ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি, গুলিবিদ্ধ ১

প্রকাশিত: ১০:১১ এএম, ২১ মে ২০১৫

বগুড়ায় আধিপত্য বিস্তার ও নির্মাণ সামগ্রী সরবরাহ নিয়ে বিরোধের জের ধরে স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এসময় মিশু (২০) নামের এক দলীয় কর্মী গুলিবিদ্ধ হন। তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর শহরের আলতাফুন নেছা খেলার মাঠ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। তবে শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক দাবি করেছেন ওই ঘটনার সঙ্গে দলীয় কোনো সম্পর্ক নেই। তারা ব্যক্তিগত স্বার্থে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, বগুড়া শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক নাসিমূল বারী নাসিমের সঙ্গে শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মহিদুল ইসলামের দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিলো। সম্প্রতি একটি মামলায় নাসিম জেলহাজতে আটক হওয়ার পর তার সহযোগী আরিফুল ইসলাম ওরফে টোকাই আরিফ ওই পক্ষের হাল ধরেন। শহরের জলেশ্বরীতলা এলাকায় বিভিন্ন ভবন নির্মাণ শুরু হলে উভয়পক্ষই সেসব স্থাপনায় নির্মাণ সামগ্রী সরবরাহে মরিয়া হয়ে ওঠে। এ নিয়ে গত ৬ মাসে অন্তত ১০ দফা তাদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

সর্বশেষ ওই এলাকার ইয়াকুবিয়া মোড়ে নির্মাণাধীন একটি ভবনে মালামাল সরবরাহ নিয়ে তাদের মধ্যে আবারও বিরোধ দেখা দেয়। ওই ঘটনার জের ধরে গত মঙ্গলবার আরিফ ও তার সহযোগিরা শহরের মালতিনগরে হোসেন নামে মহিদুলের এক কর্মীর বাড়িতে হামলা চালান। এ নিয়ে উত্তেজনার এক পর্যায়ে গত বুধবার সন্ধ্যায় উভয়পক্ষ সশস্ত্র অবস্থায় আলতাফুন নেছা খেলার মাঠ এলাকায় অবস্থান নেন। তাদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে গোলাগুলি শুরু হয়। এতে রহমান নগর এলাকার আব্দুল হামিদের ছেলে ও টোকাই আরিফের সহযোগী মিশু গুলিবিদ্ধ হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে উভয়পক্ষ এলাকা ত্যাগ করে। পরে মিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বগুড়া শহর ফাঁড়ির কর্মকর্তা (টিএসআই) মঞ্জুরুল হক ভূঁইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জাগো নিউজকে জানান, ওই দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিলো। আধিপত্য বিস্তার ও নির্মাণ সমাগ্রী সরবরাহ নিয়েই মূলতঃ এই বিরোধ। গত বুধবার তারা নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে লিপ্ত হন। ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করা গেছে। তাদের গ্রেফতারে পুলিশ তৎপরতা চালাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বগুড়া শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম বাপ্পীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, গুলিবিদ্ধ মিশু স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মী। তবে সেখানে যে ঘটনা ঘটেছে তার সঙ্গে দলের কোনই সম্পর্ক নেই। তারা এলাকায় প্রভাব বিস্তারসহ ব্যক্তিগত স্বার্থে সেখানে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। যেহেতু উভয়পক্ষেই দলীয় নেতা-কর্মী রয়েছে, তাই বিষয়টি নিয়ে দলীয় ফোরামে আলোচনা করে পরবর্তী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

লিমন বাসার/এমজেড/আরআইপি