ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

এখনো নিখোঁজ কক্সবাজারের অর্ধশতাধিক জেলে

প্রকাশিত: ০১:৫২ পিএম, ০১ জুন ২০১৭

কক্সবাজারে ঘূর্ণিঝড় মোরা’র আঘাতে ১১টি মাছ ধরার ট্রলারসহ নিখোঁজ শতাধিক জেলের মধ্যে অর্ধশত জেলেকে উদ্ধার করেছে নৌবাহিনীর সদস্যরা। বাকিদেরও উদ্ধারে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে বোট মালিক সমিতি এবং কোস্টগার্ড।

বুধবার রাতে কুতুবদিয়ার পশ্চিম সাগর থেকে নৌবাহিনী এবং ফিশিং বোটের লোকজন ২৫ জেলেকে উদ্ধার করেছে। আর বৃহস্পতিবার ভোররাতে ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতে উদ্ধার ৩০ জনকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জেলে উদ্ধার হলেও কোনো ট্রলার উদ্ধারের খবর তারা পাচ্ছেন না। মহেশখালী উপজেলা প্রশাসন ও বোট মালিকরা তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে এখনো আরও অর্ধশতাধিক জেলে নিখোঁজ রয়েছেন বলে দাবি করেছেন বোট মালিকরা।

জানা যায়, মঙ্গলবার ভোর থেকে শুরু হওয়া ঘুর্ণিঝড় মোরার তাণ্ডবে কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় ১১টি মাছ ধরার ট্রলার নিখোঁজ হয়। এসব ট্রলারে দেড় শাতাধিক জেলে রয়েছেন বলে জানিয়েছে বোট মালিক সমিতি। তবে বুধবার রাতে কুতুবদিয়ার পশ্চিম বঙ্গোপসাগর থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর (জাহাজ খাদেম) সদস্যরা ২০ জেলেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করে। এ সময় আরও পাঁচজন জেলেকে ফিশিং বোটের লোকজন উদ্ধার করেছে।

নিখোঁজ ট্রলারগুলোর মধ্যে মহেশখালীর আব্দু শুক্কুর কমিশনারের মালিকানাধীন এফবি ওয়ালিদ নামে দুটি এবং এফবি সায়েদ নামে একটি, খোরশেদের মালিকানাধীন এফবি মিতালি, মহেশখালীর পুটিবিলা এলাকার বাঁশি মাঝির একটি। এছাড়া সদর উপজেলার খুরুশকূল মামুন পাড়ার লুলাইয়া বহদ্দারের দুটি বড়শি ট্রলঅর নিখোঁজ রয়েছে। কুতুবদিয়া উপজেলায় চারটি ট্রলার নিখোঁজ রয়েছে। তবে এসব ট্রলারের মালিকানা নিশ্চিত করতে পারেনি উপজেলা প্রশাসন।

ট্রলার মালিক আব্দু শুক্কুর বলেন, ঘুর্ণিঝড় শুরুর তিনদিন আগে আমার মালিকানাধীন তিনটি নৌকা নিয়ে ৬১ জন মাঝিমাল্লা সাগরে মাছ ধরতে যান। বুধবার রাত পর্যন্ত তাদের কোনো খোঁজ পায়নি। নিখোঁজ জেলেদের সন্ধান ও উদ্ধারের জন্য অপর একটি ট্রলার সাগরে পাঠিয়েছি। শুনেছি বৃহস্পতিবার সকালে ভারতীয় নৌবাহিনী বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে বাংলাদেশি ৩০ জেলেকে হস্তান্তর করেছে। তাদের মাঝে আমার মালিকানাধীন এফবি সায়েদ এর ১৭ জন জেলে রয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছি। তারা চট্টগ্রাম নৌবাহিনীর কাছে রয়েছে।

এদিকে কক্সবাজার বোট মালিক সমিতির এক সভায় জানানো হয় এ পর্যন্ত তাদের সমিতিভুক্ত ৪ টি নৌকা নিখোঁজ রয়েছে। এছাড়াও সমিতির বাইরে দুটি বড়শি ট্রলারও নিখোঁজ রয়েছে। এ ব্যাপারে সমিতির তত্ত্বাবধায়নে বোট মালিক পক্ষ থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন।

তিনি বলেন, আমাদের সমিতিভুক্ত যেসব নৌকা রয়েছে সেখানে চারটি নৌকা নিখোঁজের খবর আমরা জানতে পেরেছি। তবে এখনো নিহতদের কোনো খবরা-খবর আমাদের কাছে নেই। আমরা প্রশাসনের সহযোগিতায় নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যারা উদ্ধার হয়েছে তাদের ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা চলছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

কক্সবাজার কোস্টগার্ড অফিস সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম থেকে দুটি জাহাজ কক্সবাজারের উপকূলে এসে উদ্ধারের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। শতভাগ উদ্ধার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাবেন তারা।

কোস্টগার্ড কক্সবাজার স্টেশনের কন্টিজেন্ট কমান্ডার নয়ন বড়ুয়া বলেন, আমাদের কাছে নিখোঁজের কোনো তথ্য নেই। তবে শতভাগ নিশ্চিত হতে চট্টগ্রাম থেকে দুটি নৌবাহিনীর জাহাজ কক্সবাজারের উপকূলে টহলে আসবে। ভাসমান নৌকা কিংবা জেলে উদ্ধারের জন্য কাজ করবে তারা।

কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজন চৌধুরী বলেন, বুধবার রাতে কুতুবদিয়ার পশ্চিম সাগর থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং ফিশিং বোটের লোকজন ২৫ মাঝিমাল্লাকে উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে দুইজন বাঁশখালী এলাকার এবং বাকি ২৩ জন কুতুবদিয়া এলাকার বাসিন্দা। তাদেরকে বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

স্থানীয় জেলেদের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, কুতুবদিয়া উপজেলার চারটি নৌকা নিখোঁজ রয়েছে।

মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবুল কালাম বলেন, শুনেছি ভারতীয় নৌবাহিনী বাংলাদেশি ৩০ জেলেকে উদ্ধার করে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেছে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন জানান, ঘূর্ণিঝড়ে বিপদাপন্ন জেলেদের উদ্ধারে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। এখন পর্যন্ত কত জন নিখোঁজ রয়েছে তার সঠিক কোনো তথ্য নেই। এরপরও সংশ্লিষ্টদের বলা আছে বোট মালিকদের তথ্য মতো সহযোগিতা দিতে। সেভাবেই উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

সায়ীদ আলমগীর/আরএআর/পিআর