ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

প্রেমের ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ : প্রতিবাদে ভাইয়ের উপর হামলা

প্রকাশিত: ০৭:০১ এএম, ০৮ জুন ২০১৭

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে প্রেমের ফাঁদে ফেলে কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ধর্ষণের প্রতিবাদ করায় ওই শিক্ষার্থীর ভাইয়ের দু’হাত ভেঙে দিয়েছে ধর্ষণকারী।

জানা গেছে, আসিফ মোল্লা (২৫) মির্জাপুর থানার দক্ষিণ কদমা গ্রামের জলিল মোল্লার ছেলে। এলাকায় তারা ধনাঢ্য এবং প্রভাবশালী। ধর্ষণের ঘটনায় ওই শিক্ষার্থী গত মঙ্গলবার মির্জাপুর থানায় আসিফকে প্রধান আসামি করে পাঁচজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। একই সঙ্গে আসিফ মোল্লার ভয়ে পাঁচদিন ধরে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

থানায় অভিযোগে বলা হয়েছে, আসিফ মোল্লা ওই শিক্ষার্থীর গোপন ভিডিও ধারণ করে। পরে তা ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং গত এক বছর যাবত শিক্ষার্থীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে বাধ্য করে। সর্বশেষ গত ২৩ মে ওই শিক্ষার্থীকে কৌশলে বাড়িতে ডেকে নেয় এবং জোরপূর্বক ধর্ষণ করে আসিফ।

বিষয়টি শিক্ষার্থীর বড় ভাই ওমর ফারুক জানতে পেয়ে প্রতিবাদ করেন এবং বিয়ে করতে আফিসকে চাপ দেন। পরে গত ২৮ মে আসিফ মোল্লা তার সহযোগীদের নিয়ে বান্দারচালা এলাকায় ওমর ফারুকের উপর হামলা চালায়। এ সময় তার দুই হাত ভেঙে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে প্রথমে জামুর্কী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এদিকে গতকাল বুধবার (৭ জুন) ওই শিক্ষার্থী মির্জাপুর প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করেছেন। তিনি জানান, আসিফের পরিবারসহ গ্রামের মাতাব্বররা তার মা-বাবাকে প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছেন। ফলে তার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।

এ ছাড়া শিক্ষার্থীর ভাইয়ের উপর হামলার ঘটনায় স্থানীয় মাতাব্বররা গ্রাম্য সালিশে আসিফ মোল্লাকে চার লাখ টাকা জরিমানা করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দক্ষিণ কদমা গ্রামের কয়েকজন গ্রাম্য মাতাব্বর বলেন, গ্রাম্য সালিশে ওমর ফারুকের উপর হামলা এবং তাকে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেয়ার অপরাধে আসিফ মোল্লাকে চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮ হাজার টাকা ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রশিদ মোল্লার কাছে জমা দেয়া হয়েছে এবং বাকি টাকা দেয়ার জন্য ১৫ দিনের সময় নিয়েছে আসিফের পরিবার।

ইউপি সদস্য রশিদ মোল্লার বলেন, কী ঘটনার কারণে ওমর ফারুকের উপর হামলা হয়েছে তা পরিবার থেকে বলা হয়নি। তবে হামলার ঘটনা সত্য হওয়ায় গত ৪/৫ দিন আগে গ্রামবাসী সালিশে মাধ্যমে ওমর ফারুকের চিকিৎসা খরচ বাবদ আসিফ মোল্লাকে চার লাখ টাকা জরিমানা করেন। এর মধ্যে ১৮ হাজার টাকা আমার কাছে জমা রয়েছে।

মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন ধর্ষণের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ঘটনাটি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এস এম এরশাদ/আরএস/পিআর