শিশু পাচার ও ধর্ষণের মামলায় একজনের যাবজ্জীবন
নড়াইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক মো. আবুল বাশার মুন্সী শিশু পাচার ও ধর্ষণের অভিযোগে মো. রিপন শেখ নামের একজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে বিচারক এ রায় দেন।
সাজাপ্রাপ্ত রিপন শেখ জেলার লোহাগড়া উপজেলার রাজুপুর গ্রামের মৃত কুতুব উদ্দিন শেখের ছেলে। বর্তমানে সে পলাতক রয়েছে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, ২০১১ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টায় আসামি রিপন শেখ নড়াইল সদর উপজেলার ধুড়িয়া গ্রামের নবম শ্রেণি পড়ুয়া এক ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে প্রতারণামূলকভাবে ফুসলিয়ে লোহাগড়া উপজেলার কচুবাড়িয়া গ্রামে ম্যারেজ রেজিষ্ট্রারের কাছে যায়। সেখানে নিয়ে গিয়ে একটি সবুজ ফরমে স্বাক্ষর করে কালেমা পড়ে তাদের বিয়ে হয়।
পরে আসামি রিপন শেখ ওই সময় তাকে লোহাগড়া নিয়ে যায়। ওই দিন রাতেই ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে তাকে বেনাপোলে নিয়ে আটকে রাখে এবং ধর্ষণ করে। পাচারের বিষয়টি বুঝতে পেরে সে ২০১১ সালের ২৭ সেপ্টেম্ববর রাতে কৌশলে পালিয়ে অন্য একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয়। সেখান থেকে বাড়িতে এসে সে তার বাবা-মাকে বিষয়টি জানায়।
এ ঘটনায় ২০১১ সালের ৫ অক্টোবর মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে রিপন শেখকে আসামি করে নড়াইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে মামলা করেন। এ ঘটনায় আদালত ৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামি রিপন শেখের বিরুদ্ধে আনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ সংশোধনী এবং ২০০৩ এর ৬(১)/৯(১) ধারার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত হওয়ায় বিচারক আসামি মো. রিপন শেখকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন।
হাফিজুল নিলু/এসএস/পিআর