মহিব্বুল্লাহ্ চৌধুরী/এফএ/পিআর