হাতে লেখা টিকেটে যাত্রী বিড়ম্বনা
নীলফামারীর চিলাহাটি এবং ডোমার রেলস্টেশনে ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেন নীলসাগর এক্সপ্রেসের টিকেট সরবরাহ নেই। এই ডিজিটাল যুগে নেই কম্পিউটারাইজ টিকেটের ব্যবস্থা। স্টেশন মাস্টারের হাতে লেখা টিকেটে (বিপিটি) বিঘ্ন ঘটছে যাত্রী সেবা।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে চিলাহাটি এবং চিলাহাটি থেকে ঢাকা সরাসরি ট্রেনটি চলাচল শুরু করে। গত ৩ মাসের অধিক সময় অতিবাহিত হলেও ওই দুই রেল স্টেশনে পৌঁছেনি রেল কর্তৃপক্ষের সরবরাহকৃত যাত্রী টিকেট। ফলে বিপিটি (ব্লাঙ্ক পেপার টিকেট) নামে স্টেশন মাস্টারের হাতে লেখা টিকেট দিয়ে চলছে কার্যক্রম। এ অবস্থা ট্রেনটির ঢাকা থেকে চিলাহাটির পথে নীলফামারী রেল স্টেশনেও। নীলফামারী পরবর্তী ডোমার এবং চিলাহাটি স্টেশনের টিকেট সরবরাহ না থাকায় হাতে লেখা টিকেট একমাত্র ভরসা। যাত্রী হয়রানির শিকার যাত্রীরা নীলফামারী, ডোমার এবং চিলাহাটি রেল স্টেশনে টিকেটের কম্পিউটার ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন।
নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটি বাজারের এমদাদুল হক জাগো নিউজকে বলেন, তিন মাস আগে ঢাকাগামী আন্তঃনগর নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা শুরু হয় চিলাহাটি স্টেশন থেকে। ঢাকাসহ ওই ট্রেনে ডোমার, নীলফামারী, সৈয়দপুর, পার্বতীপুরসহ বিভিন্ন স্থানে চলাচল করছে। কিন্তু চিলাহাটিতে যাত্রী টিকেট সরবরাহ না থাকায় ওই ট্রেন ভ্রমণে যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছনি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, স্টেশনে সকল ব্যবস্থা বিদ্যমান থাকলেও টিকেটের কম্পিউটার ব্যবস্থা চালু হচ্ছে না। এ কারণে যাত্রী ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
একই এলাকার ব্যবসায়ী আবুল কালাম জাগো নিউজকে বলেন, ওই ট্রেনের হাতে লেখা টিকেট সংগ্রহ করতে গেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অনেকে টিকেট সংগ্রহে এত সময় দিতে না পেরে বিনা টিকেটে ভ্রমণ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
নীলসাগর ট্রেনের যাত্রী সহিদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, গত বুধবার আমি নীলফামারী স্টেশন থেকে ডোমার আসি। স্টেশনে টিকেট না পেয়ে নিরুপায় হয়ে বিনা টিকেটে ভ্রমণ করি। এ কারণে ট্রেনে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়েছে। ছাপানো বা কম্পিউটার ব্যবস্থায় টিকেট পাওয়া গেলে আমার যেমন বিড়ম্বনা কমতো, তেমনি রেলের রাজস্ব বাড়তো।
নীলফামারী রেল স্টেশন মাস্টার ওবায়দুল ইসলাম এ বিষয়ে জাগো নিউজকে বলেন, নীলফামারীতে নীলসাগর ট্রেনের ঢাকা অভিমুখে যাওয়ার জন্য সকল স্টেশনের ছাপানো টিকেট সরবরাহ আছে। কিন্তু চিলাহাটি অভিমুখে যাওয়ার টিকেট সরবরাহ নেই। ফলে হাতে লেখা টিকেট দিতে হচ্ছে। স্টেশনে টিকেটের জন্য কম্পিউটার ব্যবস্থা এখনো চালু হয়নি উল্লেখ করে বলেন, কম্পিউটার ব্যবস্থা থাকলে এমন সমস্যা হতো না। পাশাপাশি অনেক বিড়ম্বনা কমতো।
চিলাহাটি রেল স্টেশন মাস্টার জাহাঙ্গীর আলম জাগো নিউজকে বলেন, চলতি বছরের ২৮ ফ্রেরুয়ারি নীলসাগর ট্রেনটি চিলাহাটি থেকে ঢাকা চলাচল শুরু করে। কিন্তু শুরু থেকে এখানে কোনো ছাপানো টিকেট দেয়া হয়নি। আমাদের এমনিতে জনবল কম, তার ওপর হাতে লেখা টিকেট দিতে সময় বেশি লাগে। স্টেশনে ঢাকা যাওয়ার আসন বরাদ্দ আছে সাধারণ ৪৫টি এবং এসি বাথ দুটি। এর বাইরেও বিভিন্ন স্টেশনে যাওয়ার টিকেট দিতে হয়।
ডোমার রেল স্টেশনের বুকিং সহকারী মাহবুবার রহমান জাগো নিউজকে বলেন, এখানে এখনো কম্পিউটার ব্যবস্থা চালু হয়নি। আর ছাপানো টিকেট না থাকার নীলসাগর ট্রেনের যাত্রীদের কাছে হাতে লেখা টিকেট দিতে হচ্ছে। হাতে লেখা টিকেট দিতে একটু সময় বেশি লাগে। এর ওপর গত দুই মাস পূর্বে স্টেশন মাস্টার আনোয়ার হোসেনকে প্রত্যাহার করে নীলফামারীতে দেয়া হয়েছে। ফলে আমি একা হয়ে আরও বিপদে পড়েছি।
জাহেদুল ইসলাম/এমজেড/এমএস