ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

পুলিশ হেফাজতে আসামির মৃত্যুর ঘটনায় মামলা

প্রকাশিত: ১১:৪৩ এএম, ১১ জুন ২০১৭

গাইবান্ধায় পুলিশ হেফাজতে অপহরণ মামলার আসামি রিপন চন্দ্র দাসের মৃত্যুর ঘটনায় সুন্দরগঞ্জ থানার চার পুলিশ, এক ইউপি সদস্যসহ ১০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।

রোববার দুপুরে রিপন চন্দ্র দাসের বাবা বাবলু চন্দ্র দাস বাদী হয়ে গাইবান্ধার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন। আদালতের বিচারক জয়নাল আবেদীন মামলাটি আমলে নিয়ে গাইবান্ধা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন। আদালতের কোর্ট ইন্সপেক্টর (জিআরও) মো. জামাল উদ্দিন মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার আসামিরা হলেন সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রাজু আহম্মেদ, পুলিশ কনস্টেবল শাহানুর আলম, মোস্তাফিজার রহমান ও নার্গিস বেগম, ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মমতাজ আলী, রিপনের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলার বাদী সুরেশ চন্দ্র দাস, তার মেয়ে চম্পা রানী দাস, প্রতিবেশী আলম মিয়া, অমল চন্দ্র ও রতন চন্দ্র।

মামলার এজাহারে বাদী বাবলু চন্দ্র দাস উল্লেখ করেন, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামের বাবলু চন্দ্র দাসের ছেলে রিপনের সঙ্গে প্রতিবেশী সুরেশ চন্দ্র দাসের মেয়ে চম্পা রানীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

দুইজনে ঘর বাঁধার স্বপ্নে গত ২৯ মে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে বগুড়ার কাহালুতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে বিয়ে করে। এ ঘটনায় চম্পার বাবা সুরেশ চন্দ্র বাদী হয়ে অপহরণের অভিযোগে সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন।

পরে সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশের এসআই রাজু আহম্মেদের নেতেৃত্বে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোন্তাজ আলীসহ সঙ্গীয় পুলিশ গোপন খবরে অভিযান চালিয়ে ১ জুন দুপুরে কাহালুর আত্মীয়ের বাসা থেকে চম্পাকে উদ্ধার করে ও রিপনকে গ্রেফতার করে।

এরপর তাদেরকে মাইক্রোবাসে করে কাহালু থেকে সুন্দরগঞ্জ থানায় নিয়ে আসা হচ্ছিল। পথে পুলিশ ইউপি সদস্য মোন্তাজ উদ্দিনের পরোক্ষ সহযোগিতায় রিপনকে মাইক্রোবাসে গলাটিপে হত্যা করে। পরে ট্রাকচাপায় রিপনের মৃত্যুর বিষয়ে অপপ্রচার চালায় পুলিশ।

সুন্দরগঞ্জ থানার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ মে রিপন চন্দ্র দাস হাতিয়া গ্রামের একটি মেয়েকে (১৪) অপহরণ করে। এই ঘটনায় ওই মেয়েটির বাবা রিপন চন্দ্র দাসকে আসামি করে ৩১ মে রাতে সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন।

১ জুন দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বগুড়ার কাহালু উপজেলা শহরের একটি বাড়ি থেকে ওই মেয়েটিকে উদ্ধার করা হয়।

এ সময় রিপন চন্দ্র দাসকে গ্রেফতার করে একটি মাইক্রোবাসে করে সুন্দরগঞ্জে আনা হচ্ছিল। পথে রিপন প্রস্রাব করার কথা বললে পুলিশ তাকে পলাশবাড়ী উপজেলার মহাসড়কের পাশে নামিয়ে দিলে রিপন প্রস্রাব শেষ না করেই দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। সেসময় রংপুরগামী একটি ট্রাকের ধাক্কায় রিপন চন্দ্র দাস ঘটনাস্থলেই মারা যান।

রিপনের মৃত্যুর ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ২ জুন রাতে সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রাজু আহম্মেদ, পুলিশ কনস্টেবল শাহানুর আলম, মোস্তাফিজার রহমান ও নার্গিস বেগমকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। এছাড়া ঘটনাটি তদন্ত করতে পুলিশের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

রওশন আলম পাপুল/এএম/পিআর