ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

সোনারগাঁওয়ে আ.লীগের দু`গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষ : আহত ৫০

প্রকাশিত: ০১:৪৬ পিএম, ১৬ মে ২০১৫

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলায় আওয়ামী লীগের দু`গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় অর্ধ-শতাধিক বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থায় আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে শুরু হয়ে দুপুর পর্যন্ত দফায় দফায় এ সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষে কামাল মেম্বার, দাইয়ান মেম্বার, ইব্রাহিম ওরফে ইবু, অহিদুল, জুয়েল, আব্দুল আলী, আছিয়া, রহিমা, সোহেল সরকার, জাকির সরকার, মনু, সোলায়মান, জনি, লিলি, বিল্লাল, সৈকত ও ইনিসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়।  

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার দুপুরে বারদী ইউনিয়নের দৌলরদী গ্রামের এক বিয়ে বাড়িতে দাওয়াতে গিয়ে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. জহিরুল হকের সঙ্গে একই ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেনের বাকবিতাণ্ডা হয়। আর এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরে দু`গ্রুপের লোকজনের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় গ্রুপের মধ্যে মারামারি শুরু হলে বিয়ে বাড়িতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বারদী বাজারে প্রায় চারটি দোকান ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ হামলার ঘটনায় উভয় গ্রুপের বেশ কয়েকজন আহত হয়।
 
তারা আরো জানায়, শুক্রবারের ঘটনার জের ধরে শনিবার সকালে আবারো নতুন করে দু`গ্রুপের মধ্যে কয়েক ঘন্টা সংঘর্ষ দুপুর পর্যন্ত চলে। এ সময় ইউপি চেয়ারম্যান জহির ও কামাল গ্রুপের কয়েকশত লোকজন টেটা, শাবল, রামদা, লাঠিসোটা ও দেশিয় অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়েছে। এ সময় অর্ধ-শতাধিক বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

এ ব্যাপারে বারদী ইউপি চেয়ারম্যান জহিরুল হক জানান, শুক্রবার সকালে দৌলরদী গ্রামের এক বিয়ে বাড়িতে কামাল মেম্বার তার লোকজন নিয়ে বিয়ে পণ্ড করার জন্য হামলা চালায়। এ সময় তারা বরযাত্রীদের লাঞ্ছিত করে। আমি এতে বাঁধা দেওয়ায় তারা আমার উপর চড়াও হয়। পরে শনিবার সকালে ইব্রাহিম ইবুর নেতৃত্বে কয়েকশ লোকজন আমার সমর্থকদের প্রায় ২০টি বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাট চালায়। এতে ২০/২৫ জন আহত হয়।

ইউপি সদস্য কামাল হোসেন জানান, আগামী ইউপি নির্বাচনে আমি চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় আমাকে হেয় করার জন্য চেয়ারম্যান জহির ও দাইয়ান মেম্বার তাদের লোকজন নিয়ে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে।

সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু নাছের জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ৬-৭টি বাড়িঘরে ভাঙচুর করা হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।  

সোনারগাঁও থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চত করে জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বারদী এলাকায় অতিরিক্ত র‌্যাব ও পুলিশ মোতায়েন করা রয়েছে। ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয়  ব্যাবস্থাগ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।          

শাহাদাৎ হোসেন/এআরএ/পিআর