ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

নেত্রকোনায় চার শিশু ধর্ষণের শিকার

প্রকাশিত: ০২:২১ পিএম, ০৪ জুলাই ২০১৭

নেত্রকোনায় গত তিনদিনে চার শিশুকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় এলাকাবাসী, ছাত্রী-শিক্ষক ও অভিভাবকদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

এলাকাবাসী ও থানা সূত্রে জানা যায়, গত রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সাতপাই রেলক্রসিং এলাকার রকিবুলের বখাটে ছেলে ইমন ১৩ বছরের শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুটিকে ঘরে একা পেয়ে ধর্ষণ করে। শিশুটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ধর্ষক ইমনকে(১৬) হাতে নাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

পরে আহত শিশুটিকে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মেডিকেল অফিসার ডা. সাইফুল বারী জানান, প্রাথমিক পরীক্ষায় যৌন নির্যাতনের আলামত পাওয়া গেছে।

নেত্রকোনা মডেল থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ আবু তাহের দেওয়ান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জাগো নিউজকে জানান, ধর্ষক থানায় আটক আছে। তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে আটপাড়া উপজেলার তেলিগাতী ইউনিয়নের টেংগা গ্রামের মো. সঞ্জু মিয়ার ছেলে জামাল উদ্দিন (২০) গত রোববার রাতে তারই প্রতিবেশী ১৩ বছরের এক মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ করে।

আটপাড়া থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মো. রমিজুল হক জাগো নিউজকে জানান, ছাত্রীটির বাবা ও মা বাড়িতে না থাকার সুযোগে জামাল উদ্দিন রোববার রাতে তাদের বাড়িতে যায়। এ সময় বাড়িতে থাকা ৭০ বছর বয়সী দাদা ও ১০ বছর বয়সী ছোট ভাইসহ ছাত্রীটিকে কৌশলে তিলের খাজার (মিষ্টি জাতীয় খাদ্য) সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দেয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই সবাই অচেতন হয়ে পড়লে জামাল ছাত্রীটিকে ধর্ষণ করে।

সোমবার বিকেল তিনটার দিকে পুলিশ খবর পাওয়ার পরপরই ভিকটিমকে উদ্ধার করে আটপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্যে ভর্তি করা হয়। পরে শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্যে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরো জানান, সোমবার বিকেল চারটার দিকে পুলিশ ঝটিকা অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত জামাল উদ্দিনকে আটক করেছে। এ ব্যাপারে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অপরদিকে মোহনগঞ্জ উপজেলার দেওতান গ্রামে গত শনিবার সন্ধায় প্রতিবেশি এক লম্পট কর্তৃক আট বছরের এক শিশু ধর্ষিত হয়েছে।

এলাকাবাসী ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মোহনগঞ্জের দেওতান গ্রামে আট বছরের শিশু মাইলোড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীকে বাড়িতে রেখে মা মোহনগঞ্জ গেলে তারই প্রতিবেশী মহব্বত আলীর ছেলে লিমন মিয়া (১৮) ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করে। পরে শিশুটির মা বাড়িতে এসে শিশুটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে কাতরাতে দেখে। পরে মোহনগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।

মোহনগঞ্জ থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মেজবাহ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জাগো নিউজকে জানান, ধর্ষককে গ্রেফতারের জোর চেষ্টা চলছে।

অন্যদিকে কলমাকান্দা উপজেলার সীমান্তবর্তী লেংগুড়া ইউনিয়নের জিগাতলা গ্রামে ৫ সন্তানের জনক কর্তৃক তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রী (১৩) ধর্ষিত হয়েছে।

পরিবার ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জিগাতলা গ্রামের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীটি গত রোববার রাতে তার নিজ বসত ঘরে দাদির সঙ্গে ঘুমাচ্ছিল। তারই প্রতিবেশী মৃত আবেদ আলীর ছেলে ৫ সন্তানের জনক মো. আব্দুস সালাম সু-কৌশলে বসত ঘরে ঢুকে শিশুটিকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।

বিষয়টি জানাজানি হলে ধর্ষিতার বাবা ওই রাতেই ন্যায় বিচারের আশায় কলমাকান্দা থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ ঝটিকা অভিযান চালিয়ে ধর্ষক সালামকে আটক করে।

অভিযুক্ত সালামের পরিবারের দাবি, শিশুটির বাবার সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন যাবৎ ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। এরই জের ধরে এই মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

কলমাকান্দা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মো. আবু বকর ছিদ্দিক ধর্ষণের সত্যতা স্বীকার করে জাগো নিউজকে জানান, ধর্ষিতার বাবা বাদী হয়ে থানায় সালামের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছে। ভিকটিমকে উদ্ধার করে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নেত্রকোনা জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সাংবাদিক আলপনা বেগম জাগো নিউজকে জানান, সমাজে এক ধরনের অস্থিরতার কারণে নারী ও শিশু নির্যাতন দিন দিন বেড়েই চলেছে। মাদক দ্রব্যের সহজলভ্যতা আর অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতির কারণের একের পর এক শিশু ধর্ষণের ঘটনা গটছে।

এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জাগো নিউজকে জানান, অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। ইতোমধ্যেই তিনজন ধর্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর ধর্ষককে গ্রেফতারের জোর চেষ্টা চলছে।

কামাল হোসাইন/এমএএস/এমএস