এমপিকে মঞ্চে বসিয়ে ক্ষোভ ঝাড়লেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা
বগুড়ার (শেরপুর-ধুনট) আসনের সংসদ সদস্য হাবিবর রহমানের কারণে সংগঠন তছনছ হয়ে গেছে। ক্ষতবিক্ষত হয়েছে ধুনট আওয়ামী লীগ।
বিএনপির শাসনামলে ২৯ মামলার বাদী ছিল তার শ্যালক বিএনপি নেতা সাবেক পৌর প্রশাসক সেলিম। এসব মামলার সবগুলোই করা হয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
অথচ এমপির শ্যালক হওয়ার সুবাদে সেই বিএনপি নেতার দাপটে এখনও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কোণঠাসা। বিএনপি-জামায়াতের লোকজনকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি দিয়েছেন এমপি।
সংগঠন দুর্বল করে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করার দলীয় সাংসদের বিরুদ্ধে টিম গঠন করে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান বগুড়ার ধুনট উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক টিআই নুরুন্নবী তারেক।
মঙ্গলবার দুপুরে বগুড়া শহীদ টিটু মিলনায়তনে জেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় এসব অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় মঞ্চে বসেছিলেন সংসদ সদস্য আলহাজ হাবিবর রহমান। সভা শেষে হবিবর রহমান জানান, এসব তার বিরুদ্ধে অপ্রচার। দলবিরোধী কোনো কাজ তিনি করেননি।
মঙ্গলবার দুপুরে বগুড়া শহরের শহীদ টিটু মিলনায়তনে জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় এভাবে এমপির ওপর ক্ষোভ ঝাড়লেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি। বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আলহাজ মমতাজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মজনুর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. মকবুল হোসেন, বগুড়া পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক রফি নেওয়াজ খান রবিন, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু সুফিয়ান সফিক, ধুনট উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক টিআই নুরুন্নবী তারেক, সারিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহাদারা মান্নান, আদমদীঘি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনছার আলী মৃধা, শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুল হক, নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহেদুর রহমান, গাবতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ এইচ আজম খান।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা সাহসী নেত্রী, তিনি আমাদের পথপ্রদর্শক। তার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। শেখ হাসিনা মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছেন, দেশে গণতন্ত্র সুসংহত ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন।
সভায় জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সম্পাদকের সদস্য পদ নবায়ন ও কয়েকজনকে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে সদস্য নবায়ন ও সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় নেতারা। সেই সঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের ওয়েবসাইট উদ্বোধন করা হয়।
লিমন বাসার/এএম/আরআইপি