ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ঈদের আমেজে নেত্রকোনায় নির্বাচনী দৌড়-ঝাঁপ

প্রকাশিত: ০৭:০২ এএম, ৩০ জুন ২০১৭

আগামী ১১তম জাতীয় সংসদ নিবার্চনকে সামনে রেখে নেত্রকোনায় বাড়ছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়-ঝাঁপ। গেল রমজান ও ঈদ পরবর্তী সময়ে গ্রামেগঞ্জে গণসংযোগ বেড়েছে। বেড়েছে স্থানীয়দের কদর।

নেত্রকোনার ৫টি সংসদীয় আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বিভিন্ন কৌশলে নিজ নিজ এলাকায় নিজেদের জন-সম্পৃক্ততা ও দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তারা ইতোমধ্যে নিজ নিজ নিবার্চনী এলাকায় ঈদের আগে ও পরে সুধি সমাবেশ, কর্মী সমাবেশ, সাধারণের মাঝে ঈদ সামগ্রি বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। আর স্থানীয় ভোটাররাও চায়ের স্টলে কিংবা গ্রাম্য হাট বাজারে করছেন প্রার্তীদের চুলচেরা বিশ্লেষণ।

মনোনয়ন প্রত্যাশীর দৌড়-ঝাঁপে অনেকটাই চাঙ্গা হয়ে উঠছেন ক্ষমতাশীন দলের নেতা-কর্মীরা। অপরদিকে বিএনপির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা অনেকটা নিভৃতে চালিয়ে যাচ্ছেন প্রচারণা। অন্যদিকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌড়ে নতুন মাত্রা যোগ করেছে আওয়ামী লীগ-বিএনপির একাধিক তরুণ মুখ। এ দৌড়ে পিছিয়ে নেই সরকার দলের বর্তমান ও সাবেক সংসদ সদস্যরাও। এ প্রচারণায় রয়েছেন হাফ ডজন কেন্দ্রীয় নেতাও।

নেত্রকোনা-১ (দূর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনে ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে বর্তমান সংসদ সদস্য ছবি বিশ্বাস, আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত সাবেক এমপি মোস্তাক আহমেদ রুহী, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও আদিবাসী নেতা উপাধ্যক্ষ রেমন্ড আরেং, জনপ্রিয় আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত জালাল উদ্দিন তালুকদারের ছেলে শাহ কুতুব উদ্দিন তালুকদার রুয়েল, লন্ডন প্রবাসী ও লন্ডন যুবলীগের প্রচার সম্পাদক শাহ মোহসিন।

আর এ আসন থেকে বিএনপির যারা আলোচনায় রয়েছেন তাদের মধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক ও খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত আইনজীবী ব্যরিস্টার কায়সার কামাল, জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত সাবেক এমপি ও বর্তমানে বিএনপি নেতা গোলাম রব্বানী, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম খান মাসুদ, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি এজমল হোসেন পাইলট ও বিএনপি নেতা সেলিম রেজা খান।

এছাড়াও এই আসনে বিএনপি থেকে নির্বাচিত সাবেক হুইপ বর্তমানে এলডিপির নেতা এমএ করীম আব্বাসি প্রার্থী হতে পারেন।

নেত্রকোনা-২ (নেত্রকোনা সদর-বারহাট্টা) সংসদীয় আসনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, জেলা সদরের এই আসনে প্রচারণায় রয়েছেন সবচেয়ে বেশি প্রার্থী। যাদের প্রচারণা লক্ষ্য করা যাচ্ছে তাদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান সাংসদ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত সাবেক এমপি আশরাফ আলী খান খসরু, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক আলহাজ্ব মতিয়র রহমান খান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা প্রশান্ত কুমার রায়, নেত্রকোনা পৌরসভার মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম খান, আওয়ামী লীগ নেতা লে. কর্নেল (অবঃ) আব্দুন নূর খান, নেত্রকোনা সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি শামছুর রহমান লিটন (ভিপি লিটন) আলোচনায় রয়েছেন।

এই আসনে বিএনপি থেকে যারা আলোচনায় রয়েছেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক এমপি আশরাফ উদ্দিন খান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তরুণ নেতা ডা. আনোয়ারুল হক, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ড. আরিফা জেসমিন নাহিন, বারহাট্টার সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মোস্তাফিজুর রহমান খান রিজভী, গেলো পৌরসভা নিবার্চনে বিএনপি থেকে দলীয়ভাবে মনোনীত জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এসএম মনিরুজ্জামান দুদু’ র নাম শোনা যাচ্ছে।

নেত্রকোনা-৩ (আটপাড়া-কেন্দুয়া) আসনে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত বর্তমান সংসদ সদস্য ইফতেখার উদ্দিন তালুকদার পিন্টু, আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য মঞ্জুর কাদের কোরাইশী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, আটপাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও আটপাড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব খায়রুল ইসলাম, বিশিষ্ট শিল্পপতি শামসুল কবীর খান, জেলা কৃষকলীগের সভাপতি কেশব রঞ্জন সরকার আলোচনায় রয়েছেন।

এই আসনে বিএনপি থেকে প্রচারণায় রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা রফিকুল ইসলাম হিলালী, কেন্দুয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন ভূইয়া দুলাল, জেলা বিএনপির নেতা ও সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডার, লেখক, সাংবাদিক হায়দার জাহান চৌধুরী, শিল্পপতি সৈয়দ আলমগীর হোসেন, প্রয়াত সংসদ সদস্য নূরুল আমীন তালুকদারের ছেলে রায়হান আমিন রনিও রয়েছেন আলোচনায়।

Netrokona

নেত্রকোনা-৪ (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুরী) আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য রেবেকা মমিন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা সফি আহমেদ, আইটি বিশেষজ্ঞ মোস্তাফা জব্বারের নাম শোনা যাচ্ছে।

অন্যদিকে বিএনপি থেকে নির্বাচিত সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দণ্ডপ্রাপ্ত কারাবন্দি লৎফুজ্জামান বাবরের সহধর্মিনী তাহমিনা জামান শ্রাবনী, বিএনপি নেতা জি.এস অ্যাড. মাসুদ রানা চৌধুরীর নাম শুনা যাচ্ছে। আর জাতীয় পার্টি থেকে এই আসনে অ্যাড. লিয়াকত আলী খানের নামও শোনা যাচ্ছে।

নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনে আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌড়ে রয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল বীরপ্রতিক, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন।

এ আসনে বিএনপি থেকে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের তালুকদার, সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম মুহাম্মাদ আলী’র স্ত্রী রাবেয়া আলী, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা শহিদুল্লাহ ইমরান।

গত ৫ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনার ৫টি সংসদীয় আসনের মধ্যে নেত্রকোনা-৪ (মদন- মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুরী) আসনে রেবেকা মমিন ও নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনে ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল বীরপ্রতিক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিবার্চিত হন।

বাকি ৩টি আসনের নিবার্চন হয়। তার মধ্যে নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দূর্গাপুর) আসনে আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয় কেন্দ্রীয় কৃষকলীগ নেতা ছবি বিশ্বাসকে। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দলীয় সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে নির্বাচনে অংশ নেন আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি মোস্তাক আহমেদ রুহী, আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত জালাল উদ্দিন তালুকদারের ছেলে শাহ কুতুব উদ্দিন তালুকদার রুয়েল।

নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসন থেকে দলীয় ভাবে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আরিফ খান জয়কে। এই আসনে বিদ্রোহী হিসেবে নিবার্চনে অংশ নিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা লে. কর্নেল অব: আব্দুন নূর খান।

আগামী জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ উদ্দিন খান জাগো নিউজকে জানান, যদি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নিবার্চন হয় ও দলীয় হাই কমান্ড থেকে যাকে মনোনয়ন দেয়া হবে তাকে বিজয়ী করে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার গঠন করাই হবে জেলা বিএনপির মূল লক্ষ্য। আর সেভাবেই কাজ করবে এ জেলার প্রতিটি নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা।

এ ব্যপারে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মতিয়র রহমান খান জাগো নিউজকে জানান, নেত্রকোনা আওয়ামী লীগে কেন্দ্রীয়ভাবে আগামী সাংসদ নিবার্চনে যাদেরকে মনোনীত করা হবে তাদেরকে নিয়েই কাজ করবেন দলের সকল নেতা কর্মীরা।

কামাল হোসাইন/এফএ/এমএস