চিফ হুইপের সফরসঙ্গী গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ধুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) আওয়ামী লীগ দলীয় চেয়ারম্যান ও ধুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আনিচুর রহমান ওরফে আবদুর রবের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি থাকা সত্ত্বেও পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজের সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি।
গতকাল শুক্রবার ধূলিয়া লঞ্চঘাট এলাকার নদীভাঙন পরিদর্শনে সময় চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজের সঙ্গে ছিলেন আনিচুর। তবে পুলিশ তাকে পলাতক বললেও প্রশাসনের উপস্থিতিতেই তিনি বিভিন্ন সভা-সেমিনারে যোগ দেন।
দলীয় একাধিক সূত্র এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। এছাড়া ওই নেতা নিজের ফেসবুক আইডিতে চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজের সঙ্গে থাকা ছবি পোস্ট করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ ধূলিয়া লঞ্চঘাট এলাকায় নদীভাঙন পরিদর্শনে যান। তখন তার সঙ্গে ছিলেন আনিচুর। এ সময় বাউফল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মো. লুৎফর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাসানুজ্জামান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব হাওলাদার, জেলা পরিষদের সদস্য মো. জহির উদ্দিন বাবর, ধুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হুমায়ন কবির ও আনিচুর রহমান রব।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, আনিচুরের নেতৃত্বে গত বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি ধুলিয়া ইউপির আলোকী চাঁদকাঠি ঝাউতলা খেয়াঘাট এলাকায় তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল জব্বারের ওপর হামলা চালানো হয়।
আবদুল জব্বারসহ তার তিন কর্মীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। এ ঘটনায় আবদুল জব্বার বাদী হয়ে আনিচুরকে প্রধান আসামি করে ৩৫ জনের নাম উল্লেখ করে পটুয়াখালী বিচারিক হাকিম আদালতে মামলা করেন।
এ মামলার তদন্ত করে পুলিশ ওই বছরের ১ জুলাই আনিচুরসহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। আদালত ওই অভিযোগপত্র গ্রহণ করে ৫ অক্টোবর আনিচুরের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আনিচুর একটি ফৌজদারি মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে। তবু তিনি দায়িত্বে বহাল আছেন। নিয়মিত কার্যালয়েও যাচ্ছেন। তাহলে তার জন্য কী আলাদা আইন?
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার বলেন, ক্ষমতাসীন দলের নেতা হওয়ায় গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকার পরও আনিচুরকে গ্রেফতার করছে না পুলিশ। তিনি প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন। আনিচুরের হুমকির কারণে আমিসহ আমার শতাধিক কর্মী এলাকায় যেতে পারছি না।
এদিকে ইউপি চেয়ারম্যান আনিচুর রহমান বলেন, চিফ হুইপের সঙ্গে ছিলাম। তবে আমার বিরুদ্ধে কোনো মামলা কিংবা গ্রেফতারি পরোয়ানা নেই।
বাউফল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আযম খান ফারুকী বলেন, চেয়ারম্যান আনিচুর অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে। তবে তিনি পলাতক, আত্মগোপনে আছেন।
মহিব্বুল্লাহ্ চৌধুরী/এএম/আরআইপি