ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বেনাপোল দিয়ে দিনে ৯ হাজার যাত্রীর ভারত যাতায়াত

প্রকাশিত: ০২:১২ পিএম, ১৪ জুন ২০১৭

রমজান ও ঈদ উপলক্ষে যশোরের বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতে গমনাগমন বাড়তে শুরু করেছে। এখন ঈদের কেনাকাটায় যাতায়াত বাড়লেও ক’দিন পর থেকে ঈদ অবকাশ যাপনে এ হার আরও বৃদ্ধি পাবে। এখন প্রতিদিন বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রায় ৭ হাজার বাংলাদেশি ভারতে যাতায়াত করছে।

ঈদের ছুটিকে ঘিরে এ সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গতবারের তুলনায় এ সংখ্যা দ্বিগুণ। গতবছর ঈদের ছুটিকে ঘিরে ১০দিনে ৫০ হাজার ৬১৬ পাসপোর্ট যাত্রী বেনাপোল-হরিদাশপুর চেকপোস্ট দিয়ে যাতায়াত করেছিলেন।

বেনাপোল বন্দর সূত্র জানায়, দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর ও আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট বেনাপোল ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের প্রধান নগরী কলকাতার দূরত্ব মাত্র ৮৪ কিলোমিটার। আর যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় অল্প খরচে-স্বল্প সময়ে কলকাতাসহ ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে অনায়াসে যাওয়া যায়। অন্যান্য সময়ে প্রতিদিন ৩ থেকে ৫ হাজার পাসপোর্ট যাত্রী বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতে গমনাগমন করেন। রমজানের শুরু থেকে এ সংখ্যা বেড়েছে। এখন গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৭ হাজার পাসপোর্ট যাত্রী বেনাপোল দিয়ে ভারতে যাতায়াত করছেন।

সূত্র আরও জানিয়েছে, গত ১ জুন থেকে ১২ জুন পর্যন্ত বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ৮৩ হাজার ১৬৬ জন পাসপোর্ট যাত্রী ভারতে গমনাগমন করেছেন। এদের মধ্যে ভারতে গেছেন ৪৬ হাজার ৭৬৬ জন। এর মাধ্যমে রাজস্ব আয় হয়েছে প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ টাকা। আর ওই সময়ের মধ্যে ভারত থেকে ফিরেছেন ৩৬ হাজার ৪০০ জন।

বুধবার সকালে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে যাওয়া শহীদুল ইসলাম জানান, তিনি পরিবারের জন্য ঈদের কেনাকাটা করতে কলকাতা যাচ্ছেন। ঢাকার চেয়ে কলকাতায় যাতায়াত সহজ এবং দামও নাগালের মধ্যে হওয়ায় তিনি মাঝে মধ্যেই কলকাতায় যান।

কলকাতা থেকে ফিরে আসা মিজানুর রহমান জানান, ঈদকে সামনে রেখে দু’দিন আগে তিনি কলকাতায় গিয়েছিলেন কিছু পোশাক কিনতে। যাওয়ার সময় বেনাপোলে তেমন সমস্যা না হলেও ওপারে ভিড়ের কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। তবে তারপরও মূল্য তুলনামূলক কম হওয়ায় তিনি ভারত থেকে কেনাকাটা করে এসেছেন।

রমজানের শুরুর এই ভারত যাতায়াত ঈদের ছুটির সময় আরও বাড়বে। কারণ ঈদের ছুটিতে বেড়ানো, কেনাকাটা, চিকিৎসা, আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ, ব্যবসা ইত্যাদি কাজে ভারতে যাওয়ার জন্য ধুম পড়ে যায়। এবার ২৩ জুন থেকে ঈদের টানা ছুটি শুরু হয়ে যাচ্ছে। ফলে ওই সময়ে ভারতে গমনের হার সাধারণ সময়ের চেয়ে কয়েকগুণ বেড়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত বছর ঈদের ছুটিকে ঘিরে ১০ দিনে ৫০ হাজার ৬১৬ পাসপোর্ট যাত্রী বেনাপোল-হরিদাশপুর চেকপোস্ট দিয়ে যাতায়াত করেছিলেন। সে হিসেবে গড়ে সাড়ে ৫ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেছিলেন। এ বার এ সংখ্যা ৯ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

এই সময়ে যাত্রীদের যাতে দুর্ভোগে না পড়তে হয় সেজন্য বেনাপোল চেকপোস্টে পাসপোর্টের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার প্রস্তুতিও রেখেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে দুর্ভোগে পড়তে হয় ভারতীয় চেকপোস্টে গিয়ে। সেখানে দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। সেখানে ধীরগতির ইমিগ্রেশন কাজের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন ওসি ওমর শরীফ জানান, রমজানের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত গড়ে ৭ হাজার পাসপোর্ট যাত্রী প্রতিদিন বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশ-ভারত যাতায়াত করছে। ঈদের সময়ে এ সংখ্যা ৯ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। কারণ সাধারণত ঈদের ছুটিতে ভ্রমণ পিপাসু মানুষের ভারতে ভ্রমণে যাওয়ার আগ্রহ থাকে। এ জন্য ওই সময়ে চেকপোস্টে বাড়তি চাপ থাকে। তবে যাত্রীরা যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করতে পারেন, এজন্য ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে ডেস্কের সংখ্যা দ্বিগুণ করা হয়েছে। আগে যাওয়া এবং আসার প্রক্রিয়া সম্পন্নের জন্য ৪টি করে মোট ৮টি ডেস্ক ছিল। এখন তা ৮টি করে মোট ১৬টি করা হয়েছে। এছাড়া গরমে যাত্রীরা যাতে কষ্ট না পান সে জন্য ভবনের মধ্যে পর্যাপ্ত ফ্যানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারা পাসপোর্ট যাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার চেষ্টা করছেন বলেও জানিয়েছেন ইমিগ্রেশন ওসি ওমর শরীফ।

এমএএস/পিআর