ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

সাতক্ষীরায় স্বামী হত্যায় স্ত্রী ও প্রেমিকের যাবজ্জীবন

জেলা প্রতিনিধি | সাতক্ষীরা-শ্যামনগর | প্রকাশিত: ১১:৫৩ এএম, ১৯ জুলাই ২০১৭

পরকীয়া প্রেমের কারণে জাকির হোসেন মুকুল নামে এক যুবককে নৃশংসভাবে নির্যাতনের পর শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে নিহতের স্ত্রী ও তার প্রেমিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-২ আদালতের বিচারক মো. আব্দুল হামিদ এক জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- নিহত জাকির হোসেন মুকুলের স্ত্রী জেসমিন সুলতানা (৩৪) এবং তার পরকীয়া প্রেমিক সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গৌরীপুর ধাপুয়ার চক গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে পরানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মনিরুজ্জামান মুকুল (৪২)।

রায়ে জেসমিন সুলতানার যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়াও তার প্রেমিক মনিরুজ্জামান মুকুলের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ জাগো নিউজকে রায়ের বিষয়টি করেছেন। 

মামলার বিবরণে জানা যায়, শ্যামনগর উপজেলার গৌরীপুর গ্রামের কেরামত আলী গাজীর ছেলে জাকির হোসেন মুকুল উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসে মোহরার হিসেবে কাজ করতেন। বাড়ির পাশে কুলটুপি মৌজায় তার সাড়ে তিন বিঘার একটি মাছের ঘের ছিল। একই এলাকার জোহর আলী তার ঘের পাহারা দিতেন। বন্ধুত্বের সুবাদে জাকিরের স্ত্রী জেসমিন সুলতানার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলে পরানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মনিরুজ্জামান মুকুল। বেশ কয়েক মাস অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার পর মনিরুজ্জামান মুকুলকে বিয়ের জন্য বলে জেসমিন সুলতানা। এক স্ত্রীর দেই স্বামী থাকতে পারে না জেসমিনের এমন বক্তব্যের কারণে মনিরুজ্জামান মুকুল জাকির হোসেন মুকুলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

মামলার বিবরণে আরও জানা যায়, ২০০৭ সালের ৮ জুন রাত ৯টার দিকে জাকির হোসেন মুকুল বাড়ি থেকে ভাত খেয়ে নিজের মাছের ঘেরে যান। সেখানে পাহারাদার জোহর আলীকে ঘেরের বাসায় রেখে তিনি বাড়িতে ফিরে আসছিলেন। পথিমধ্যে মঠবাড়ির শহীদ মিস্ত্রীর মাছের ঘেরের উত্তর-পশ্চিম পাশে রাত পৌনে ১০টার দিকে তাকে নির্যাতন চালিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহ কাদার মধ্যে ফেলে রাখা হয়। গভীর রাতে জনৈক জবেদ আলী মিস্ত্রী ও ফকির মিস্ত্রীর ডাক চিৎকারে লোকজন জাকির হোসেন মুকুলের মরদেহ উদ্ধার করে। 

এ ঘটনায় নিহতের বাবা কেরামত আলী গাজী বাদী হয়ে কারও নাম উল্লেখ না করে পরদিন শ্যামনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে পুলিশ জেসমিন সুলতানাকে গ্রেফতার করে। জেসমিন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হেমায়েত হোসেনের কাছে স্বামী হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়, জাকির হোসেন মুকুলকে হত্যার জন্য ২০ হাজার টাকা দিয়ে ভাড়াটে খুনি হিসেবে জবেদ আলী, ওসমান, ওমর আলী ও রেজাউল ইসলামকে নিয়োগ করে মনিরুজ্জামান মুকুল বলে 

মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা শ্যামনগর থানার উপ-পরিদর্শক মো. হযরত আলী ২০০৭ সালের ২৪ নভেম্বর সাজাপ্রাপ্ত দুইজনসহ শ্যামনগর উপজেলার গৌরীপুর গ্রামের ফকির আহম্মেদ মিস্ত্রীর ছেলে জবেদ আলী মিস্ত্রী (৪৬), কালাম মিস্ত্রীর ছেলে ওসমান মিস্ত্রী (৫০), তার ভাই ওমর ফারুক মিস্ত্রী (৫৮), সোলায়মান মিস্ত্রীর ছেলে রেজাউল ইসলাম (৪২), গনি গাজীর ছেলে মনিরুল ইসলাম (৩৫) ও কালীগঞ্জ উপজেলার খড়িতলা গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে শহীদ সরদারের (৫০) নাম উল্লেখ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার নথি ও ১৩ জন সাক্ষীর জবানবন্দি পর্যালোচনা শেষে বিচারক দুইজনকে দোষী সাব্যস্ত করে আজ এ রায় দেন। 

মামলায় নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় জবেদ আলী মিস্ত্রী, ওসমান মিস্ত্রী, ফারুক মিস্ত্রী, রেজাউল ইসলাম, মনিরুল ইসলাম ও শহীদ সরদারকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়। সাজাপ্রাপ্ত আসামীরা কাঠগড়ায় হাজির ছিলেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট সৈয়দ জিয়াউর রহমান জিয়া। মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ, অ্যাডভোকেট সৈয়দ ইফতেখার আলী, অ্যাডভোকেট আবু বক্কর ছিদ্দিক ও অ্যাডভোকেট এস এম হায়দার আলী।

আকরামুল ইসলাম/আরএআর/পিআর