কোচিংয়ে আসতে দেরি হওয়ায় ১৫ শিক্ষার্থীকে পেটালেন শিক্ষক
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার একটি স্কুলের কোচিংয়ে আসতে দেরি করায় ১৫ শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে আহত করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
স্কুলে কোচিং করা সরকারের নিষিদ্ধ করা সত্ত্বেও বীরদ্বর্পে কোচিং করিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে অর্থ। আর সেই কোচিংয়ে শিক্ষার্থীদের পেটানো হলো।
বুধবার উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের শিরাব এলাকায় অবস্থিত সোনারগাঁ আইডিয়াল স্কুলে কোচিংয়ে এ ঘটনা ঘটে। আর শিক্ষকের হাতে পিটুনিতে আহত শিক্ষার্থীদের নয়াপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। ঘটনার পর ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
খবর পেয়ে স্থানীয়রা স্কুলে এসে প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম দুলাল ও সহকারী শিক্ষক রাসেল মিয়ার বিচার দাবি করে বিক্ষোভ করে। একপর্যায়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আবু হোসেন চৌধুরী সাইদুল ওই শিক্ষকের বিষয়ে প্রশাসনের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়েরের আশ্বাস দিলে বিক্ষোভ তুলে নেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের শিরাব এলাকায় আইডিয়াল স্কুলে রমজান মাসে শিক্ষার্থীদের কোচিং করতে বাধ্য করা হয়। এছাড়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অন্যান্য সময় ৩০০ টাকা নিলেও রমজান মাসে ওই স্কুলের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা আদায় করার অভিযোগ করেছে শিক্ষার্থীরা।
ফলে ওই স্কুলে শিক্ষার্থীরা কোচিং করতে অপারগতা প্রকাশ করে। বুধবার সকালে শিক্ষার্থীরা দেরি করে কোচিং করতে যাওয়ায় ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম দুলাল ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষার্থীদের এলোপাতাড়িভাবে বেত দিয়ে পেটাতে থাকে।
একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা পাশের বাড়িতে আশ্রয় নিলে ওখানে গিয়ে পুনরায় প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম দুলাল ও সহকারী শিক্ষক রাসেল মিয়া দ্বিতীয় দফায় পেটাতে থাকে। শিক্ষকের বেত্রাঘাতে দশম শ্রেণির ছাত্রী তানজিলা, মাহফুজ, সুরভী আক্তার, নাইমা, মনিকা আক্তার, সানজিদা খানম, তানিয়া, সুমাইয়া, দিলারাসহ ১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়।
সোনারগাঁ আইডিয়াল স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী মনিকা আক্তার জানায়, স্কুলে কোচিংয়ে আসতে দেরি হওয়ার প্রধান শিক্ষক ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের এলোপাতাড়িভাবে পিটিয়েছে। একপর্যায়ে আমরা পাশের বাড়িতে আশ্রয় নিলে ওইখানে গিয়ে রাসেল স্যারসহ আমাদের পুনরায় পিটিয়ে আহত করে।
শাহজাহান নামের এক অভিভাবক বলেন, এই অঞ্চলের মানুষ সবচেয়ে বেশি দরিদ্র। এখানে প্রতিমাসে অতিরিক্ত ৫০০ টাকা করে কোচিং ফি দেয়ার মতো সামর্থ্য নেই আমাদের। এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক কোচিং করতে বাধ্য করেন। এতে করে আমরা অসহায় হয়ে পড়ি।
শিক্ষার্থী সানজিদা আক্তার বলেন, সহকারী শিক্ষক রাসেল মিয়া মেয়ে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সময়ে কুপ্রস্তাব দিয়ে থাকে। আমাকেও সে কুপ্রস্তাব দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরিচলনা কমিটির কাছে বিচার দেয়ার সে আমাদেরকে ক্ষিপ্ত হয়ে বেশি গাছের ডাল দিয়ে পিটিয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আবু হোসেন চৌধুরী সাইদুল বলেন, শিক্ষার্থীদের পিটিয়ে আহত করার খবর পেয়ে আমি এসে প্রশাসনের কাছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেয়ার আশ্বাস দিয়ে এলাকাবাসীকে বিক্ষোভ থেকে বিরত রাখি। এ সময় শিক্ষার্থীরা শিক্ষক রাসেলের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ তুলে।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এসএম আবু তালেব বলেন, এবিষয়ে আমি জেনেছি। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোনারগাঁ আইডিয়াল স্কুলের প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম দুলালের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শিক্ষার্থীদের পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ সত্য নয়।
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাহিনুর ইসলাম বলেন, ঘটনাটি মর্মান্তিক। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মো: শাহাদাত হোসেন/আরআইপি