পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে : সন্তু লারমা
শুক্রবার রাঙ্গামাটিতে আয়োজিত হেডম্যান সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সন্তু লারমা
পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা অভিযোগ করে বলেছেন, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। জুম্ম জনগণ প্রতিটি মুহূর্তে নানা শোষণ, নিপীড়ন, অন্যায়, অবিচার, বঞ্চনার শিকার হচ্ছে। নিরাপত্তার অভাবে সীমান্তবর্তী জুম্মদের অনেকে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত ও মিয়ানমার আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে। শুক্রবার রাঙ্গামাটিতে শুরু হওয়া ঐতিহ্যবাহী প্রথাগত নেতৃত্ব মৌজাপ্রধান হেডম্যানদের দু’দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সন্তু লারমা এসব কথা বলেন।
সকাল ১০টায় রাঙ্গামাটির ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্ক আয়োজিত হেডম্যান সম্মেলন-২০১৫ উদ্বোধন করেন রাঙ্গামাটির চাকমা সার্কেল চিফ রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়।
সংগঠনের সভাপতি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজুরী চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী পর্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, খাগড়াছড়ির মং সার্কেল চিফ রাজা সাচিং প্রু চৌধুরী, ইউএনডিপি-সিএইচটিপিএফ প্রকল্পের ডেপুটি ডিরেক্টর প্রসেনজিৎ চাকমা ও আইএলওর ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটর আলেক্সিউস চিছাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক শান্তি বিজয় চাকমা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সন্তু লারমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে এখন কীভাবে জুম্ম জনগণকে ভূমিহারা ও তাদের অস্তিত্ব বিলোপ করা যায় সেই বাস্তবতা চলছে। এখানে বরাবরের মতোই চলছে উপনিবেশিক কায়দায় শাসনব্যবস্থা। জুম্ম জনগণের ওপর চলছে নির্যাতন, নিপীড়ন, অন্যায়, অবিচার, অনাচার। ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি উপনিবেশিক শাসকগোষ্ঠী যেভাবে পার্বত্য অঞ্চল শাসন করেছে ঠিক একই কায়দায় বর্তমান বাংলাদেশের শাসকগোষ্ঠীও তা অব্যাহত রেখেছে। 
শুক্রবার রাঙ্গামাটিতে অনুষ্ঠিত হেডম্যান সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মঞ্চে সন্তু লারমা, চাকমা রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়, মং রাজা সাচিং প্রু চৌধুরীসহ উপবিষ্ঠ অতিথিরা
সন্তু লারমা আরো বলেন, পার্বত্যাঞ্চলের বর্তমান সার্বিক অবস্থা স্বাভাবিক নয়। এখানে এখনও সেনা কর্তৃত্ব বিরাজমান। দীঘিনালা, রুমা, আলীকদম, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান সেনানিবাস থেকে শুরু করে পার্বত্য অঞ্চল জুড়ে সেনা ও বিজিবি ঘাঁটি স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া কাপ্তাইয়ে স্থাপন করা হয়েছে নৌবাহিনীর একটি ঘাঁটি। নিরাপত্তা ও সীমান্ত রক্ষাসহ নানা দোহাই দিয়ে গোটা পার্বত্য চট্টগ্রামকে সেনানিবাসে পরিণত করা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামকে ইসলামি অধ্যুষিত অঞ্চলে পরিণত করার ষড়যন্ত্র চলছে। উন্নয়নের নামে জোর করে রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজ চালু করা হয়েছে। জুম্ম জনগণের আপত্তির মুখেও জোর করে চাপিয়ে দিয়ে রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্বদ্যিালয় চালুর পায়তারা চলছে।
সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হয় বিকাল ২টায়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ২৯৯পার্বত্য রাঙ্গামাটি আসনের সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার। সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সহ-সভাপতি শক্তিপদ ত্রিপুরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় পর্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মো. সামসুল আরেফিন, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য নিরূপা দেওয়ান ও রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অরুণ কান্তি চাকমা।
সুশীল চাকমা/এসএস/পিআর
সর্বশেষ - দেশজুড়ে
- ১ বিদ্যুতের অপরিকল্পিত খুঁটি-তারে ঝুঁকিতে চাঁদপুর শহরবাসী
- ২ ইব্রাহিম নবীর কোরবানির চেয়েও জামায়াত নেতার কোরবানি বড়!
- ৩ চা বাগানের ৬৯ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাবঞ্চিত ৯ হাজার শিশু
- ৪ খালেদা জিয়ার দোয়া অনুষ্ঠানে বিএনপির দুই গ্রুপের হট্টগোল
- ৫ দুই ঠিকাদারের ঠেলাঠেলিতে আটকা ২০ ফুট রাস্তা, দুর্ভোগে শহরবাসী