বঙ্গোপসাগরে আগামী ২ মাস সব ধরনের মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ
বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশ জল সীমায় আগামী ২ মাস ৫ দিন সকল প্রজাতির মাছ আহরণ নিষিদ্ধ করেছে মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়। মাছের সুষ্ঠু প্রজনন ও সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণের জন্য ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই এ ২ মাস ৫ দিন বঙ্গোপসাগরে সব ধরনের বাণিজ্যিক ট্রলারে মাছ আহরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সরকারের এই নির্দেশনার পর বাগেরহাটের প্রধান মৎস্য বন্দর কেবি বাজার এলাকায় ভৈরব নদীতে শত শত মাছ ধরার ট্রলার নোঙ্গর করেছে। ফলে উপকূলের হাজার হাজার জেলের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা।
উপকূলীয় মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি শেখ ইদ্রিস আলী জানান, সরকারের এই সিদ্ধান্তে উপকূলের কয়েক লাখ জেলে বেকার হয়ে পড়বে। এই ২ মাস ৫ দিন তাদের কিভাবে চলবে। তিনি দাবি জানান, সরকার যাতে অতিদ্রুত হতদরিদ্র এসব জেলেদের রক্ষায় জাটকা সংরক্ষণ মৌসুমের মত জেলে পরিবারদের বাঁচাতে খাদ্য সহয়তা প্রদান করে।
ইদ্রিস আলী আরো জানান, সরকারের এই সিদ্ধান্ত উপকূলীয় জেলেরা মেনে চলবে। তবে দীর্ঘ ২ মাস ৫ দিন সাগরে বাংলাদেশের জেলেরা মাছ ধরবে না তবে ভারত, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের জেলের দ্রুতগতির ট্রলারের এসে এই সুযোগে মৎস্য সম্পদ লুট করবে। আগে পরে এ ধরনের অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, দেশের মৎস্য সম্পদ বিদেশি জেলেরা যেন লুট করে না নেয় সে জন্য সরকারকে নজর দেয়ারও আহবান জানান তিনি। সামুদ্রিক অর্থনৈতিক এলাকায় মাছের সুষ্ঠু প্রজনন ও সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণের সরকারের এ সিদ্দান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও জানান এই মৎস্যজীবী নেতা ।
জানা গেছে, বাংলাদেশের ৭১০ কিলোমিটার র্দীঘ উপকূল রয়েছে। দেশের এই উপকূলীয় অঞ্চলের ১৬টি জেলার ১৩১টি উপজেলায় রয়েছে ১৪ হাজার ৫ শ’ ৭৮টি গ্রাম। এর বাইরেও অসংখ্য চর ও দ্বীপে রয়েছে জেলে বসতি। উপকূলের কয়েক লাখ জেলে পরিবারের জীবন-জীবিকা চলে ১৫ হাজারের অধিক ট্রলারে করে সামুদ্রিক মাছ আহরণ করে।
এ বিষয়ে মৎস্য প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বাগেরহাট-২ আসনের এমপি মীর শওকত আলী বাদশা বলেন, মৎস্য সম্পদ বাড়াতেই সরকার এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দেশের স্বার্থে সমুদ্রে মৎস্য সম্পদ বাড়াতে উপকূলের মৎস্যজীবীদের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, কার্ডধারী জেলেদের সরকার আগে থেকেই সুযোগ সুবিধা দিয়ে আসছে ।
মৎস্য অধিদফতর জানায়, বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশ জল সীমায় ২ মাস ৫ দিন ধরে সকল প্রজাতির মৎস্য ও চিংড়ি, লবস্টার, কাটল ফিসসহ সব ধরনের ক্রাস্টাশিয়ান্স আহরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সকল প্রকার সামুদ্রিক মৎস্য আহরণের বাণিজ্যিক ট্রলার এ আদেশ পালন না করলে তাদের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক মৎস্য অধ্যাদেশ ১৯৮৩ ও তদাধীন প্রণীত বিধিমালা অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শওকত আলী বাবু/এসএস/পিআর