ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

জাহাজমারা আশ্রয়ণ প্রকল্প এখন ‘খোঁয়াড়’

প্রকাশিত: ০২:৫৩ পিএম, ২৫ মে ২০১৭

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের দুস্থ-অসহায়দের জন্য নির্মিত জাহাজমারা আশ্রয়ণ প্রকল্পের শতাধিক পাকা বসতঘর স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বর্তমানে আশ্রয়ণের ঘরগুলো দখল করে গরু, ছাগল, ভেড়া, হাঁস-মুরগি এবং কবুতর লালন-পালন করছে প্রভাবশালীরা। ফলে ঘরগুলো দিন দিন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অর্থায়নে বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের জাহাজমারা আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩০টি ব্র্যাকে ১৫০টি পাকা ঘর নির্মাণ করে নৌবাহিনী। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর থেকেই জাহাজমারা আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৪০টি ঘর দখলে নিয়েছেন ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হানিফ হাওলাদারের ছেলে লিখন হাওলাদার, জাহাজমারা এলাকার মোর্শেদ মোল্লা, একই এলাকার ফরহাদ মোল্লা, খাসমহল (ধুম) এলাকার হানিফা ও দুলালসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী। যে যার মতো ঘরগুলো দখল করে নিজেদের কাজে ব্যবহার করছেন। বাকি ১০টি ঘরে দুস্থ-অসহায় কিছু লোকজন বসবাস করছে।

তাছাড়া আশ্রয়ণ সংলগ্ন সরকারি জমি দখল করে সাবেক চেয়ারম্যানের ছেলে লিখন হাওলাদার একটি বিশাল মাছের ঘের করেছেন। একই সঙ্গে আশ্রয়ণের মধ্যে একটি পুকুরও তিনি দখল করে নিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঠিক তদারকি না থাকায় প্রভাবশালীদের দাপটের কারণে নতুন করে দুস্থ-অসহায় কোনো পরিবার আশ্রয়ণ প্রকল্প এসে বসবাস করতে পারছে না। তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে হুমকি ধামকি ও হামলার শিকার হতে হয়।

আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসকারী রাকিব হাওলাদার বলেন, যারা আশ্রয়ণের ঘরগুলো দখল করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কিছু বললেই আমাদেরকে মারধর করে। এ কারণে কেউ কিছু বলতে সাহস পায় না।

এ সময় কথা হয় আশ্রয়ণে বসবাসকারী অরেকজন বাশের মিয়ার স্ত্রী মমতাজ বেগম। তিনি বলেন, ঘরগুলোর মধ্যে গরু-ছাগল রাখতে নিষেধ করলে চেয়ারম্যান হানিফ হাওলাদারের ছেলে লিখনের লোকজন মারধর করে। চেয়ারম্যানের ছেলের ভয়ে আমরা কোনো গাছপালা লাগাইতে পারি না। কিছু বললেই লাঠি দিয়া মারে আর মামলা দেয়।

বড়বাইশদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আশ্রয়ণের ঘর দখলের বিষয়টি আমি গত মাসের উপজেলা প্রশাসনের মিটিংয়ে উত্থাপন করেছি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে) তপন কুমার ঘোষ বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর দখল করে গবাদিপশু পালনসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করার বিষয়টি জানি। বিষয়টি ইউএনও স্যারকেও অবহিত করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে) এবিএম সাদিকুর রহমান বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর দখলের বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মহিব্বুল্লাহ্ চৌধুরী/এএম/জেআইএম