ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

উল্লাপাড়া-উধুনিয়া আঞ্চলিক সড়কে দুর্ভোগের শেষ নেই

প্রকাশিত: ০১:৫৮ পিএম, ১৯ জুন ২০১৭

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া-উধুনিয়া আঞ্চলিক সড়কের কার্পেটিং উঠে গেছে অনেক আগেই। অনেক জায়গাতে  মাটির অংশও দেবে গেছে। বেশিরভাগ স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত।

এ সড়কের অধিকাংশজুড়েই যানবাহন চলাচল করা এখন রীতিমতো ব্যাপক ভোগান্তির। এমনকি, হেঁটে যাতায়াত করাই দুরূহ ব্যাপার হয়ে উঠেছে।

তবুও মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন যানবাহনে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এতে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।

আঞ্চলিক এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন কর্মজীবী মানুষ উপজেলা সদরে যাতায়াত করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে দুরাবস্থা বজায় থাকলেও সড়কটি সংস্কারে কারও সুদৃষ্টি পড়েনি।

Sirajgonj

ফলে গত প্রায় ১০ বছর ধরে সড়কের এ বেহাল দশা বজায় রয়েছে। কিন্তু এটি সংস্কারে কোনো উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের।

সম্প্রতি উল্লাপাড়া উপজেলার মোহনপুর বাজার থেকে উধুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার সড়ক ঘুরে দেখা গেলো এর বেহাল দশা।

সড়কটি ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও পানি জমে ডোবার মতো হয়ে আছে। দুই পাশ থেকে মাটি সরে গিয়ে কোনোমতে টিকে আছে জীর্ণ এ সড়কটি।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০০৪-২০০৫ অর্থবছরে চলনবিলের মাঝখান দিয়ে উল্লাপাড়া থেকে উধুনিয়া পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সড়ক নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের এক বছরের মাথায় ওই সড়কের মোহনপুর বাজারের পশ্চিম অংশ থেকে উধুনিয়া পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার অংশ বন্যার পানির তোড়ে ভেঙে যায়। এরপর আর সংস্কার না হওয়ায় ওই অংশের কার্পেটিং উঠে যায় ও বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়।

Sirajgonj

দিন দিন সড়কের অবস্থা খারাপ হওয়ায় বর্তমানে সড়কের ওই অংশে মোটরসাইকেল ছাড়া অন্য কোনো যান চলাচল করতে পারছে না। এছাড়া বর্ষা মৌসুমে এ সড়ক হেঁটে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

উল্লাপাড়ার সোনাতলা গ্রাম থেকে বস্তায় মালামাল নিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন উধুনিয়া গ্রামের অলি দাস। তিনি বললেন, ‘এবা করাই গত ১০ বছর বাবার বাড়িতে যাওয়া-আসা করি। রাস্তা খারাপ হের লাইগ্যা কোনো আত্মীয়-স্বজনও আসে না।’

একই গ্রামের নূরজাহান ও নাসিমা বেগম জানালেন, ‘এই রাস্তার লাইগ্যা আমাগো গ্রামের কোনো মেয়ের ভালো বিয়া হইতেছে না। ভালো পরিবারের লোকজন আসে না। এভাবে আর কত দিন চইলব আল্লাই জানে।’

মোহনপুর বাজারের ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন জানান, ২০১২ সালে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সড়কটি পরিদর্শন করেন। ওই সময় তিনি সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন ছয় মাসের মধ্যে মেরামত কাজ শুরু করতে। কিন্তু চার বছর অতিবাহিত হলেও কিছুই হয়নি।

Sirajgonj

মোটরসাইকেল চালক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সড়কটি দিয়ে চলাচল করতে হয়। অনেক সময় গর্তের মধ্যে মোটরসাইকেলের চাকা আটকে যায়।

উল্লাপাড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী আশরাফ আলী জাগো নিউজকে জানান, প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে উল্লাপাড়ার শ্যামলীপাড়া থেকে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার ময়দানদীঘি বাজার পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার নতুন রাস্তা নির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। সেটি ফেরত পাঠানো হয়েছে।

সড়ক বিভাগের বিশেষজ্ঞরা রাস্তাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে মতামত দেয়ার পর আবার নতুন করে প্রকল্প দেওয়া হবে। তবে ভেঙে ভেঙে অল্প টাকার মধ্যে সড়কটির উধুনিয়া পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার অংশ মেরামত করার জন্য প্রস্তাব পাঠানো হবে বলে তিনি জানান।

ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এসআর/আরআইপি