ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

থানা থেকে নিখোঁজ চিকিৎসকের বিষয়ে আরও তিনজনের জবানবন্দি

প্রকাশিত: ০৩:৩১ এএম, ১৫ জুন ২০১৭

জঙ্গি সন্দেহে তিন দিন থানা লকআপে আটক রাখার পর হোমিও চিকিৎসক সাতক্ষীরা শহরের কুকরালির ডা. মোখলেছুর রহমান জনির নিখোঁজ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বুধবার হাইকোর্টের নির্দেশে আরো তিনজনের জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন সাতক্ষীরার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হাবিবুল্লাহ মাহমুদ।


জবানবন্দি দাতারা হলেন, নিখোঁজ ডা. মোখলেছুর রহমানের চাচা ও দু’জন গ্রামবাসী। এ নিয়ে মোট সাতজন বিচারকের কাছে জবানবন্দি দিলেন।

সাতক্ষীরা শহরের কুকরালির হোমিও চিকিৎসক ডা. জেসমিন নাহার রেশমা জানান, গত বছরের ৪ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে অসুস্থ বাবার জন্য বাইসাইকেলে ওষুধ কিনতে গেলে লাবনী সিনেমা হলের নিচে একটি ফটোকপির দোকানের সামনে থেকে মোড় সদর থানার উপপরিদর্শক হিমেল তার স্বামী হোমিও চিকিৎসক মোখলেছুর রহমান জনিকে থানায় ধরে নিয়ে যান।

৫, ৬ ও ৭ আগস্ট তিনি শ্বশুর ও স্বজনদের নিয়ে থানা লকআপে তাকে খাবার দিয়েছেন, তার সঙ্গে কথা বলেছেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমদাদুল হক শেখ ও উপপরিদর্শক হিমেলের সঙ্গে কথা বললে জনির জঙ্গি সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জানানো হয়। স্বামীর মুক্তির বিনিময়ে তৎকালিন থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমদাদুল হক শেখ ও উপপরিদর্শক হিমেল তার কাছে মোটা অংকের টাকাও দাবি করেন।

কিন্তু ৮ আগস্ট থানায় গেলে জনিকে পাওয়া যায়নি। পুলিশও জনির অবস্থান সম্পর্কে জানাতে পারেনি। বিষয়টি তারা সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি, ক্ষমতাসীন দলের নেতা, মানবাধিকার কর্মী, জেলা প্রশাসক ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। ২৪ আগস্ট জানানো হয় সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারকে। পরে ২৬ ডিসেম্বর সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি।

একের পর এক হয়রানি হওয়ার পর বাধ্য হয়ে তিনি চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। স্বামীর খোঁজে সাত মাস ধরে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ধর্ণা দিয়েছেন তিনি। এক পর্যায়ে তার সন্ধান না করতে পেরে গত ২ মার্চ হাইকোর্টে রিট পিটিশন (২৮৩৩/১৭) দাখিল করেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মহাপুলিশ পরিদর্শক, উপমহাপুলিশ পরিদর্শক (খুলনা), সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক, সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, উপপরিদর্শক হিমেল ও সাতক্ষীরা কারাগারের জেলরকে বিবাদী করা হয়।

পরবর্তীতে বিবাদীপক্ষের জবাব ও পুলিশ প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে গত ৯ মে হাইকোর্টের বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ আগামী ৩ জুলাই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সাতক্ষীরার মুখ্য বিচারিক হাকিমকে নির্দেশ দেন। আগামী ৩ জুলাই এ মামলাটি শুনানীর জন্য কার্যতালিকায় রাখার জন্য বলা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস।

মুখ্য বিচারিক হাকিমের নির্দেশে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হাবিবুল্লাহ মাহমুদ গত বুধবার প্রথম দফায় রিট পিটিশনকারি জেসমিন নাহার ও গত বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফায় তিনজন ও বুধবার তৃতীয় দফায় তিনজনের জবানবন্দি গ্রহণ করেন।

আকরামুল ইসলাম/এফএ/পিআর