ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

নীলফামারীতে টর্নেডোর আঘাতে পাঁচ সহস্রাধিক ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত

প্রকাশিত: ১২:৪৩ পিএম, ২৪ মে ২০১৫

মাত্র সাত মিনিটের টর্নেডোর আঘাতে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের মাগুরা ইউনিয়নের তিন সহস্রাধিক পরিবারের অন্তত পাঁচ সহস্রাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। শনিবার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে আঘাত হানা ওই টর্নেডোতে অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়ে। গাছপালা ও ঘর চাপা পড়ে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়াও কয়েক শত হেক্টর জমির উঠতি ফসল নষ্ট হয়েছে।

এদিকে ডিমলায় শনিবার রাতে ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নে কালবৈশাখী ঝড়ে দুই শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

মাগুরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাহার হোসেন শাহ দুলাল জানান, সাত মিনিট স্থায়ী এই টর্নেডোতে তার ইউনিয়নের কুটিপাড়া, কলেজ পাড়া, বানিয়াপাড়া, মিয়াপাড়া, বালাপাড়া, তেলিপাড়া ও কাজীপাড়াসহ অন্তত ১৫টি গ্রামের তিন হাজার পরিবারের অন্তত পাঁচ সহস্রাধিক কাঁচা-আধাপাকা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়। এসময় অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়ে। রাস্তার উপর গাছপালা উপড়ে পড়ায় যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়ে। এসময় গাছাপালা ও ঘরচাপা পড়ে অন্তত ১০ জন মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় ভাবে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে।

এসময় জমিতে থাকা ধান, ভুট্টা ও মরিচ ক্ষেত নষ্ট হয়। ক্ষতিগ্রস্তরা বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় পাঁচ কোটি টাকারও বেশি হবে। সকালে নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শওকত চৌধুরী, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রশিদুল ইসলাম ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরির্দশন করে সহায়তার আশ্বাস দেন।

ক্ষতিগ্রস্থ মিয়াপাড়া গ্রামের মাহমুদুল হোসেন (৪৫) জানান, রাতে মাত্র কয়েক মিনিটের টর্নেডোতে নিমিষেই লণ্ড ভণ্ড হয়ে যায় ইউনিয়নের অন্তত ১৫ টি গ্রাম। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মিয়াপাড়া ও কামাতপাড়া গ্রামটি। এই গ্রামের প্রত্যেকটি পরিবারের ঘর-বাড়ি, গাছপালা উপড়ে পড়ে। এসময় ঘর ও গাছ চাপা পড়ে অন্তত ৫ জন আহত হন।

রোববার সকালে কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান ঘটনাস্থল পরির্দশন করে জানান, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে। দুপুরে ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক পরিবারকে নগদ এক হাজার টাকা, ১০ কেজি চাল, এক কেজি চিড়া ও আড়াই`শ গ্রাম গুড় দেওয়া হয়েছে। তালিকা প্রণয়ন শেষ হলে ক্ষতিগ্রস্থদের পুনর্বাসনের জন্য জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে নগদ অর্থ ও ঢেউ টিন পাঠানো হবে।

অপরদিকে, ডিমলার ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের দুুদিয়াপাড়া গ্রামের কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ৫০টি পরিবারের ২ শতাধিক ঘড়বাড়ি, শতাধিক গাছপালা, বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান একরামুল হক চৌধুরী জানায়, শনিবার রাতের কালবৈশাখী ঝড়ে ৫০ টি পরিবারের ২ শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছে। এসময় শতাধিক গাছপালা ভেঙে পড়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নায়েমা তাবাচ্ছুম শাহ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করে ইউপি চেয়ারম্যানকে তার দফতরে জমা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে।

জাহেদুল ইসলাম/এসএস/পিআর