ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

১৩ বছরেও শেষ হয়নি ৪ কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণ

প্রকাশিত: ১১:৫০ এএম, ০৫ জুন ২০১৭

মাত্র চার কিলোমিটার দীর্ঘ মুক্তিযুদ্ধে শহীদ রফিক সড়ক পাকাকরণের কাজ ১৩ বছরেও শেষ হলো না। চলতি জুন মাসের মধ্যে কাজটি শেষ হবার কথা থাকলেও তা ঝুলেই রয়েছে। কাজটি এবারও হবে না।

এ কথা নিশ্চিত করে ঝিকরগাছা উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ জানায়, আগামী ডিসেম্বর নাগাদ পাকাকরণের কাজটি হতে পারে। মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদের স্মৃতি বিজড়িত রাস্তাটি পাকাকরণে এ দীর্ঘসূত্রতা দুঃখজনক বলে অনেকেই মন্তব্য করেন।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতি রক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে ২০০৪-০৫ সালে যশোর-বেনাপোল সড়কের লাউজানী থেকে শহীদ রফিকের কবরের পাশ দিয়ে লক্ষ্মীপুর হয়ে পাগলাদহ পর্যন্ত চার কিলোমিটার দীর্ঘ রফিক সড়ক প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করে কাজ শুরু করা হয়। প্রথম দফায় ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়। এ টাকায় যশোর-বেনাপোল থেকে শহীদ রফিকের কবর পর্যন্ত কাজ হয় দেড় হাজার ফুট, যা মোট কাজের ১০ শতাংশ।

একযুগ পর ২০১৫-১৬ বছর এক কিলোমিটার পরিমাণ কাজ হয়। ওই সময় ঝিকরগাছা উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ জানায়, ২০১৬-১৭ বছরের মধ্যে বাকি কাজ শেষ হবে।

এদিকে কাজের ধীর গতির কারণে একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতি সংরক্ষণে অবহেলা তো হচ্ছেই, অন্যদিকে ১৩ মাস আগে যে ১০ শতাংশের কাজ শুরু হয়েছিল বিভিন্ন স্থানে পিচ-খোয়া উঠে তা আবার সংস্কারের পর্যায়ে এসে গেছে। এলাকাবাসীও এই প্রধান যোগাযোগ মাধ্যমটির দূরবস্থার কারণে ভীষণ অসুবিধায় ভুগছেন।

লাউজানী অন্বেষা পাঠাগারের প্রস্তাবে রাস্তাটির নামকরণ করা হয় শহীদ রফিক সড়ক। ১৯৯৮ সালের ২ এপ্রিল এই সড়কের ফলক উন্মোচন করেন ঝিকরগাছা উপজেলার তৎকালীন নির্বাহী অফিসার তপন চন্দ্র মজুমদার।

এলাকাবাসী জানিয়েছেন, ১৩ বছরে দুই ধাপে সড়কটির দুই প্রান্ত থেকে পাকা হয়েছে। মাঝের সমস্যাবহুল অংশটুকু এখনও পাকা হয়নি। এতে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এলাকাবাসীর সমস্যা আগের মতই থেকে গেছে।

লক্ষ্মীপুর গ্রামের সমাজকর্মী আবদুল মাজিদ জানান, আদর্শ সবজি পল্লী বলে খ্যাত লক্ষ্মীপুর গ্রামের বিভিন্ন সবজি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে রাস্তাটির দূরবস্থার কারণে ট্রাকসহ পণ্য পরিবহনের অন্যান্য গাড়ি গ্রামটিতে ঢুকতে না পারায় ক্ষেতের ফসল ক্ষেতেই নষ্ট হয়। গ্রামে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। রাস্তার দূরবস্থার কারণে শিশু শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বর্ষা মৌসুমে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

ঝিকরগাছা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বর তবিবর রহমান উজ্জ্বল ও ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বর হিরামনি আক্তার জানান, বর্ষা মৌসুমে রাস্তায় হাঁটু সমান কাঁদা-পানির কারণে ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুল-কলেজে যেতে পারে না। এই রাস্তাটি ঝিকরগাছা উপজেলা সদর ও জেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম।

যোগাযোগের দুর্ভোগ লাঘবে ঝিকরগাছা ইউপি চেয়ারম্যান আমির হোসেন ঘেষ আর আধলা ইট দিয়ে কাঁদা এড়ানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু এতে সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি।

ঝিকরগাছা উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার শ্যামল কুমার বসু গত বছর মে মাসে জানিয়েছিলেন, ২০১৬-১৭ সালের মধ্যে রাস্তাটির পাকাকরণের বাকি কাজ অবশ্যই শেষ হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হতে আর এক মাসও সময় নেই।

এ বিষয়ে তিনি জানান, শহীদ রফিক সড়ক উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্তর্ভূক্ত। রাস্তাটির বাকি অংশের পাকাকরণের কাজ আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে হতে পারে।

মিলন রহমান/এমএএস/আরআইপি