ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ধুকে ধুকে চলছে ঝিনাইদহের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলো

জেলা প্রতিনিধি | ঝিনাইদহ | প্রকাশিত: ০৫:৪৫ এএম, ২০ জুলাই ২০১৭

ঝিনাইদহের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলো নানা সমস্যায় জর্জোরিত। অভিযোগ রয়েছে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা আসেন না নিয়মিত, কোনো কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে দিনের পর দিন। দু-একটি খোলা থাকলেও সেখান থেকে মেলে না কোনো ওষুধ। এতে করে সঠিক চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গ্রামের হতদরিদ্র মানুষরা। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঝিনাইদহের শৈলকুপার আবাইপুর ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র যেটি ইউনিয়নের মানুষের চিকিৎসা সেবার একমাত্র অবলম্বন। অথচ এই কেন্দ্রটি সপ্তাহের বেশিরভাগ সময় থাকে বন্ধ। খোলা থাকলেও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অফিস করেন না দায়িত্বপ্রাপ্তরা। ফলে সেবা নিতে এসে দুর্ভোগ পোহাতে হয় মানুষকে। এরকম চিত্র জেলার অধিকাংশ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রগুলোর। 

Jhenidah

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় ৬৭টি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র রয়েছে, এর মধ্যে ১৩টি স্বাস্থ্য বিভাগের অধীন এবং ৫৮টি পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের অধীন। পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের অধীন কেন্দ্রগুলো চলে শুধু নারীদের টিকাদান কার্যক্রম। কেন্দ্রগুলোতে একজন করে এমবিবিএস ডাক্তার পদায়ন থাকলেও তারা ডেপুটেশনে নিজেদের সুবিধা মত জায়গায় কাজ করছেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত একমাত্র চিকিৎসকরাও (ছেকমো) ঠিকমত আসেন না অফিসে। 

অফিস সূত্রে আরও জানা যায়, স্বাস্থ্য বিভাগের অধীন কেন্দ্রগুলোতে একজন সেকমো, একজন ফার্মাসিস্ট ও একজন নিরাপত্তা প্রহরি/নৈশ প্রহরির পদ রয়েছে। পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের অধীন কেন্দ্রগুলোতে ১ জন সেকমো, ২ জন এফডাব্লিউভি, ১ জন আয়া এবং ১ জন নিরাপত্তা প্রহরি থাকার নিয়ম রয়েছে।

Jhenidah

হাটগোপালপুরের ইসলাম মিয়া জানান, বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার দায়িত্ব পালনের কারণেও দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে থাকেন না তারা, এমনকি দায়িত্বপ্রাপ্ত ফার্মাসিস্টরাও থাকেন না। তবে সরকারি ওষুধ বাইরে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ যেমন রয়েছে তেমনি নারী রোগীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়াসহ দুর্ব্যবহারেরও অভিযোগ রয়েছে ছেকমোদের বিরুদ্ধে। অনেক সময় নিরাপত্তা প্রহরীরা অফিস খুলে বসে থাকেন। 

শৈলকুপা উপজেলার আবাইপুর গ্রামের মরিয়ম বেগম জানান, অধিকাংশ সময়ই অফিস বন্ধ থাকে। আমাদের ওষুধ দেয় না, ডাক্তার আসে না। ফলে ফিরে ফিরে যেতে হয়।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হরিশংকরপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মাসুম জানান, চিকিৎসকরা ডেপুটেশনে নিজেদের ইচ্ছামত যেখান সেখানে চলে যায়। দীর্ঘদিন ধরে নেই ওষুধ সরবরাহ। ফলে সেবা নিতে এসে ডাক্তার ও ওষুধ না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে রোগীদের। জেলা কর্মকর্তাদের সঠিক নজরদারির অভাবেই এমনটি ঘটছে বলে মনে করেন তিনি।

Jhenidah

পরিবার পরিকল্পনার ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক ডা. জাহিদ আহমেদ জানান, সরকারি কাজে বাইরে ডিউটি থাকলে চিকিৎসা সেবায় সমস্যা হতেই পারে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. রাশেদা সুলতানা জানান, দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসককে অন্য কোথাও যেতে হলে অন্য একজনকে দায়িত্ব দিয়ে যেতে হবে। একসঙ্গে সব কাজই করতে হবে, কোনোটাকে বাদ দিয়ে নয়। 

আহমেদ নাসিম আনসারী/এফএ/পিআর

আরও পড়ুন