নীলফামারীর ৪টি ছিটমহলে প্রশাসনের নজরদারি
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণার পর নীলফামারীর ৪টি ছিটমহলবাসীর খোঁজখবর নিতে শুরু করেছে প্রশাসন। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাসহ কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নিয়মিত মনিটরিং করছে পুলিশ প্রশাসন।
ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসক জাকীর হোসেন, জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মারুফ হাসান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম, ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ রহুল আমিন খান, খগাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম লিথন, গয়াবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান শরীফ ইবনে ফয়সাল মুন, টেপাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিনসহ জনপ্রতিনিধিগণ কয়েক দফা ৪টি ছিটমহল পরিদর্শন করে বাসিন্দাদের সাথে কথা বলেন।
ডিমলা উপজেলার খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের ২৮ নম্বর ছিটমহল বড়খানকিবাড়ি বাসিন্দা মোফাজ্জল হোসেন জানায়, আমরা যারা ছিটমহলে বসবাস করতাম, তারা মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিল না। কোন সুযোগ সুবিধা পাওয়া তো দূরের কথা অপরাধ কর্মকাণ্ড ঘটলেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা পেতাম না। থানায় অভিযোগ দিলেও তারা আসতো না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণার পর প্রশাসনের লোকজন আমাদের খোঁজ খবর নিতে এসেছে। আমাদেরকে বলেছে কোন ঘটনা ঘটলে যেন দ্রুত প্রশাসনকে জানানো হয়। ।
ভারতের মন্ত্রিসভায় স্থল সীমান্ত চুক্তি অনুমোদন হওয়ায় ছিটমহলবাসীরা দ্রুত বিনিময় চুক্তি বাস্তবায়ন চায়। দীর্ঘ ৬৮ বছরে ছিটমহলবাসীদের উভয় দেশের মধ্যে নাগরিকত্বে কোন কিছুই ছিল না। ছিটমহলবাসীরা জানায়, এখানে বসবাসকারীরা জমি বিক্রি করতে পারেিা না, ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার জন্য স্কুলে ভর্তি করতে পারতো না।
এদিকে গত সোমবার (১১ মে) ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ছিটমহলবাসীদের যেন কোনো রকম সমস্যার সম্মুখীন না হন সেজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা পর কাজ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন।
টেপাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন বলেন, ছিটমহলে বসবাসকারীদের প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করতে না পারলেও পরোক্ষভাবে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সহযোগিতা করা হয়েছে।
ডিমলা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রহুল আমিন খান জাগোনিউজকে জানায়, ছিটমহলবাসীদের অবৈধ প্রলোভন দেখিয়ে কেউ যেন কোনো প্রকার অবৈধ সুবিধা ভোগ করতে না পারে সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দেয়া হচ্ছে।
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম জাগোনিউজকে বলেন, সরকারিভাবে ছিটমহলবাসীদের জরিপ কার্যক্রমের কোন নির্দেশনা আসেনি। আদমশুমারি ও জমির পরিমাপ নির্ণয়ের জরিপ কার্যক্রম সরকারী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত ছিটমহলগুলোতে বিশেষ দৃষ্টি দেয়া হচ্ছে।
নীলফামারীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মারুফ হাসান জাগো নিউজকে বলেন, ছিটমহলবাসীদের খোঁজ খবর রাখতে ইতিমধ্যে পুলিশ প্রশাসন কাজ শুরু করেছে। এলাকাগুলো পরিদর্শন করে যাতে কোনো প্রকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
নীলফামারীর জেলা প্রশাসক জাকির হোসেন জাগোনিউজকে বলেন, চুক্তি বাস্তবায়ন হলে ছিটমহলবাসীদের সার্বিক নিরাপত্তাসহ সকল সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হবে। ছিটমহলবাসীরা বাংলাদেশের নাগরিকের মত সকল সুযোগ ভোগ করতে পারবে।
জাহেদুল ইসলাম/এসএস/এমএস