ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

পুলিশের সেই ক্যাশিয়ার গ্রেফতার

প্রকাশিত: ০৩:৪২ পিএম, ২২ জুন ২০১৭

অবশেষে নারায়ণগঞ্জের আইনশৃংখলা বাহিনীর নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজির অভিযোগে ডিবি পুলিশ ও র‌্যাব’র কথিত ক্যাশিয়ার নুরুল ইসলাম ওরফে নুরুকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ডিবি। তিনি পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত কনস্টেবল হলেও তিনি নিজেকে ডিবি পুলিশ ও র‌্যাব’র ক্যাশিয়ার পরিচয় দিয়ে মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

বুধবার ফতুল্লার ইসদাইর এলাকা হতে ডিবি পুলিশ নুরুকে গ্রেফতার করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে বৃহস্পতিবার এক কোটি ৩২ লাখ টাকার ব্রিজ নির্মাণ করার মালামাল চুরির মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

এদিকে আইনশৃংখলা বাহিনীর কথিত ক্যাশিয়ার নুরুকে ডিবি পুলিশ গ্রেফতারের পর তাকে ছাড়িয়ে নিতে শহরের মাইক্রোস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন দপ্তরের লোকজন তদবির শুরু করেছেন। এছাড়া নুরুকে না ছাড়লে ডিবি পুলিশকে নানা কৌশলে হুমকি দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তারপরও নানা অপকর্মের হোতা নুরুকে ছাড়েনি পুলিশ। এদিকে নুরু গ্রেফতার হওয়ার পর শহরের ফুটপাত ও নিরীহ ব্যবসাসায়ীসহ অনেকের মাঝে ফিরে এসেছে স্বস্তি।

নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ডিবির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মফিজুল ইসলাম পিপিএম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বন্দর উপজেলার যুগিপাড়া এলাকা থেকে ভারতীয় কোম্পানি সিমপ্লেক্সের ইনফ্রাস্টাকচারের দুটি গোডাউন থেকে এক কোটি ৩২ লাখ টাকার ব্রিজ তৈরির মালামাল চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে নুরুল ইসলাম নুরুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বন্দর থানার দায়েরকৃত চুরি মামলাটি ডিবি পুলিশ তদন্ত করছেন। আর সেই মামলার রহস্য উদঘাটনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, নারায়ণগঞ্জ শহর ও শহরতলীতে পুলিশের নাম ভাঙিয়ে ব্যাপক চাঁদাবাজি করে বেড়াত এই সাবেক পুলিশ কনস্টেবল নুরুল ইসলাম নুরু। সেই সুবাধে নুরু ক্যাশিয়ার হিসেবে তিনি পরিচিতি পায়। তারপর শুরু হয় অপরাধীদের সঙ্গে যোগাযোগ। আর অপরাধীরা বুঝতে শুরু করে পুলিশ থেকে বাঁচতে হলে নুরুর সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে তা না হলে কোনো রক্ষা নাই। তাই নুরুকে ম্যানেজ করে ডাকাত, চোর, মাদক বিক্রেতা, পরিবহন সেক্টরসহ বিভিন্ন অপরাধীরা বুক ফুলিয়ে অপরাধ করে বেড়ায়। নুরু শুধু অপরাধীদের কাছ থেকে টাকা তুলতো না বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায় করতো। পুলিশের নামে চাঁদাবাজি করে নুরু আজ কোটিপতি। তার এ শহরে ৫/৬ টি হাইস গাড়ি, ৪ থেকে ৫টি বাস ও ফতুল্লা পঞ্চবটি এলাকায় বাড়ি রয়েছে। আর তার আয়ের উৎস নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।

শাহাদাত হোসেন/এমএএস/পিআর