গাজীপুরে ট্রাকে নারী ধর্ষণের অভিযোগ
প্রতিকী ছবি
গাজীপুরে ট্রাকের মধ্যে এক নারীকে নেশা জাতীয় দ্রব্য খাইয়ে চালক কর্তৃক ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ওই নারী গাজীপুরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তার গ্রামের বাড়ি জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ থানার চিকাজানি এলাকায় বলে জানা গেছে। তার ঘরে ১১ বছরের একটি কন্যা ও ৮ বছরের এক ছেলে সন্তান রয়েছে। তিনি গ্রামের বাড়িতেই থাকে। তবে হাসপাতালের চিকিৎসকরা প্রাথমিকভাবে শারীরিক নির্যাতনের আলামত পেলেও ধর্ষণের কোনো আলামত পাননি বলে জানিয়েছেন।
গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নারী ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ওই নারী জানান, ঢাকার খিলগাঁও এলাকায় ডাক্তার দেখিয়ে শনিবার রাতে বাসায় ফেরার উদ্দেশ্যে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন স্বামী-স্ত্রী। কিন্তু, বাসে উঠতে না পেরে রাস্তার পাশেই দীর্ঘক্ষণ বসে ছিলেন তারা। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে এক ট্রাক ড্রাইভার এসে তাদের সামনে দাঁড়ায় এবং তাদের গন্তব্যে পৌঁছে দেয়ার প্রস্তাব দিলে স্বামী-স্ত্রী ওই ট্রাকে উঠে চালকের পাশেই বসেন। পরে গরমের মধ্যে পথে ট্রাকের চালক আমাদের ফানটা এনে খাওয়ায়। এর কিছু সময় পরই আমাদের ঘুম ঘুম (নেশা অবস্থা) ভাব দেখা দেয়। এসময় চালকের কথা মতো আমার স্বামী চালকের পেছনে উপরের সিটে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে ট্রাক থামিয়ে চালক গাড়িতে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে বলে দাবি করেন তিনি। এর আগে চালক তাকে অস্ত্রের মুখে মারধর করে গলায় কাপড় পেঁচিয়ে বেঁধে রেখেছিল। পরে তাদের সাথে থাকা মোবাইল ফোন, সাড়ে ৩ হাজার টাকা রেখে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরের তেলিপাড়া এলাকায় তাদের নামিয়ে দেয়। সেখান থেকে এলাকাবাসীর সহায়তায় উদ্ধার হয়ে তারা রোববার সকাল সোয়া ১০টার দিকে গাজীপুরের ওই হাসপাতালে ভর্তি হয়। এসময়ও তাদের মধ্যে নেশার ভাব কাটেনি।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক আব্দুস সালাম সরকার জানান, তাদের মধ্যে রোববার দুপুর পর্যন্ত নেশাভাব লক্ষ্য করা গেছে। একেকবার একেক কথা বলেন। তাদের কথার মধ্যে অসংলগ্নতা দেখা গেছে। ওই নারী নিজে ধর্ষণের শিকার বলে দাবি করলেও প্রাথমিকভাবে তার আলামত পাওয়া যায়নি। তবে তার গায়ের বিভিন্নস্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পরীক্ষার পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। এরআগে ধর্ষণের ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করা যাচ্ছে না।
তিনি আরো জানান, ওই নারীর স্বামীর পকেট থেকে ২০০৭ সালে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ইস্যূ করা একটি রিকশা/ভ্যান চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স ও একই নামে ইস্যূ করা ঢাকার মিরপুর ১৪নং সেকশনের ভিশন এ্যাপারেলস প্রাইভেট লিমিটেড নামের পোশাক কারখানায় ‘আয়রন ম্যান’র পরিচয়পত্র পাওয়া গেছে। তাতে স্থানীয় ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে ঢাকার তিলপাপাড়া।
জয়রেদবপুর থানা পুলিশের ওসি খন্দকার রেজাউল হাসান রেজা জানান, ঘটনাটি শুনেছন। বিষয়টি দেখার জন্য হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
আমিনুল ইসলাম/এমএএস/আরআইপি