তরুণীদের ক্রেজ বাহুবলী-২ তরুণদের কাটাপ্পা
এবারের ঈদে তরুণদের ক্রেজ হলো, ‘কাটাপ্পা পাঞ্জাবি’। ভারত থেকে আসা ঈদের সেরা আকর্ষণ। ‘বাহুবলী-২’ ছবির আলোচিত চরিত্র কাটাপ্পার পোশাকের আদলে এই পাঞ্জাবি। দাম তিন থেকে ছয় হাজার টাকা।
পাওয়া যাচ্ছে শহরের বিভিন্ন অভিজাত শোরুমে। আর মেয়েদের ক্রেজ হলো বাহুবলী-২। এটিও এবারের ঈদের সেরা আকর্ষণ। ভারত থেকে আনা। দাম ৩ থেকে ১৫ হাজার টাকা। নামের সঙ্গে মিলিয়ে ধুমছে চলছে বিক্রি।
দিনে প্রচণ্ড গরমে মার্কেটগুলোর বেচাকেনা কিছুটা হালকা হলেও মধ্যরাতে ঈদের কেনাকাটায় সরগরম এখন বগুড়া শহরের মার্কেট-বিপণী কেন্দ্র। একই অবস্থা অভিজাত শপিং সেন্টারের ফ্যাশন হাউজগুলোতেও।
জমজমাট ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত ক্রেতারা। ভিড়ে দম ফেলানোর সুযোগ নেই বিক্রয়কর্মীদের। প্রায় সবগুলো দোকানে একদরে কেনাবেচা চলছে।
একটি পোশাকের দোকানে খুব আগ্রহ নিয়ে কয়েকটি থ্রিপিস দেখছিলেন কলেজছাত্রী হিরা ও আনামিকা নামের দুইজন ক্রেতা। বিক্রয়কর্মী বললেন, আপা লন বাহুবলী-২। এই ঈদের সেরা আকর্ষণ। ভারত থেকে আনা।
বগুড়া শহরের অভিজাত শপিং সেন্টার রানার প্লাজাতে সোমবার রাতের চিত্র এটি। দেখা গেলো আলো ঝলমলে শপিং সেন্টারের সবগুলো পোশাকের দোকানেই জমে উঠেছে জমজমাট ঈদবাজার। এখানে আবার সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ধুমছে কেনাবেচা চলছে এখানে। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ক্রেতার ভিড় তত বাড়ছে। একই চিত্র জলেশ্বরীতলার নামিদামি ফ্যাশন হাউজগুলোতেও। মধ্যরাত পর্যন্ত সরগরম সবখানে।

ব্যবসায়ীরা জানান, রোজার প্রথম থেকেই সরগরম মার্কেট বিপণী কেন্দ্র। সকাল থেকে সাহরির সময় পর্যন্ত ক্রেতাদের ঢল নামছে। বিক্রেতারা জানান, এবার বেচাবিক্রিও অন্যবারের চেয়ে ভালো। রানার প্লাজায় গিয়ে দেখা গেল, নতুন চালু করা আড়ংয়ের শোরুমে ক্রেতাদের প্রচণ্ড ভিড়।
আড়ংয়ের আউটলেট সুপারভাইজার তৌহিদ হোসেন বলেন, ক্রেতারা এখানে ইচ্ছে মতো কেনাকাটা করতে পারছেন। কারণ পরিবারের সব বয়সীদের পছন্দের পোশাক রয়েছে এখানে। ঈদে তরুণীদের বেশি পছন্দ জিন্সের প্যান্টের সঙ্গে মানানসই ড্রেস ‘তাগা’। দাম ৭ হাজার থেকে ৭ হাজার ৫০০ টাকা।
এছাড়া পাঁচ থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে মাসলিন, হাফ সিল্ক, জামদানি, মীরপুর কাথান শাড়ি পাওয়া যাচ্ছে এখানে। ছেলেদের পাঞ্জাবি মিলছে এক থেকে সাত হাজার টাকা এবং শার্ট সাড়ে ৬০০ থেকে আড়াই হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।
এই মার্কেটে অন্যান্য আউটলেটের মধ্যে ওয়েস্টার্ন, ডেলিকেট, নকশী ফ্যাশন, ফ্যাশন ফেয়ারল্যান্ড, ড্রেসস্পট, নারী ফ্যাশন, গুড উইল, অপহ্নরী ফ্যাশন, মিট মি, মাত্রা, সবুজ কানন, ট্রেন্ডি ফ্যাশন, ক্যাটকিন, আরশি ফ্যাশন, গোল্ডেন আই, নববী, মহুয়া ফ্যাশন, ক্যাটস আই, প্রিন্স গ্যালারি এবং প্যান্টহাউজসহ বিভিন্ন দোকানে।
তৃতীয় তলার রনি ক্লথ স্টোরের বিক্রয় ব্যবস্থাপক সোহাগ বলেন, জর্জেট, অরগেন্ডি, মন্টিসের ফ্লোর টাচ থ্রিপিস, ভারতীয়-পাকিস্তানি জর্জেট, সিল্ক, সুতির হাতের কাজ করা লং গাউন, লং কুর্তি, আনস্ট্রিজ, গাউন থ্রিপিসের মধ্যে ঈদে সেরা আকর্ষণ মেয়েদের পোশাক বাহুবলী-২। এর দাম সাড়ে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা।
এছাড়া লাভিনা, এভন ও ভারসা সাড়ে তিন থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার, অমটেক্স অন্তর তিন থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার, বুটিকস-এর পিউর জর্জেট জারা সাড়ে ৪ থেকে সাতহাজার, পিউর জর্জেট চারহাজার, পাকিস্তানি কটন বুটিকস সাড়ে তিন থেকে সাড়ে ৬ হাজার এবং সুতি কটন ৭০০ থেকে আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

জলেশ্বরীতলার শহীদ আবদুল জোব্বার সড়ক, রোমানা আফাজ সড়ক, পৌরসভা লেন, কালিবাড়ি মোড়, নূর মসজিদ লেনের ফ্যাশন হাউজ, শপিং মল, বিপণীবিতান ও পোশাকবিপণীতেও জমে উঠেছে ঈদবাজার। সব দোকানেই একাদামে পোশাক বিক্রি হচ্ছে।
শহীদ আবদুল জোব্বার সড়কের ‘লা ভোগ’ ফ্যাশনহাউজের ব্যবস্থাপক রিফাত আহমেদ বলেন, একসঙ্গে বিশ্বমানের পোশাক ও খাবারের আয়োজন নিয়ে বগুড়ায় লা ভোগ যাত্রা শুরু করেছে লাভোগ। এখানে সব বয়সীদের পোশাক রয়েছে। ঈদে সেরা আকর্ষণ মেয়েদের সিল্কের থ্রিপিস ‘খোয়াব’ বিক্রি হচ্ছে সাড়ে পাঁচ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা। লেহেঙ্গা বিক্রি হচ্ছে দুই থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকায়।
বিক্রেতারা জানান, এবারের ঈদ ফ্যাশনে ভারতীয় পোশাকের জয়জয়কার চলছে। এর মধ্যে বাহুবলী-২ সাড়ে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার, লাভিনা, এভন ও ভারসা সাড়ে তিন থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার, অমটেক্স অন্তর তিন থেকে সাড়ে পাঁচহাজার, বুটিকস’র পিউর জর্জেট জারা সাড়ে ৪ থেকে সাতহাজার, পিউর জর্জেট চারহাজার, পাকিস্তানি কটন বুটিকস সাড়ে তিন থেকে সাড়ে ৬ হাজার এবং সুতি কটন ৭০০ থেকে আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
লিমন বাসার/এএম/এমএস