চৌহালীতে নির্মাণাধীন বাঁধের ১৫ মিটার বিলীন
সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে ১০৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন বাঁধে ২২ দিনের মাথায় তৃতীয় দফায় ধস নেমেছে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত এ ধসের বিস্তৃতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ মিটারে। নির্মাণ কাজে ত্রুটির কারণে বাঁধের জোতপাড়া অংশে এ ধস নেমেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এদিকে নদীভাঙন কবলিত এ অঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের এ বাঁধ ধসের ফলে যমুনা নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। তবে ধস ঠেকাতে বালুবোঝাই জিও টেক্স বস্তা ফেলে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড।
এলাকাবাসী ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানা যায়, সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর ভাঙনে বিপর্যস্ত চৌহালী উপজেলার পশ্চিম পাড়ের বাকি অংশ এবং টাঙ্গাইল জেলা রক্ষায় ১০৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭ কিলোমিটার তীর সংরক্ষণ বাঁধ গত ২০১৫ সালের ২৪ নভেম্বর শুরু হয়।
20170608164520.jpg)
যার প্রায় ৯৫ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। হঠাৎ করে বৃহস্পতিবার নদীর চৌহালীর বাধের জোতপাড়া অংশের উপরের অংশে ১৫ মিটার ও গভীরে ৬৭ মিটার ধসে যায়। বর্তমানে ধসে যাওয়া স্থানে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।
সাধারণ স্রোতে আকস্মিক এ ধসের ফলে এলাকাজুড়ে সবার মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বাঁধ সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই দফায়-দয়ায় এমন ভাঙন নির্মাণে স্লপিং কাজে অকার্যকর মাটি নিচে ফেলে ব্লক দেয়ায় তা সাধারণ স্রোতেই সরে গিয়ে এই ধস দেখা দিয়েছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছে। এতে মূল বাঁধটিও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান সিরাজ বলেন, বাঁধের ধসে যাওয়া অংশের তলাদেশে গর্তের সৃষ্টি হওয়ার জন্য এই ধসের মূল কারণ। বাঁধের উপরের ফেনসি অংশে ১৫ মিটার ও এর গভীরে প্রায় ৬৭ মিটার ধস দেখা দিয়েছে। তবে এতে আতঙ্কের কিছু নেই। কিছুদিনের মধ্যেই এর সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হবে। এতে মূল বাঁধ নির্মাণে কোন প্রভাব পড়বে না।
উলেখ্য, গত ২ ও ১৬ মে একইভাবে এ বাঁধের খগেনের ঘাট এবং আলিয়া মাদরাসা অংশে প্রায় ১২০ মিটারজুড়ে ধসে যায়।
ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এএম/জেআইএম